স্কুলে পড়ানোর সময় স্যারের চেন খোলা দেখে হাসতে হাসতে ২৫ ছাত্রী অজ্ঞান

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ আমাদের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে এক আজব কাণ্ডের সাক্ষী হই রইল। বাংলাদেশের কুমিল্লা সদর উপজেলার সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়ার সময় হঠাৎ শুরু হয় পড়ুয়াদের হাসাহাসি। হাসতে হাসতে একে একে ২৫ জন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে যায়। এই ঘটনার পর শিক্ষক, স্কুলের স্টাফ এবং অন্য পড়ুয়ারা অসুস্থ পড়ুয়াদের স্থানীয় কাবিলা ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে অষ্টম শ্রেণির মেয়েদের ক্লাসে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর তাজ্জব হয়ে যায়, স্কুলের পড়ুয়া, পড়ুয়াদের অভিভাবক এবং শিক্ষকেরা। বিদ্যালয়ের কর্মরত প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চক্রবর্তী জানান, সোমবার টিফিন পিরিয়ড রিসেস শেষ হওয়ার পর শুরু হয় পড়াশুনা, দুপুর আড়াইটা নাগাদ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেয়েদের ক্লাসে শিক্ষা প্রদান করছিলেন স্কুলের শিক্ষক সুধাংশু ভূষণ দাস। হঠাৎই ক্লাস রুমের দুই-তিন জন পড়ুয়া হাসাহাসি শুরু করে দেয়।

শিক্ষক সুধাংশু ভূষণ দাস পড়ুয়াদের কাছে হাসির কারণ জানতে চাইলে, অন্য পড়ুয়ারাও ব্যাপক ভাবে হাসা হাসি শুরু করে দেয়! এমনকি তাঁরা চোখের ইশারায় স্যারের প্যান্টের দিকে ইশারা করে অন্য পড়ুয়াদের দেখাতে থাকে। এদিকে শিক্ষক সুধাংশু ভূষণ দাস এর প্যান্টের চেন খোলা দেখে হাসতে হাসতে একের পর এক পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুল কর্তৃপক্ষের থেকে জানা গেছে যে, ২৫ জন পড়ুয়া স্যারের পোস্ট অফিস খোলা দেখে হাসতে হাসতে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

পুরো বিদ্যালয়ে সেই মুহূর্তে হাঁসির পরিবর্তে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। শিক্ষক, স্কুল স্টাফ এবং অনান্য পড়ুয়ারা অসুস্থ পড়ুয়াদের দ্রুত স্থানীয় কাবিলা ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সুত্র থেকে এও জানা যায় যে, অসুস্থ পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা এদিন বিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষক সুধাংশু ভূষণ দাস এর এহেন কাজের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এবং ওনার উপযুক্ত শাস্তির দাবিও করেন।

অভিজুক্ত শিক্ষক সুধাংশু ভূষণ দাস এর কাছে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় যে, তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে এই কাজ করেন নি। দুপুরে টিফিনের সময় উনি স্কুল স্টাফের রেস্টরুম থেকে বাথরুমে গেছিলেন। সেখানে মুত্র বিসর্জন করতে করতে স্কুলের টিফিন শেষ হওয়ার ঘণ্টা পড়ে যায়। তখন তিনি কোনরকম ভাবে নিজের কাজ করে হাত ধুয়ে ক্লাস রুমের দিকে দৌড় লাগান। স্কুল শিক্ষক সুধাংশু ভূষণ দাস জানান, সেই সময় হয়ত ভুল করে তাড়াহুড়োর বসে তিনি প্যান্টের চেইন লাগাতে ভুলে গেছেন। আর ক্লাসের ছাত্রিরা সেটা দেখেই হাসাহাসি করে এত বড় কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে।

Related Articles