Monday, December 16, 2019
Home Blog

নাগরিক সংশোধন জারি হতেই বাংলাদেশে পালাচ্ছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা! মালামাল হচ্ছে দালালেরা

0

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি নিয়ে যখন প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে সীমান্তের পাচারকারীদের মধ্যে। বস্তুত, রাজ্যের উত্তর 24 পরগনার বনগাঁ এবং বসিরহাটের বাংলাদেশ সীমান্তে এখনও সম্পূর্ণভাবে কাঁটাতারের বেড়া পড়েনি। যার ফলে সীমান্তবর্তী জায়গা দিয়ে রমরমিয়ে চলছে পাচারের কাজ। ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব আইন পাস হয়ে যাওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে চলে যাওয়ার হিড়িক দেখা দিতে শুরু করেছে।

অভিযোগ, এর ফলে মানুষের পাচারের দর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে।  সিন্ডিকেটের দুই প্রান্তের যোগাযোগ মোবাইলের মাধ্যমে সক্রিয় হচ্ছে। জানা যায়, সীমান্তবর্তী বসতির মধ্যে বাংলাদেশীদের অস্থায়ীভাবে রাখা হলে মধ্যরাত্রে কিংবা ভোর রাত্রিতে তাদের পারাপার করিয়ে দেওয়া হয়।

বর্তমানে সেই প্রবণতা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একাংশ বলছেন, হাজার হাজার বাংলাদেশি ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে চলে এসেছিল। কিন্তু সংসদে নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার পরে তারা এখন বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় এসে রাত্রিকালীন আস্তানা গেড়ে পরিস্থিতি বুঝে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে পাচারকারীদের দল।

সূত্রের খবর, বাগদা, বনগাঁ এবং বসিরহাট মহকুমায় এই কাজ এখন চরম পরিমানে চলছে। যেখানে দালালরা একরাতে দশজনকে পার করলেই নগদ 50 হাজার টাকা নিজেদের পকেটে ঢুকিয়ে নিচ্ছেন। জানা গেছে, কিছুদিন আগে পর্যন্ত মাথাপিছু পারাপারের দড় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা থাকলেও, এখন তার অঙ্ক অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তাহলে কি সীমান্তে ঠিকমত নজরদারি চালানো হচ্ছে না?

আর তার কারণেই কি এই পাচারকারী দলের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে? এদিন এই প্রসঙ্গে বনগাঁ এবং বসিরহাট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে এই ব্যাপারে বিএসএফের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্তে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। আর সেই কারণেই প্রতিদিন অবৈধভাবে দেশে ঢোকা বা বের হতে চাওয়া বাংলাদেশিদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে যে যাই বলুন না কেন, যেভাবে নাগরিকত্ব আইন পাস হয়ে যাওয়ার পর সীমান্তে পাচারকারীদের সক্রিয়তা বাড়ছে, তাতে এই প্রবণতা বন্ধ করতে সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতে খামতি দেখছেন অনেকেই।

CAA- এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে তৃণমূলের মঞ্চেই হামলা, অবাক শাসক দল!

বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ  স্বাভাবিক, এবার নাগরিকত্ব বিল নিয়ে বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ল খোদ শাসক দল। একেবারে তৃণমূলের মঞ্চ ভেঙে দিল প্রতিবাদকারীরা। বীরভূমে উন্মত্ত জনতার আচরণ দেখে হতবাক খোদ শাসক দলের নেতারা।

বিক্ষোভ মঞ্চের সামনে টায়ার জ্বালাতেই সতর্ক করেছিল শাসক দলের লোকজন। কিন্তু কথা শোনা তো দূর, উল্টে তৃণমূলের মঞ্চই ভেঙে দেয় উত্তেজিত জনতা। এদিন কাঁটাগড়িয়া মোড়ে  তৃণমূলের ঘোষিত সভা ছিল। সভা শুরু হতেই সভামঞ্চের সামনে উন্মত্ত জনতা জাতীয় সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করে।  এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সভা বন্ধ করে দেয়। পরে উন্মত্ত জনতা সভা মঞ্চে উঠে জেলা তৃণমূল সম্পাদককে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়। মঞ্চ ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা।

পরে নাগরিকত্ব ও এনআরসি বিলের প্রতিবাদে উত্তাল চেহারা নেয় বীরভূমের লোহাপুর স্টেশন।  এদিন বিক্ষোভকারীরা লোহাপুর রেল স্টেশনে লুঠপাট চালায় বলে অভিযোগ। সঙ্গে আগুন লাগানো হয় স্টেশন চত্বরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,রবিবার দুপুর দুটো নাগাদ কাঁটাগড়িয়া মোড়ে  টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় প্রতিবাদকারীরা। রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় নাজেহাল অবস্থা হয় সাধারণ মানুষের।

লোহাপুর স্টেশনের বুকিং সুপারভাইজার শ্যামল সাউ বলেন, তিন দিনের ৩৫ হাজার টাকা নগদ লুঠ করে পালায় বিক্ষোভকারীরা। স্টেশনের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে রেলের সম্পত্তি বলে আর কিছু বাকি নেই। তবে শুধু স্টেশন নয় রেল লাইনেও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। ইতিমধ্য়েই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে সব ঘটনা জানানো হয়েছে। যার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।  এ বিষয়ে জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের ঘোষিত সভা ছিল কাঁটাগড়িয়া মোড়ে। তার আগে জাতীয় সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করে কেউ কেউ। সেখানে কিছু বহিরাগত লোক ঢুকে পড়ে। যার জেরে ওই রকম একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে তেমন কিছু ঘটে নি।

পূর্ব রেলওয়ে জন সংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তীকে এ বিষয়ে ফোন করা হলে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায় বলেন,  তৃণমূলের মিছিল থেকে উন্মত্ত জনতা মিছিল করে এগোতে থাকে। তারা কোটাসুর বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে ভাঙচুর চালায়। অন্যদিকে, জেলা জুড়ে তৃণমূলের শান্তিপূর্ণ মিছিল চলে। রামপুরহাট, বোলপুর, সিউড়ি, নলহাটি সর্বত্র শাসকদল এন আর সি ও ক্যাবের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মিছিল করে।

মমতার পুলিশের সামনেই পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে বিজেপির পার্টি অফিসে হামলা দুষ্কৃতীদের

পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই বিজেপির পার্টি অফিসে হামলা চালালো সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধীরা। অভিযোগ, মিছিলের সামনে পুলিশ থাকলেও তারা ছিল নিষ্ক্রিয়। পুলিশের সামনেই হামলাকারীরা বিজেপির পার্টি অফিসে ভাঙ্গচুর করে দলীয় পতাকা পুড়িয়ে দেয়। জাতীয় পতাকা মাটিতে ফেলে তার ওপর চলল দাপাদাপি। পরে তাড়া খেয়ে পালালো আক্রমণকারীরা। এই ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ বারাসাত শহরের প্রাণকেন্দ্র চাপাডালি মোড় থেকে শ’দুয়েক বিক্ষোভকারী কালো পতাকা নিয়ে মিছিল শুরু করে। এই মিছিল এগিয়ে যায় কাজীপাড়ার দিকে। সরোজ পার্কের কাছে পৌঁছতেই রাস্তার পাশে থাকা বিজেপির পার্টি অফিসে হামলা করে। তারা পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর করে বিজেপির দলীয় পতাকা পুড়িয়ে দেয়। এরপর পার্টি অফিসে থাকায় জাতীয় পতাকা মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর, পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে তার উপরে চলে দাপাদাপি।

আচমকা এই হামলায় এলাকার মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তারা দরজা-জানলা বন্ধ করে দেন, গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। আশেপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে হামলাকারীরা একটি ধর্মীয় স্থানের দিকে এগোতে থাকে। আর সেই মুহূর্তেই পাল্টে যায় চিত্রটা।এতক্ষণ যে মানুষ ভয়ে আতঙ্কে ছিল, তারাই এবার হঠাৎ বেড়িয়ে এসে পাল্টা তাড়া করে আক্রমণকারীদের। অভিযোগ সেই সময় পুলিশ ছিল কার্যত দর্শকের ভূমিকায়। কিন্তু এলাকার মানুষের তাড়া খেয়ে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশেপাশের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়ে।

এরপর এলাকার ক্ষুব্ধ মানুষ টাকি রোড অবরোধ করে।প্রায় এক ঘন্টা ধরে এই অবরোধ চলে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরাসরি বারাসাত থানার আধিকারিকের কাছে তারা জানতে চান, আপনাদের উপস্থিতিতে কী করে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে হামলা হল। এটা তো আন্দোলন নয় এটাতো গুন্ডাবাজি। এই প্রশ্নের মুখে পুলিশ আধিকারিক তখন কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। তিনি যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন, সব রাজনৈতিক দল যদি একসঙ্গে কর্মসূচি নেয়, তাহলে আমরা কী করব। আমাদের দিক থেকে কোনো গাফিলতি নেই। তারা এরপর বিষয়টি দেখবেন বললে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয় এবং তারা অবরোধ তুলে নেন।

স্বপন মন্ডল নামে এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আমরা আতঙ্কিত। পুলিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আমাদের বিশ্বাস নেই। ভোট ধরে রাখতে পুলিশকে এরা ফুটো জগন্নাথ করে রেখেছে। আর সেই সুযোগ নিয়ে হামলা চালাচ্ছে। আমরা তাই পথে নামতে পথে নামতে বাধ্য হয়েছি।

এতক্ষণ হামলাকারীরা ভয়ে বিভিন্ন গলিতে লুকিয়ে ছিল।পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতেই হামলাকারীরা বেরোতে শুরু করে। তাদের দেখে ফের তাড়া করে এলাকার মানুষ। একদিকে এলাকার মানুষ আর একদিকে পুলিশ এই দুইয়ের মাঝে পড়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে ছোটাছুটি করে ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়।

ভিডিওঃ জাতীয় সম্পত্তি নষ্ট করবেন না প্রয়োজনে বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিনঃ পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী

সংবিধান আমাদের মৌলিক অধিকার দিয়েছে তাই সংবিধান বিরোধী কোনো কাজ করতে আমরা রাজী নই। সবার ওপরে আমাদের দেশ ও সংবিধান তাই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রনয়ন হলে দেশ যেমন নষ্ট হবে ঠিক তেমনি দেশের সংবিধানও নষ্ট হবে। তাই দলমত নির্বিশেষে, কোনো রাজনৈতিক রং না দেখে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করার আহ্বান জানালেন পীরজাদা আবাস সিদ্দিকী। তাই ঐক্য মঞ্চ থেকে জাগরন মঞ্চ সকলকে এক হয়ে বিরোধিতায় নামার কথাও বললেন তিনি। তিনি এও বলেন যে আমাদের ট্যাক্সের টাকায় করা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট না করে, নেতা নেত্রীদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে মোদী সরকারের বিরোধিতা করে, মোদী সরকার আসলে ব্রিটিশদের মতো শাসন করছে বলেও অভিযোগ তোলেন সিদ্দিকি।পাশাপাশি ব্রিটিশদের অ্যাজেন্ডায় চলে দেশকে ভাগ করতে চাইছে মোদী সরকার। তবে এখানেই থেমে থাকেননি কেন্দ্রীয় সরকার বাংলায় লঠতরাজ চালানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

অন্যদিকে উদ্বাস্তু প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পীরজাদা সিদ্দিকি বলেন বাস্তু ও উদ্বাস্তু দের চেনার কোনো উপায় নেই। কারণ, এমন অনেকেই আছেন যারা কমদিনের জন্য এদেশে এসে নিজেদের থাকার একটা নথি বের করেছেন। অনেকেই আবার দীর্ঘদিন থেকে এদেশে এসে বাস করেও নিজেদের নাগরিকত্বের পরিচয় পত্র বার করতে পারেননি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি মুখ্যমন্ত্রী যদি বিধানসভায় থাকার বিল পাশ করতে পারেন সেক্ষেত্রে রাজ্যকে ঠান্ডা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

এমনকি দিদির পাশে দাঁড়াতে চান বলেও জানিয়েছেন। এমনকি প্রেস কনফারেন্স করে যদি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে বাংলার মানুষকে থাকার বন্দোবস্ত করে দেন সেক্ষেত্রে তাঁরা সকলেই সাহায্য করবেন বলে জানান। তবে মুখ্যমন্ত্রী ভূমিকাকে দুমুখো সাপের সঙ্গেও তুলনা করেছেন তিনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই থেকেছেন। অন্যদিকে আবার মোদী ও শাহের বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। তাঁদের জেলে পাঠানো উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

VIDEO: লাইন উপড়ে ফেলতে চাইছিল উপদ্রবিরা, শেষে লাইনের পাত নিজেদের গায়ে পড়ে বাদ গেলো হাত-পা!

অসম থেকে শুরু আগুন জ্বলা, আর সেই আগুনে ঘি ঢালল বাংলা। তিনদিন ধরে গোটা বাংলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অশান্তির আবহাওয়া। মানুষ ঘর থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। বহু মানুষ বাংলার বাইরে গিয়ে আটকে পড়েছেন, কারণ বেশিরভাগ দূরপাল্লার ট্রেন বন্ধ ফিরতে পারছেনা তাঁরা। আর অনেকেই যারা এই কদিনে রাজ্যের বাইরে ঘুরতে অথবা কোন কাজে যেতে চাইছিল, তাঁরা এখন বাড়িতে বসে অপেক্ষা করছে কবে শান্ত হবে বাংলা। ডিসেম্বর মাস মানেই ভ্রমণের সিজন। আর ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি এই সময় গোটা দেশ চষে বেরান। কিন্তু এবার বাধ সেধেছে নাগরিকতা আইন নিয়ে চলা উগ্র প্রতিবাদ।

সরকার থেকে যতই হুঁশিয়ারি দেওয়া হোক না কেন, কোন উপদ্রবি থামার নাম নিচ্ছেনা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী পরিস্কার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই রাজ্যে এমন হিংসক প্রতিবাদ চলবে না। এই ভূমি মনিষীদের ভূমি এখানে কেউ আগুন জ্বালাবে সেটা সহ্য করা হবেনা। মুখ্যমন্ত্রী এও বলেছেন যে, প্রতিবাদ করুণ সংবিধান মেনে, সংবিধানের বাইরে গেলেই দেওয়া হবে কড়া শাস্তি। কিন্তু অনেক উপদ্রবিরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী আর রাজ্যের নাম খারাপ করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

আরেকদিকে রাজ্যে যেসমস্ত এলাকায়া হিংসা বেশি ছড়িয়েছে, সেই সমস্ত এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করে অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত ছয় জেলায় ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। গুজব এবং উসকানি রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর প্রশাসনের এই পদক্ষেপের প্রশংসা হচ্ছে চারিদিকে।

কিন্তু এত কিছুর পরেও থামছে না অশান্তি। বিশেষ করে কংগ্রেসের সাংসদ অধীর চৌধুরীর এলাকায় বেশি হিংসা ছড়াচ্ছে। মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় জ্বলছে অশান্তির আগুন। এই নিয়ে অধীর চৌধুরীর এখনো কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আরেকদিকে গতকাল একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে দেখা যাচ্ছিল একদল যুবক ট্রেনের লাইন উপড়ে ফেলার চেষ্টা করছে। যুবকদের সেই চেষ্টাতে সক্ষমও হয়েছিল তাঁরা। কিন্তু শেষে লাইনের উপড়ে ফেলা পাত এক বিক্ষোভকারীর পায়ে পড়ে যায়। তাঁকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁর পা বাঁচাতে পারেননি। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তাঁর ডান পা আর হাত কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব, বহরমপুরে এবার বেছে বেছে চলছে হিন্দুদের বাড়িতে লুঠ আর ভাঙচুর

প্রতিবাদের নামে তান্ডব দেখল মুর্শিদাবাদ জেলা। এনআরসি ও ক্যাবের বিরোধীতায় চলা প্রতিবাদ আন্দোলন শনিবার থেকে শুরু হওয়ার ২৪ ঘন্টাপর আন্দোলন অব্যাহত রবিবারেও। মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি, দফাহাট, নিমতিতা সহ একাধিক জায়গায় হিন্দুদের বাড়ি ভাঙ্গচুর করে চলল লুঠ। প্রায় ৫০টি বাড়িতে ভাঙ্গচুর করা হয়। ঘটনার জেরে জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী।

শনিবার থেকে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ জেলা। ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টা পরেও রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদের সুতিতে পুলিশ জনতা সংঘর্ষ হয় এবং বোমাবাজি ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে জনতা পুলিশ খন্ডযুদ্ধে উতপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। অন্যদিকে রবিবার দুপুরে সাগরদিঘি, সেঘদিঘি এলাকায় ৩৪নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন এনআরসি ও ক্যাব বিরোধী আন্দোলনকারীরা।

রবিবার সকাল থেকে সুতি থানার দফাহাট, নিমতিতা সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০টি বাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয় এবং বোমাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ। বহিরাগত দুষ্কৃতীরা এসে বাড়িতে লুঠ করে বোমাবাজি করে, যার জেরে বেশ কিছু হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। যদিও দুদিন ধরে জেলার বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি হলেও পুলিশের দেখা না পাওয়া গেলেও রবিবার দুপুরের পর থেকে সুতি এলাকায় পুলিশ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পাল্টা পুলিশ গুলি চালায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

যদিও রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন রেল ষ্টেশনে আট কোম্পানি আরপিএফ ও সিআরফিএফ পাঠানো হয় এবং সমস্ত রেল ষ্টেশনে রবিবার সকাল থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার বেশ কিছু রেল ষ্টেশন ভাঙ্গচুর ও আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ফলে রবিবার সকাল থেকেই বহরমপুর ষ্টেশন সহ একাধিক ষ্টেশনে সিআরফিএফ দখল নেয় বহিরাগত কাউকে ষ্টেশনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

CAB-এর বিরোধিতায় ট্রেনের হাই ভোল্টেজ তার ছিঁড়তে গিয়ে মৃত এক যুবক!

নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরোধিতায় গোটা বাংলায় অশান্তির আগুল লাগিয়েছে একদল মানুষ। টিকিট কাউন্টারে চালানো হচ্ছে লুঠপাট, ভেঙে ফেলা হচ্ছে স্টেশনের আসবাবপত্র এমনকি ট্রেনের লাইন পর্যন্ত উপড়ে ফেলা হচ্ছে। এরকম দৃশ্য দেখে স্তব্ধ গোটা বাংলা। আতঙ্কে ভুগছে সাধারণ মানুষ। চারিদিকে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে লোকাল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন।

আরেকদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও চরম হুঁশিয়ারি জারি করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাজ্যে যারা অশান্তি ছড়াচ্ছে তাঁদের কোনমতেই ছাড়া হবেনা। আরেকদিকে তৃণমূলের একাংশের মতে রাজ্যে এরকম অশান্তির আবহাওয়া তৈরিতে বিজেপির হাত রয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য এর মতে বিজেপির পরোক্ষ ভাবে সহায়ক AIMIM কে দিয়েই বিজেপি এই অশান্তি সৃষ্টি করেছে। ওনার মতে বিজেপির সঙ্গি AIMIM রাজ্যের মুসলিমদের উসকানি দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে।

মমতা ব্যানার্জীর পর কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এরাজ্যে এরকম অশান্তি সহ্য করা হবেনা। তৃণমূলের মতে প্রতিবাদ করুন কিন্তু সাংবিধানিক ভাবে। রাজ্যে অশান্তি ছড়াতে এলেই কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে রাজ্যে ছড়ানো অশান্তি থামাতে কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

আরেকদিকে গতকাল মুর্শিদাবাদের কৃষ্ণপুর স্টেশনে পরপর পাঁচটি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যম অনুযায়ী, নাগরিকতা সংশোধন আইনের বিরোধিতায় একদল মানুষ নেমে স্টেশন আর ট্রেনে ভাঙচুর চালিয়েছে। আর তাঁদের মধ্যে একজন ক্যাবের প্রতিবাদে ট্রেনের উপরে উঠে ট্রেনের হাই ভোল্টেজ লাইন ছিঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মারা গেছে। যদিও আমরা এই খবরের সত্যতা যাচাই করিনি। স্থানীয় সুত্র অনুযায়ী এই খবর আমরা পেয়েছি। আর মৃত ব্যাক্তির নামও জানা যায়নি।

বাংলাদেশি মুসলিমরা ভিসার মেয়াদের অতিরিক্ত ভারতে থাকলে জরিমানা ২১ হাজার, আর হিন্দুদের জন্য ১০০ টাকা

0

বাংলাদেশের মুসলিম ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের জন্য ভিসা নীতি প্রণয়ন করেছে ভারত। ওই নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের কোনো মুসলিম নাগরিক ভারত ভ্রমণের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় থাকলে তাকে গুনতে হবে অন্য ধর্মের অনুসারীদের চেয়ে কমপক্ষে ২০০ গুণ বেশি জরিমানা।

অর্থাৎ বাংলাদেশী কোন হিন্দু নাগরিক মেয়াদের একদিন বেশি থাকলে তাকে দিতে হবে ১০০ টাকা। অপরদিকে যদি কোন মুসলিম বাংলাদেশী নাগরিক মেয়াদের একদিন বেশি থাকে, তাকে দিতে হবে ২১ হাজার টাকা।

সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশে ও ভারতের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলকাতা গেলে ভিসার এই নতুন নিয়মটি সামনে আসে। সেখানে অবস্থানের বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার সাইফ হাসানের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এর জের ধরে তিনি কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনে যোগাযোগ করেন। যেখান থেকে বিষয়টি চলে যায় ভারতের ফরেনার রিজওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে (এফআরআরও)।

এফআরআরও’র ওয়েবসাইটে তাদের প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য ভারতে ভিসার মেয়াদের পর দুই বছরের বেশি থাকলে জরিমানা দিতে হবে ৫০০ টাকা। মেয়াদের পর ৯১ দিন থেকে দুই বছর পর্যন্ত বেশি থাকলে জরিমানা হবে ২০০ টাকাপি, আর ৯০ দিন পর্যন্ত বেশি থাকলে জরিমানা গুনতে হবে ১০০ টাকা।

অপরদিকে, বিদেশি কোনো নাগরিক যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের না হয়, তবে ভিসার দুই বছরের বেশি অবস্থানের ক্ষেত্রে জরিমানা হবে ৫০০ মার্কিন ডলার (৩৫ হাজার টাকা), ৯১ থেকে দুই বছর পর্যন্ত থাকলে জরিমানা হবে ৪০০ ডলার (২৮ হাজার টাকা) এবং ৯০ দিন পর্যন্ত বেশি থাকলে জরিমানা হবে ৩০০ ডলার (২১ হাজার টাকা)।

এবার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আর এক দেশ এক আইন বিল আনছে মোদী সরকার

0

লোকসভা নির্বাচনের সময় নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) নিজেদের ঘোষণা পত্রে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে তিনটি প্রতিশ্রুতি বিগত সাত মাসে পালন করা হয়েছে। মোদী সরকার (Modi Sarkar) নিজের দ্বিতীয় কার্যকালে জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা সমাপ্ত করা, নাগরিকতা সংশোধন বিল পাশ করানো আর তিন তালাকের বিরুদ্ধে আইন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই তিনটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করার পর এবার মোদী সরকার খুব শীঘ্রই ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uniform civil code) আর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

বুধবার রাজ্যসভায় নাগরিকতা সংশোধন বিল নিয়ে চর্চা করার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, মোদী সরকার নিজেদের ঘোষণা পত্রে এই বিলের কথা বলেছিল। উনি বলেন, অনেকেই আমাদের উপরে ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে, কিন্তু আমরা তাঁদের বলতে চাই নির্বাচনী ঘোষণা পত্রে সরকারের নীতির ঘোষণা করা হয়। জনতা নির্বাচনী ঘোষণা পত্রে বিশ্বাস করেই সরকার নির্বাচন করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, নির্বাচনের আগেই আমরা জনতার সামনে নাগরিকতা সংশোধন বিল আনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, জনতা সেটিকে সমর্থন করেছিল। উনি বলেন, জনতার আদেশের থেকে বড় কিছুই না। যদিও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর রাজ্যসভায় দেওয়া বয়ানের পর কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা আপত্তি জাহির করেছিলেন, আর বলেহচিলেন দলের ঘোষণা পত্র সংবিধানের উপরে হয়না। উনি বলেন, আমরা সবাই সংবিধানের শপথ নিয়েছি, আর সংবিধানই সবার উপরে।

মোদী সরকার নিজেদের নির্বাচনী ঘোষণা পত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে তিনটি পূরণ করে ফেলেছে। এবার সবার নজর ইউনিফর্ম সিভিল কোড আইনে টিকে রয়েছে। প্রসঙ্গত, বিজেপি নিজেদের নির্বাচনী ঘোষণা পত্রে এক দেশ এক আইনের উল্লেখ করেছিল। বিজেপি ঘোষণা পত্রে বলেছিল যে, যতদিন ভারত সমান নাগরিক আইন আপন না করে নেবে, ততদিন লিঙ্গ বৈষম্য থাকবে।

দেশের বর্ধিত জনসংখ্যা চিন্তার বিষয় হয়ে চলেছে। বিজেপি নেতাদের সাথে সঙ্ঘের নেতারা মোদী সরকারের কাছে দাবি করেছে যে, তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করার সাথে সাথে যেন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইনেও ধ্যান দেন। বিজেপি নেতারা জানান আমরা আশা করছি যে, সরকার এই বিল নিয়ে খুব শীঘ্রই বড় সিদ্ধান্ত নেবে।

 

দিল্লীর দূষণ এমনিই মারছে আমাদের, তাহলে আবার ফাঁসি কেন? প্রাণ বাঁচাতে আজব যুক্তি নির্ভয়ার ধর্ষকের!

0

ডেস্কঃ নির্ভয়া (Nirbhaya) এর দোষীদের সামনে ফাঁসির দড়ি ঝুলছে। আর সেই কারণে নির্ভয়ার দোষীরা এতটাই ভয়ে আছে যে, তাঁরা এখন আজব আজব কথা বলা শুরু করেছে। নির্ভয়ার দোষী অক্ষয় কুমার সিংহ ফাঁসি থেকে বাঁচার জন্য একটি আজব বয়ান দিয়েছে। অক্ষয় কুমার বলেছে, দিল্লীতে দূষণের কারণে অর্ধেক মানুষ মরছে, তাহলে ফাঁসির কি দরকার? অক্ষয় কুমার সুপ্রিম কোর্টে ফাঁসির সাজার বিরুদ্ধে পুনর্বিচার আবেদন দাখিল করেছে, আর সেখানেই সে দিল্লীর দূষণের অজুহাত দিয়েছে। শুধু তাই নয়, মৃত্যু সামনে দেখে সে সত্যযুগ আর কলিযুগ এমনকি গান্ধীকে পর্যন্ত স্মরণ করেছে।

অক্ষয় কুমার জানিয়েছে, দিল্লী গ্যাস চেম্বার হয়ে গেছে। দিল্লীতে দূষণের কারণে এমনিতেই মানুষের আয়ু কমে যাচ্ছে, তাহলে আমাদের ফাঁসি কেন দেওয়া হচ্ছে? শুধু তাই নয় নিজের পুনর্বিচার আবেদনে বিশ্বের অনেক সিদ্ধান্তের সাথে সাথে সত্যযুগ আর কলিযুগ এমনকি মহত্মা গান্ধীরও উল্লেখ করেছে। আইনজীবী এপি সিং দ্বারা দায়ের করা এই আবেদনে বলা হয়েছে যে, সবাই জানে যে দিল্লী এনসিআর এ হাওয়া আর জলের অবস্থা কি। জীবন এমনিতেই কমে যাচ্ছে, তাহলে মৃত্যুর সাজা কেন?

অক্ষয় কুমার নিজের আবেদনে বলেছে যে, দিল্লীর আবহাওয়ার মান প্রতিদিন খারাপ হচ্ছে। রাজধানী গ্যাস চেম্বার হয়ে গেছে। এমনকি দিল্লীর জলে বিষ মেশানো আছে। অক্ষয় নিজের আবেদনে বেদ পুরাণ আর উপনিষদের উল্লেখও করেছে। সে বলেছে সত্যযুগে মানুষ হাজার হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকত। ত্রেতা যুগেও মানুষ হাজার হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকত। কিন্তু কলিযুগে মানুষ শুধু ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্তই বাঁচে। খুব কম মানুষ ৮০ থেকে ৯০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

বেহালা পার্কে কলেজ ছাত্রীদের দেখে হস্তমৈথুন করে গ্রেফতার বছর চল্লিশের এক মুসলিম ব্যাক্তি!

বেশ কিছুদিন ধরেই ওই ব্যক্তিকে দেখে সন্দেহ হয়েছিল কলেজ ছাত্রীদের। পার্কে ঢুকলেই ওই ব্যক্তি তাদের পিছনে পড়ে যাচ্ছেন। আচার আচরণও স্বাভাবিক নয়। তাই সোমবার আগে থেকে ফন্দি এঁটে ভিডিও করে পাড়ার দাদাদের দিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও করা হল শেখ সেলিমউদ্দিন নামে ওই ব্যক্তিকে।

ঘটনাটা ঘটেছে বেহালা থানার অন্তর্গত হিন্দুস্তান পার্কে। স্থানীয় দুই কলেজ ছাত্রী ক্লাস শেষ হওয়ার পরে কলেজের ঠিক পিছন দিকে একটি পার্কে গিয়ে গল্প করতেন। তিন চারদিন ধরে তারা লক্ষ্য করছিলেন, এক ব্যক্তি তাদের পিছু পিছু আসছে এবং শরীর ঝাঁকাচ্ছে। তৃতীয় দিন অর্থাৎ সোমবার সেই ব্যক্তি ছাত্রীদের দেখে পার্কের গেটের সামনেই দাঁড়িয়ে হস্তমৈথুন শুরু করে, এমনভাবে করছিল যাতে পরিষ্কার দেখতে পায় ছাত্রীরা।

সেই দেখেই ছাত্রীরা মাথায় ফন্দি আঁটেন, যে করেই হোক ওই ব্যক্তির একটি ভিডিও করতে হবে। পরে সেটি তাদের প্রমাণ হবে। গোপনে তাঁরা সেই ভিডিও করে নেন। আগের থেকেই ওই দুই ছাত্রী তাদের পাড়ার দাদাদের পুরো ঘটনাটা বলে রেখেছিলেন। এরপর এলাকার বাসিন্দারা সেই ব্যক্তিকে ধরে ফেলে। তারপর বেহালা থানায় খবর দিলে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।

পশ্চিমবঙ্গে আড়াই কোটি হিন্দু ভারতীয় নাগরিকতা পাবেন জানালেন বিজেপি সাংসদ

0

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে সংসদে আর যা নিয়ে শুধুমাত্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে দেশ জুড়ে। যদিও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের সমর্থনে ভোট বেশি পড়েছে কিন্তু তা সত্ত্বেও চরম বিরোধিতা করতে ক্ষান্ত থাকেনি কংগ্রেস তৃণমূল সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। যদিও বার বার কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না নাগরিক কত সংশোধন বিলের মাধ্যমে কিন্তু তা সত্ত্বেও মহারাষ্ট্রে শিবসেনার তরফে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে অদৃশ্য বিভাজনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

পাশাপাশি, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল অসাংবিধানিক বলেও কটাক্ষ করে কেউ কেউ। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংশোধনী বিলে মুসলিমদের স্থান না দেওয়ার পিছনেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন কারণ বাংলাদেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো দেশে হিন্দুরা সংখ্যালঘু তাই সেই সমস্ত দেশ থেকে আসা পার্সি হিন্দু বৌদ্ধ শিখ ও জৈনদের মধ্যে যাঁরা কমপক্ষে পাঁচ বছর ভারতে বসবাস করছে তাদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। নাগরিকত্ব বিলের সমর্থনে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।

আর এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ মহাভারতের প্রসঙ্গ তুলে এনে বাংলার আড়াই কোটি মানুষ এই বিলের জন্য অপেক্ষা করছিল বলে জানান একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আসা সমস্ত হিন্দু নাগরিকরা ই বিলের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেল তাই এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল দূরে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগে তিনিই এনআরসির বিরোধিতা করছেন এমন কারণ কী? তাও প্রশ্ন তোলেন পাশাপাশি হিন্দুদের প্রত্যেক জায়গায় অত্যাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মঙ্গলবার গোটা অসম জুড়ে নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের তরফে দু দিন জুড়ে বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে, কারণ তাঁদের মতে এই বিলটি অসম চুক্তির অবমাননা।