Home Blog

গান্ধীকে মারার যেই ১৫০ টা কারণ আদালতে জানিয়েছিল নাথুরাম গডসে!

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ আমরা সবাই জানি নাথুরাম গডসে গান্ধীকে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। হত্যা করার পর তিনি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেননি। কারণ তিনি চেয়েছিলেন তার এই জঘ্ন্য হত্যা করার কারণ যাতে দেশবাসী জানতে পারে। আদালতে বচার চলার সময় সে গান্ধীকে হত্যা করার পেছনে একটা দুটো না, মোট ১৫০ টা কারণ জানিয়েছিল। তবে সেই সময়কার কংগ্রেস সরকার সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতে দেয়নি। কিন্তু নাথুরামের দাদা গোপাল গডসের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তা প্রকাশ পায়।

তবে এত কারণ এখানে লেখা সম্ভন না বলে উল্লেখযোগ্য ১২টি কারণ এখানে তুলে ধরা হল-

 

১) ১৯১৯ সালে জালিওয়ান ওয়ালাবাগের গণহত্যাকারী জেনেরাল ডায়ারের শাস্তি চেয়েছিল গোটা দেশ, কিন্তু গান্ধী সেই দাবী খারিজ করে।

২) ভারতবাসী চেয়েছিল যে বিপ্লবী ভগত সিং, সুখদেব এবং রাজগুর ফাঁসি আটকাতে গান্ধী হস্তক্ষেপ করুক, কিন্তু তিনি করেনন। গান্ধী বলেন যে এরা পথভ্রষ্ট বিপ্লবী, আর এদের পথ সন্ত্রাসের, তাই চরমপন্থীদের ফাঁসি তিনি আটকাবেন না।

৩)  ১৯৪৬ সালের ৬ই মে যখন দেশের নানা প্রান্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছে, তখন গান্ধী হিন্দুদের উদেশ্যে বলেন যে তারা যেন দাঙ্গায় নিজেদের বলিদান দেয় এবং মুসলিম লিগের লোকেদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে। সেই সময় কেরালায় প্রায় ১৫০০ হিন্দুকে হত্যা করে মুসলিম লিগের লোকেরা এবং আরও ২০০০ হিন্দুকে জোর করে ইসলাম গ্রহণ করানো হয়, কিন্তু গান্ধী এটাকে আল্লার বান্দাদের মহৎ কাজ বলে উল্লেখ করেন।

৪)  বিভিন্ন সময় তিনি ভারতের মজান যোদ্ধা শিবাজি মহারাজ, রাণা প্রতাপ এবং গুরু গোবিন্দ সিংকে পথ ভ্রষ্ট ভারতীয় বলে উল্লেখ করেন।

৫) তিনি কাশ্মীদের রাজা হরি সিংকে কাশ্মীর ছেড়ে হরিদ্বারে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন কারণ কাশ্মীরে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ট ছিল। অন্যদিকে হায়দ্রাবাদের (বর্তমানে তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্র প্রদেশ) নিজাম ওসমান আলি খানকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেন, যদিও সেখানে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ট ছিল এবং মুসলিমরা সংখ্যালঘু ছিল। কিন্তু গান্ধী এবং নেহেরুর কথা অমান্য করে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল হায়দ্রাবাদের অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন এবং হায়দ্রাবাদকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেন যা ইতিহাসে অপারেশন  পোলো নামে পরিচিত। এই খবর শোনার পরে নেহেরু প্যাটেল ফোন রেখে দেন।

৬)১৯৩১ সালে কংগ্রেস কমিটিতে সর্ব সম্মতিতে ভারতের পতাকার রঙ গেরুয়া ঠিক করা হয়, কিন্তু গান্ধীর নির্দেশে তার মধ্যে সবুজ যোগ করা হয়।

৭) ত্রিপুরা কংগ্রেস অধিবেশনে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বিপুল ভোটে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন, কিন্তু গান্ধী নিজের ক্ষমতার জোরে নিজের অনুগত পট্টভি সিতারামাইয়াকে সভাপতি বানান এবং নেতাজীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন।

8) ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট কংগ্রেস ঠিক করে যে তারা ভারত বিভাজনের বিরোধীতা করবে। কিন্তু গান্ধী সেই সভায় একদম শেষ মুহূর্তে পৌঁছান এবং দেশ ভাগের সমর্থন করেন। এর আগে গান্ধী নিজেই বলেছিলেন দেশ ভাগ তার লাসের ওপর দিয়ে হবে।

৯) ভারত স্বাধীনতা অর্জনের পর সর্দার পাটেল প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু গান্ধীর নির্দেশে বেহেরুকে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয়।

১০) সরকার গড়ার পর নেহেরু সিদ্ধান্ত নেন যে ভারত সরকার সোমনাথ মন্দির আবার নির্মান করবে, কিন্তু সরকারে না থাকা স্বত্বেও গান্ধী সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করান। কিন্তু ঠিক একই সময় ১৮৪৮ সালের ১৩ই জানুয়ারি তিনি দিল্লীর মসজিদ সরকারি টাকায় নির্মানের জন্য তিনি অনশনে বসেন এবং নিজের দাবী মানিয়েই ছাড়েন।

১১) দেশ ভাগের পর পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ তেহকে আসা অনেক হিন্দুরা মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিলেন। স্থানীয় মুসলিমদের আপত্তির পর গান্ধী তাদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তারা রাস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হয়।

১২) ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে পাকিস্তান কাশ্মীরে হামলা করলে গান্ধী আবার ভারত সরকারের বিরুদ্ধেই অনশনে বসেন এবং ভারত সরকার পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়। গান্ধী ভারতের মুসলিমদের খুসি করতে হিন্দুদের নানা ভাবে প্রতারিত করতেন।

বিঃদ্রঃ ওপরের সকল মন্তব্য নাথুরাম গডসে আদালতে করেছিলেন)

অবশেষে নাথুরাম গডসে এবং তার সঙ্গে নারায়ণ আপ্টে-কে ১৯৪৯ সালের ১৫ই নভেম্বর পাঞ্জাবের আম্বালা জেলে ফাসি দেওয়া হয়।

 

অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য এক কোটি টাকা দান করবে তিরুপতি মন্দির

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ বিশ্বের যে কোনো দেশে, তাদের দেশ হলো শুধুমাত্র একটা জমির খন্ড। অন্যদিকে ভারতীয়দের কাছে ভারত একটা জমির খন্ড নয়। উল্টে ভারত দেশকে একটা জীবন্ত আত্মা মেনে দেশের পরিকল্পনা করা হয়। সেই কারণে ভারতীয়রা দেশকে ভারত মাতা বলে সম্বোধন করে। যার ফলস্বরূপ দেশের কোনো এক অংশের বিকাশের অন্য অন্য অংশ সাহায্য করতে দ্বিধাবোধ করে না। অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরে অযোধ্যায় একটি বিশাল রাম মন্দির তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে যেখানে বিরোধ চলছিল সেখানে মন্দিরটি তৈরি করা হবে। সিদ্ধান্তের পরে রাম মন্দির তৈরির প্রস্তুতি চলছে। মন্দিরটি তৈরির জন্য পাথর রাজস্থান থেকে আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে মন্দির তৈরির জন্য তিরুপতি বালাজি মন্দির অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য 1 কোটি টাকা অনুদান দেবে। তিরুপতি মন্দিরটি অন্ধ্র প্রদেশে অবস্থিত। সবাই অপেক্ষা করছেন রাম মন্দিরটি অযোধ্যাতে তৈরি হবে। সিদ্ধান্তের পরে, রাম মন্দিরটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তৈরি করা উচিত।

অযোধ্যায় ভগবান শ্রী রামের মন্দির তৈরির জন্য জোর দিয়ে কাজ চলছে। অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মন্দির তৈরির জন্য এগিয়ে আসছে। এর মধ্যে তিরূপতি বালজি মন্দিরও যোগদান করতে সামনে এসেছে। মন্দিরের পক্ষ থেকে এক কোটি টাকার অনুদান দেওয়া হবে। তিরুপতি ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরটি অন্ধ্র প্রদেশের তিরুপতি শহর থেকে 9 কিলোমিটার দূরে তিরুমালা পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। জানিয়ে দি, তিরূপতি মন্দির দেশের খুবই ধনী একটা মন্দির। কিন্তু এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, অযোধ্যায় ভগবান শ্রী রামের জন্মস্থান খুব শীঘ্রই জনপ্রিয় ও ধনী হয়ে উঠবে। সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, অযোধ্যার রাম মন্দির তিরূপতি মন্দিরের থেকেও ধনী মন্দির হয়ে উঠবে। দেবনগরী অযোধ্যা দেশের খ্যাতি নামা ধার্মিক স্থলের মধ্যে সামিল হবে।

কেন্দ্র সরকার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ট্রাস্ট তৈরির কাজে নেমে পড়েছে। সরকার ট্রাস্ট নির্মানের জন্য শীতকালীন অধিবেশনে বিল পেশ করবে। ট্রাস্টের মূল দায়িত্ব পালনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নাম উঠে এসেছে। যদিও সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য সামনে আসেনি। তবে ট্রাস্টের মধ্যে দু একজন মুসলিম ব্যাক্তিদের রাখা হবে, এই খবর সামনে এসেছে। যার পর নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক সন্ন্যাসী ট্রাস্টের মধ্যে মুসলিম রাখার বিরোধিতা করেছেন।

বিজেপি বিরোধিতায়, JNU-তে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি ভেঙে লেখা হল অপশব্দ! ফের অপমানিত বাঙালিরা!

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ দেশ বিরোধী শ্লোগানবাজির জন্য JNU প্রায় সময় খবরের শিরোনামে থাকে। আর এখন আবারও JNU ছাত্রছাত্রীদের উপদ্রব সামনে এসেছে। প্রথমে JNU তে অযোধ্যা মামলার বিরোধ করে ছাত্র ছাত্রীরা উপদ্রব করেছিল। এরপর মানুষের সমালোচনার মুখে পড়তেই সেই বিরোধ ঘুরে যায় হোস্টেল ফি বৃদ্ধি নিয়ে। JUN তে মাত্র ১০ টাকা ২০ টাকা ফি দিয়ে ফ্রীতে খাওয়া দাওয়া, ঘোরা ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। সেই ফী সামান্য বৃদ্ধি করার কথা উঠলে JUN ছাত্র ছাত্রীরা উৎপাত শুরু করে দেয়।

আর এখন JNU থেকে যে খবর আসছে তা খুবই লজ্জাজনক। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, JNU ক্যাম্পাসে থাকা স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি ভেঙে দিয়েছে উৎপাতকারীরা। নিউজ এজেন্সি ANI এর অনুযায়ী, উৎপাতকারীরা স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির উপর ইট, পাথর ছুঁড়তে থাকে। শেষমেষ মূর্তিকে ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষ মূর্তিকে ঢেকে রেখেছে। ঘটনাটিকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ।

মূর্তি ভাঙার সাথে সাথে মূর্তির উপর অভদ্র শব্দ লিখে দেওয়া হয়। স্বামী বিবেকানন্দের এই মূর্তিটি জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ব্লকের ডানদিকে এবং এর ঠিক সামনে রয়েছে জওহরলাল নেহেরুর একটি মূর্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্লকে কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্যের সাথে দেখা করতে তখন সেই ঘটনা ঘটে। ফি বৃদ্ধি নিয়ে কিছু ছাত্রছাত্রীরা স্বামী বিবেকানন্দ এর মূর্তির সামনে উপস্থিত হয়েছিল। এরপর সেই উপদ্রবকারীরাই স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনিক ব্লকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের সাথে দেখা করতে আসলে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সেখানে অন্য কোনও আধিকারিককে না পেয়ে , তারা উপাচার্যের অফিসের কাছে দেয়ালে অভদ্র ভাষায় লেখা লেখি করে।

উপ নির্বাচনের আগে শক্তি বৃদ্ধি বিজেপির, ১৫ জন বিধায়ক যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্ট থেকে উপ নির্বাচনে লড়ার ছাড়পত্র পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার ১৭ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। কর্ণাটকের বিজেপির হেড কোয়ার্টারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই বিক্ষুব্ধ বিধায়কেরা দলে যোগ দেন। বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের হাতে পতাকা তুলে দেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা এবং কর্ণাটক বিজেপির সভাপতি নলিন কুমার।  আগামী পাঁচ ডিসেম্বর ১৫ টি আসনে উপ নির্বাচন হতে চলেছে কর্ণাটকে। আর সেই উপ নির্বাচনে বিজেপি ১৩ জন প্রাক্তন বিধায়ককে টিকিট দিয়েছে।

আপনাদের জানিয়ে রাখি, বুধবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা শীর্ষ আদালত দ্বারা বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের উপ নির্বাচনে লড়ার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা আশ্বাস দেন যে, ভারতীয় জনতা পার্টি পাঁচ ডিসেম্বরে হওয়া উপ নির্বাচনে সমস্ত ১৫ টি আসনেই জয়লাভ করবে। উনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট এর সিদ্ধান্ত প্রাক্তন বিধানসভার স্পীকার আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিধারামাইয়ার বিরুদ্ধে এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর অযোগ্য ঘোষণা হওয়া সমস্ত বিধায়ক খুশি জাহির করেন। জেডিএস এর বিধায়ক বিশ্বনাথ বলে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য খুব জরুরি ছিল। আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। জেডিএস এর বিধায়ক বিশ্বনাথ ছাড়াও বাকি বিধায়কেরাও এই সিদ্ধান্তে নিজেদের খুশি জাহির করেন। এবং তাঁরা সবাই আগামী নির্বাচনে জয়ের দাবিও করেছেন।

বর্তমানে কর্ণাটক বিধানসভায় ২০৭ জন বিধায়ক আছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য চাই ১০৪ জন বিধায়ক। বিজেপির কাছে আছে ১০৬ জন বিধায়ক। আর জেডিএস এর কাছে ৩৪ জন বিধায়ক। এবং কংগ্রেসের কাছে ৬৬ জন বিধায়ক। কংগ্রেস এবং জেডিএস জোট করে কর্ণাটকে সরকার গঠন করেছিল। কিন্তু ১৪ মাস সরকার চলার পর জেডিএস এর নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী জোট ভেঙে দেন।

আদিনাথ মন্দিরের উপরে গড়া হয়েছিল মালদা’র ‘আদিনা মসজিদ”! জোরালো দাবি VHP’র

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (Vishwa Hindu Parishad) ধর্মপ্রসারে দায়িত্বে থাকা স্বরূপ চট্টোপাধ্যায় (Swarup Chatterjee) গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাত্‍কারে বলেন, “আমাদের পরবর্তী টার্গেট কাশী (Kashi), মথুরাসহ (Mathura) দেশের ৩২ হাজার মন্দিরকে (Mandir) উদ্ধার করা। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) এই কাজ শান্তিপূর্ণভাবেই করতে চায়। ওই রায়ে গান্ধিজীর (Gandhi) ‘রাম রাজ্য’র (Ram Rajya) স্বপ্ন সফল হল।”

এই তালিকাতে নাকি রয়েছে মালদা (Maldah) জেলার আদিনা মসজিদ (Adina Masjid)। মালদহ জেলার গাজোল থানার ৩৯ নং মৌজায় অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় মসজিদ আদিনা মসজিদ। বলা হয় এই মসজিদ শুধু বাংলার সর্বাধিক আয়তনের মসজিদই নয় বরং পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বিতীয় সর্বাধিক আয়তনের মসজিদ। এর স্থান দিল্লীর জামি মসজিদের পরেই। আদিনা মসজিদের অভ্যন্তরেও নাকি প্রত্নত্বাত্তিক প্রমাণ পাওয়া গেছে যা দেখে বোঝা যায় যে সেটা আসলে এক সময় মন্দির ছিল। এবং এই আদিনাথ মন্দির থেকেই নাকি আদিনা কথাটি এসেছে।

যদিও লিপি বদ্ধ ইতিহাস বলছে সুলতান সিকান্দার শাহ ১৩৬৪ থেকে ১৩৭৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই দশ বছর ধরে তৈরি করান আদিনা মসজিদ। কিন্তু এটি সেভাবে সুপরিকল্পিত ভাবে তৈরি নয়। এর বিভিন্ন অংশ হিন্দু মন্দির থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই কিছুটা মন্দিরের স্থাপত্য শৈলির প্রভাব রয়েছে এতে। এর সত্যতা এখন ঐতিহাসিকরা যাচাই করবেন।

আবারও মিথ্যুক প্রমাণিত হল রাহুল গান্ধী, রাফাল নিয়ে কোন দুর্নীতি হয়নি স্পষ্ট জানালো সুপ্রিম কোর্ট!

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্ট ১৪ টি রাফাল লড়াকু বিমানের চুক্তি বজায় রেখে ১৪ই ডিসেম্বর ২০১৮ এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাখিল রাফাল সমীক্ষা আবেদনকে খারিজ করে দেয়।বৃহস্পতিবার  সুপ্রিম কোর্ট এর প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এর নেতৃত্বে তিন বিচারকের সাংবিধানিক বেঞ্চ রাফাল চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত শোনাবে। এই বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ছাড়া বিচারক সঞ্জয় কিষাণ কৌল আর বিচারক কেএম জোসেফ আছেন।

গত বছর আদালত ৫৯ হাজার কোটি টাকার রাফাল চুক্তিতে সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্বে তদন্ত হওয়ার দাবিকে খারিজ করে দেয়। আপনাদের জানিয়ে রাখি, রাফাল চুক্তি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ১৪ই ডিসেম্বর ২০১৮ তে দেওয়া রায়ে কেন্দ্র সরকারকে ক্লিনচিট দিয়েছিল। যদিও এই রায় নিয়ে সমীক্ষা করার জন্য আদালতে অনেক কয়েকটি আবেদন দায়ের করা হয়েছিল। ১০ই মে ২০১৯ এ সুপ্রিম কোর্ট এর আবেদনে নিজের সিদ্ধান্ত সুরক্ষিত রেখেছিল।

ফ্রান্স থেকে ৩৬ টি রাফাল ফাইটার জেটের জন্য ভারতের যেই চুক্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়, সেখানে প্রাক্তন মন্ত্রী অরুণ শৌরি, যশবন্ত সিনহা, সুপ্রিম কোর্টের বরিষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আর আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিং এর আবেদন সামিল ছিল। সমস্ত আবেদনকারীরাই সুপ্রিম কোর্টের পুর্বের সিদ্ধান্তকে সমীক্ষা করার জন্য আবেদন জানিয়েছিল।

‘দিদিকে বলো” কর্মসূচীতে এসে মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়ে, এলাকা ছেড়ে পালালেন তৃণমূল বিধায়ক

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ ‘দিদিকে বলো’ এখন যেন দলীয় নেতাদের কাছেই বিড়ম্বনা হয়ে উঠেছে। কর্পোরেট কৌশলের অঙ্গ হিসাবে ‘জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ’ বাড়াতে গিয়ে উলটে জনরোষের মুখেই পড়তে হচ্ছে শাসক তৃণমূলকে। দুর্নীতিকাটমানি,অনুন্নয়ন নিয়ে অভিযোগের লম্বা ফিরিস্তি শুনেই ধৈর্য হারিয়ে শিউলি সাহা ক্ষেপে ওঠেন। বিক্ষোভকারীদের ‘সিপিএম ক্যাডার’ আখ্যা দিয়ে আবার গ্রাম ছাড়ানোর হুমকি দিলে প্রবল জনরোষ সহ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিধায়ক তখন তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠে পড়েন। গ্রামের ঢোকার মুখে গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে। কারণ বামফ্রন্ট সরকারের সময়কার মোরাম রাস্তায় এখন কাদা আর গর্তের মিশেল।

কেশপুর থানার ১২ নম্বর অঞ্চলের ঘোষপুর গ্রামে গত সোমবার সকালে দিদিকে বলো কর্মসূচিতে অংশ নিতে পৌঁছান এলাকার বিধায়ক শিউলি সাহা। এলাকায় ঢোকার সময় তাঁর গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামবাসীরা। একদিকে বেহাল রাস্তা দীর্ঘদিন সারানো হচ্ছে না। গত সাড়ে তিনবছরে কেশপুরের এমন গ্রাম বা অঞ্চলে তাঁকে একটিবারও দেখা যায়নি।  গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গ্রামে যাওয়ার কথা বলায় গ্রামের মানুষ বলেনআপনাকে গাড়ি নিয়ে এই রাস্তায় যেতে হবেনইলে গ্রামে ঢুকতে পারবেন না। এতই যদি উন্নয়ন করেছেন তবে ‘দিদিকে বলো’ করতে আসছেন কেনদিদিকেই আসতেই বলুন। দুর্নীতির ফর্দ হাতে আছেমুখ্যমন্ত্রীকেই ধরিয়ে দেবো।

গরিব মানুষকে গৃহ আবাস পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ২৫- ৩০ হাজার অগ্রিম নিয়েছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত। এমন ২৭ জনকে কোনও ঘর দেওয়া হয়নি। যে ছয় জনকে ঘর দেওয়া হয়েছে তাঁদের কাছ থেকে আবার ৫০ হাজার টাকা করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন গ্রামবাসীরা। তৃণমূলের পঞ্চায়েত ও বুথ সভাপতি তাঁর ও তাঁর পরিবারের নামে চার-পাঁচটি করে ঘর তৈরির টাকা নিয়েছে।

অসংগঠিত, নির্মাণ শ্রমিকদের বঞ্চিত করে ঐ নেতারা নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে সামাজিক প্রকল্পের ভাতা ভোগ করছেন। অথচ তাঁরা কোনও শ্রমিকই নয়। এমন অভিযোগ গ্রামবাসীরা তোলায়বিধায়ক গ্রামবাসীদের সিপিএমের ক্যাডার’ বলে গ্রামছাড়া করার হুমকি দেন। তখনই গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তালিকায় নাম থাকা গরিব মানুষরা ইন্দিরা আবাস যোজনাগীতাঞ্জলি প্রকল্পের মতো সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন গ্রামবাসীরা।

বিক্ষোভের মুখে পড়ে বিধায়ককে বলতে শোনা যায়হাইকমান্ডের নির্দেশে গ্রামে এসে তিনি দিনভর ঘুরে দেখতে এসেছেন গ্রামের অবস্থাএমনকি গ্রামেই রাত্রিযাপন করতে চান। তখন গ্রামবাসীরা দুর্নীতির তালিকা তাঁর হাতে ধরিয়ে বলেন, আগে এই বিষয়গুলির সমাধান বা উত্তর দিনআর আমাদের গ্রামছাড়া করার হুমকি দেওয়ার জন্য ক্ষমা চান। নইলে আপনাকে ঘেরাও করে রাখব। জনরোষের মুখে বিধায়কের দেহরক্ষীরা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় বিধায়ক গাড়িতে উঠে পড়েন এবং গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

এর আগে ঠিক একই রকমভাবে গড়বেতাঘাটালচন্দ্রকোনানারায়ণগড় এমন বহু স্থানে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কদের দফায় দফায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। ফের ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। সামনে উপনির্বাচন। তাই এমন বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ বিধায়ক থেকে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

চাঁদের মাটি থেকে 3D ছবি পাঠাল ইসরোর চন্দ্রযান-২

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (ইসরো) প্রথমবার চন্দ্রপৃষ্ঠের ত্রি-মাত্রিক (3D) ছবি প্রকাশ করল৷ বুধবার ইসরো তাদের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে এই ত্রি-মাত্রিক ছবিটি পোস্ট করে৷ ছবিটি পোস্ট করার পাশাপাশি ইসরো জানিয়েছে, এই ছবিটি চন্দ্রাযান-২ এর তেরেন ম্যাপিং ক্যামেরা -২ দিয়ে লিন্ডবার্গ ক্রেটারের কাছ থেকে তোলা৷

ইসরো তার ট্যুইটে আরও বলেছে, চন্দ্রাযান-২ এর টিএমসি-২ দিয়ে তোলা ক্রেটারের থ্রি-ডি ছবি দেখুন টিএমটি-২ দিয়ে পুরো চন্দ্রপৃষ্ঠের ডিজিটাল ইলিবেশন মডেল তৈরির জন্য ৫ এম স্পেটিয়ল রিজুলেশন এবং স্টেরিও ট্রিপলেট ব্যবহার করে ছবি তোলা যায়৷ ইসরোর প্রকাশ করা চন্দ্রপৃষ্ঠের ত্রি-মাত্রিক ছবি দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের এই গবেষণা সংস্থার ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছে৷ বলা হচ্ছে, এটা ইসরোর বিরাট সাফল্য৷ প্রসঙ্গত, এই নিয়ে তিনবার চন্দ্রযান-২ চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি পাঠাল৷ এর আগে চন্দ্রযান-২ মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবি পাঠিয়েছিল এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের একটি ছবি পাঠিয়েছিল৷

চন্দ্রায়ণ -২ মিশনটি ২২ জুলাই চালু হয়েছিল। এটি অন্ধ্র প্রদেশের নেলোর জেলার শ্রী হরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে লঞ্চ করা হয়েছিল। যার পরে ১৪ অগস্ট ল্যান্ডার এবং রোভার পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করেছিলেন। তার ছ’দিন পরে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করেছিল। ২ সেপ্টেম্বর বিক্রম ল্যান্ডার কক্ষপথ থেকে পৃথক হয়ে যায়। মিশনের সময়সূচি অনুসারে ল্যান্ডার রাত ১ টা থেকে ২ টার মধ্যে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের কথা ছিল৷ কিন্তু, অবতরণের কিছু আগে ইসরো ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে৷

উপ নির্বাচনের আগে কাউন্সিলরের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির হাত ধরায় বড়সড় ধাক্কা শাসক দলে

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচন একই বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ছে। তিন তিনটি কেন্দ্রে বিধানসভা উপনির্বাচন, লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক শিবিরের যে ভরাডুবি হয়েছে তা যাতে বিধানসভা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্য একেবারে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে শাসক শিবির। করিমপুর কালিয়াগঞ্জ এবং খড়্গপুর এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে যোগ্য প্রার্থীদের দাঁড় করিয়ে আসন জিততে মরিয়া শাসক শিবির তবে তার আগেই খড়্গপুরে বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল।

বুধবার সন্ধ্যার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিলেন খড়্গপুর পুরসভার 25 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেলারানি অধিকারী। গতবারে খড়্গপুর সদর পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন তিনি কিন্তু তার পর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তবে আবার বুধবার উপ নির্বাচনের আগে আবারও বিজেপিতে ফিরে গেলেন তিনি। যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসনে জিততে পারেনি তাই খড়্গপুর আসনটি বিজেপির হাতেই চলে গিয়েছিল।

তবে বেলারানি অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর প্রদীপ সরকার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। 25 নভেম্বর তারিখে বিধানসভা উপনির্বাচন কিন্তু তার আগে শাসক শিবিরে এ ভাবে বড়সড় ধাক্কা কার্যত চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তবে বেলারানি অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বিজেপির আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, আরও অনেকেই বিজেপিতে আসবে এমনটাই বলেছেন খড়্গপুরের বিজেপি নেতৃত্বরা।

৯১ বার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার পরেও কংগ্রেস গণতান্ত্রিক দল, আর চারবারেই মোদী খলনায়ক!

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ অটল বিহারী বাজপেয়ী এর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার চলাকালীন ছয় বছরে ৪ বার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সংবিধানের ধারা ৩৫৬ (Article 356) কে কংগ্রেস কেমন ভাবে ব্যাবহার করেছে সেটা জানা খুবই দরকার। কংগ্রেস নিজেদের শাসনকালে মোট ৯১ বার অ-কংগ্রেসি সরকারকে বরখাস্ত করেছিল। ১৯৫১ সালে প্রথমবার জওহর লাল নেহেরু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পাঞ্জাব সরকারকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। আর তারপর থেকে বিভিন্ন রাজ্যে মোট ১১১ বার রাষ্ট্রপতি শাসন লাগু করা হয়েছে। কংগ্রেসের শাসনকালে কেরলে গঠিত প্রথম বামপন্থী সরকারকে ১৯৫৯ সালে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

সবার আগে কথা বলি নরেন্দ্র মোদী সরকার আর ৩৫৬ ধারার। মহারাষ্ট্র প্রথম রাজ্য না, যেখানে বিজেপি সরকারের শাসনকালে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতায় আসার পর দেশের চারটি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল। শেষবার যেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল, সেটি হল জম্মু কাশ্মীর। ২০১৫ সালে বিজেপি-পিডিপি জোট ভেঙে দেওয়ার পর জম্মু কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছিল। ২০১৬ সালে অরুনাচল প্রদেশে ২৬ দিনের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল। কংগ্রেসের ২১ বিধায়ক ১১ জন বিজেপি বিধায়ক আর ২ জন নির্দলীয় বিধায়কের সাথে জাত মিলিয়েছিল, এরপর সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। যদিও এরপর এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে যায়, আর সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যে ফের কংগ্রেসের সরকার বহাল করে।

উত্তরাখণ্ডে ২০১৬ সালে দুবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল। প্রথমে ২৫ দিনের জন্য, আর পরে ১৯ দিনের জন্য। এর আগে ২০১৪ সালে ৩৩ দিনের জন্য মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন লাগু হয়েছিল। ২০১৪ সালে নির্বাচনের ঠিক আছে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান কংগ্রেস-এনসিপি জোট ভেঙে যাওয়ার পর ইস্তফা দিয়েছিলেন। এরপর রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদীর শাসনের কম-বেশি ছয় বছরে এখনো পর্যন্ত চারবার বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমলে সবথেকে বেশি ৪৫ বার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল। ১৯৫৯ সালে কংগ্রেসের শাসনকালে যখন কেরলের বামপন্থী সরকারকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তখন কংগ্রেস নেতা তথা ইন্দিরা গান্ধীর স্বামী ফিরোজ গান্ধী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। অসাংবিধানিক ভাবে কেরলের বাম সরকারকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে ফিরোজ গান্ধী তারপর আর কোনদিনও প্রধানমন্ত্রী আবাসে পা রাখেননি।

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরুর ১৬ বছরের কার্যকালে ৭ বার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল। আরেকদিকে ইন্দিরা গান্ধী প্রায় একই সময়ে দেশে ৪৫ বার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছিলেন। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন দুইবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল। রাজীব গান্ধী ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে ৬ বার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছিলেন। পিভি নরসিমহা রাও এর কার্যকালে ১১ বার, আর ডঃ মনমোহন সিং এর কার্যকালে ১০ বার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছিল।

সমাজবাদী জনতা পার্টির চন্দ্রশেখর রাও আর জনতা পার্টি সেকুলার এর চৌধুরী চরণ সিং এর কার্যকালে ৪ বার ৩৫৬ ধারার প্রয়োগ করা হয়েছিল। সংযুক্ত জোটের সরকারের আমলে এইচডি দেবেগৌড়া ২ বার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছিলেন। মজাদার ব্যাপার হল, এই সরকারকে কংগ্রেস সমর্থন করেছিল।

এবার পড়ুয়াদের হাতে হ্যারিকেন ধরাবেন মমতা, দেওয়া হবে বইও

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ আকাশপথে বসিরহাটের বুলবুল ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আকাশপথে পরিদর্শনের পর বসিরহাটে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ প্রশাসনিক বৈঠক থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মমতার৷ প্রশাসনিক বৈঠক থেকে দুর্বল নদীবাঁধ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সামগ্রী, পানীয় জল পেতে যাতে কোনরকম সমস্যা না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে নজর বাড়াতেও নির্দেশ দিয়েছেন৷

রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা গাছপালা দ্রুত সরিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা৷ ত্রাণ নিয়ে যাতে কোনও ক্ষোভ তৈরি না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে গুরুত্ব নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ দুর্গত এলাকায় আরও বেশি করে ত্রাণশিবির খোলার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষকে বসিরহাট থেকে উদ্ধার করা গিয়েছিল৷ ঘূর্ণিঝড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন আটকে দিয়েছে৷ এই ম্যানগ্রোভ রক্ষা করা জরুরি বলেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ম্যানগ্রোভ রক্ষা করার বিষয়ে প্রশাসনকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন৷ দূষণ নিয়ন্ত্রণের টাকায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য সংরক্ষণ করার বার্তাও প্রাশাসনকে দিয়েছেন মমতা৷

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কে কী করে, ওসব দেখতে হবে না৷ ত্রাণ যাতে সবাইকে দেওয়া হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে৷ পানীয় জলের যেতে কোন অভাব না থাকে সেদিকেও নজর দিতে হবে৷ বেশি মাত্রায় জলের ব্যবস্থা করতে হবে৷ দ্রুত সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাঁচাতে হবে৷ ১৫ লক্ষ হেকট জমিতে ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ সেই কারণে বিকল্প চাষে ব্যবস্থা করতে হবে কৃষকদের৷ দুর্গত এলাকায় চিড়ে, মুড়ি, গুড় ও শিশুদের বিস্কুট, মিল্ক পাউডার দেওয়ার কথা ও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা৷ বিপর্যয় পরবর্তী রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রাখার নির্দেশ দেন তিনি৷

ঘূর্ণীঝড় পরিবর্তী সময় থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বিদ্যুৎ না থাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সমস্যার কথা ভেবে পড়ুয়াদের হ্যারিকেন ও কেরোসিন বিলির নির্দেশ দেন৷ বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ নেই৷ ওঁদের সমস্যা হচ্ছে৷ কী আছে, একটা করে হ্যারিকেন-কেরোসিন দিলে সমস্যা কোথায়? যাঁদের পরীক্ষা আছে, তাদের একটা করে হ্যারিকেন ও পাঁচ লিটার কেরোসিন দিয়ে দাও৷

উনি আরও বলেন, বই-পত্র যদি নষ্ট হয়, তাহলে জেলা শাসক শিক্ষা দপ্তর থেকে বই কিনে দেবে৷ পরিবার পিছু ১২ কেজি চাল, আলু ডাল দেওয়া হবে৷ ১০ দিন পর থালা-বাটি-স্টোভ-সহ সংসারে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বস্তাবন্দি করে দেওয়া হবে৷’’ একই সঙ্গে এদিন ঝড়ের তাণ্ডবে মৃত পরিবারের সদস্যদের হাতে অর্থ সাহায্য তুলে দেন৷

উত্তর প্রদেশে গ্রেফতার বাংলার মৌলবী, দাঙ্গা ছড়াতে মসজিদের ভিতরে বোমা বাঁধার কাজ করতেন তিনি

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ উত্তর প্রদেশের (Uttar Pradesh) কুশিনগর (Kushinagar) জেলার তুর্কপট্টি থানার বৈরাগী পট্টি গ্রামের একটি মসজিদে বিস্ফোরণ হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ১১ নভেম্বর হওয়া এই বিস্ফোটে প্রথমে স্থানীয় পুলিশ ব্যাটারির কারণে বিস্ফোট হওয়ার কথা জানায়। কিন্তু এবার মসজিদ থেকে বিস্ফোটক পদার্থ পাওয়ার পর পুলিশ আবার নতুন করে তদন্তে নেমেছে। এই মামলায় মসজিদের মৌলবী সমেত সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা দায়ের করার পর মৌলবী সমের চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ধামাকার সূচনা পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে এটিএস পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায়। এটিএসের তদন্তের পর বিস্ফোটকে ধামাকা হওয়ার কথা সামনে আসে। লো গ্রেড বিস্ফোটক পদার্থের কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা যায়। শোনা যাচ্ছে যে, বোমা বানানোর জন্য এই বিস্ফোটক পদার্থ মসজিদে রাখা হয়েছিল।

পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া মৌলবী পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। আরেকদিকে ওই গ্রামের বাসিন্দা কুতুবুদ্দিনের নাম সামনে এসেছে। সোনা যাচ্ছে যে, হাজি কুতুবুদ্দিন নামের ওই ব্যাক্তি এবছরের এপ্রিল মাসে মসজিদের বিস্ফোটক পদার্থ এনে রেখেছিল। শোনা যাচ্ছে যে, বিস্ফোরণের পর হাজি কুতুবুদ্দিন এলাকা ছেড়ে পালায়। পুলিশ অনুযায়ী, কুতুবউদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক কয়েকটি অপরাধিক মামলা দায়ের ছিল। আপাতত এটিএস মসজিদের মৌলবীর কাছে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত চার জনকে জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় মুখ্য অভিযুক্ত হাজি কুতুবউদ্দিন সমেত টি অভিযুক্ত এখনো পলাতক। মৌলবী ছাড়া বাকি তিন গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত নাবালিক বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ জানায় যে, এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভাঙার জন্য মসজিদের বোমা বানানোর কাজ চলত। এসপি অনুযায়ী, হাজি কুতুবউদ্দিন এর আগে পিডাব্লিউডি বিভাগে কাজ করতেন। সেখান থেকে অবসর হওয়ার পর অপরাধের জীবন বেছে নিয়েছে।