বিজেপি থেকে তৃণমূলে যাওয়া নেতাদের গোপন মিটিং কৈলাস-এর সাথে, প্রশ্নের মুখে পিকের অভিযান

শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়ল প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) ‘অপারেশন লোটাস’। জেলাভিত্তিক বাছাই করে বিরোধী দল থেকে নেতা কর্মীদের তৃণমূলে (TMC) যোগদান করাচ্ছে তাঁর সংস্থা আইপ্যাক। কংগ্রেস, সিপিএম, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি থেকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা কর্মী বাছাই করে দলে আনার কাজ চলছে। আর সেই তালিকায় যদি কোনও বিজেপি (BJP) নেতা কর্মীর নাম থাকে তাহলে তো কথাই নেই। সেইভাবেই গত মাসের আগস্ট ১৭ তারিখে কোচবিহার শহরে দলীয় কার্য্যালয়ে বিজেপির ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন বিজেপি যুব মোর্চার জেলা সভাপতি শৈলেন্দ্রপ্রসাদ সাউ। কিন্তু গত রবিবার তাঁকে দেখা গেল শিলিগুড়িতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ও অরবিন্দ মেননের সঙ্গে বসে বৈঠক করেন তিনি। শিলিগুড়ি গিয়ে তিনি যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, তা স্বীকার করে নিয়েছেন সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া শৈলেন্দ্র প্রসাদ সাউ। আর তারপরেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে টিম পিকের কৌশল।

যুবনেতা শৈলেন্দ্র প্রসাদ সাউয়ের বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন বৈঠকের খবর চাউর হতে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে কোচবিহারের রাজনীতিতে। তিনি অবশ্য দাবি করেছেন, জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ পার্থ প্রতিম রায়ের অনুমতি নিয়েই তিনি বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেকথা আবার অস্বীকার করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি। এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্নের মুখে পড়েছে পিকে স্যারের কৌশল। কেবল কি সংবাদমাধ্যমে ভেসে থাকতেই এই যোগদান পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে? এমন প্রশ্ন উঠেছে কর্মী মহলেও। কারণ, ইতিমধ্যে প্রশান্ত কিশোরের তৃণমূলে যোগদানের প্রস্তাব পেয়ে তা নাকচ করে দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী দেবেশ দাশ, প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক লক্ষীকান্ত রায় ও চাকুলিয়া বর্তমান বিধায়ক আলী ইমরান রামজ। শুধু তারা পিকের প্রস্তাবই নাকচ করেননি। সে কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে বেআব্রু করে দিয়েছে আইপ্যাকের যাবতীয় অভিসন্ধি।