fbpx
নতুন খবরপশ্চিমবঙ্গরাজনৈতিক

তাহলে কি এবার বহরমপুরে বিজেপি প্রার্থী অধীর? দিল্লীতে অধীর চৌধুরীর বাড়িতে নৈশভোজে মুকুল রায়।

রাজ্যের বিরোধী ও শাসকদলের মধ্যে সংঘাত তুঙ্গে। তা ক্রমশই প্রকাশ্যে এসেছে। বিরোধীদের দলের নেতৃত্বদেরকে শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের কাছ থেকে কম কটাক্ষও শুনতে হয় না। আর কোনো হেভিওয়েট নেতা যদি দল বদল করেন তাহলে কোনো কথাই নেই। দলীয় অন্দরে কিংবা কোনো সভা মঞ্চ থেকে তাঁকে সরাসরি তোপও দাগা হয়। এটি যদিও রাজনীতির একটি পরিচিত অংশ। তবে প্রকাশ্যে যাই হোক না কেন ভিতরে কিন্তু শাসক ও শাসক বিরোধী দলের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীর মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকে। বেশ কয়েকদিন আগে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরির বাড়িতে তৃণমূল নেতা লুচি-আলুরদম খাওয়ার পর জোর বিতর্ক উঠেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। এবার সব্যসাচীর পর অধীর চৌধুরির বাড়িতে আমন্ত্রিত থাকছেন মুকুল রায়। রবিবার রাতে অধীর চৌধুরির বাড়িতে খাওয়া দাওয়ার পর দীপা দাসমুন্সির সঙ্গে দেখাও করবেন রাজ্য বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

এই বিষয়ে যদিও শনিবার দিন দীপা ও অধীরের সঙ্গে কথা হয়েছে মুকুল রায়ের। অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুরে তৃণমূলের দলীয় বৈঠক এড়িয়ে যান তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। আর সেই সময় বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে তিনি সাক্ষাত করেন। তবে তৃণমূলের দলীয় বৈঠকে উপস্থিত না থাকার জন্য বিতর্কের মুখে পড়তে হয় সব্যসাচী দত্তকে । যদিও বিষয়টি কোনরকমে সামাল দিয়েছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের আগে এধরনের অনুপস্থিতি বা দায় সাড়া কাজ দলের পক্ষে ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন অনেক নেতৃত্বই। কারণ, ইতিমধ্যেই মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দল ভাঙার অভিযোগ রয়েছে। আবার মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর যেভাবে একের পর এক তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীরা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছে তাতে তো চিন্তা হওয়ারই কথা।

তবে লোকসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। তার আগেই কংগ্রেস নেতার বাড়িতে মুকুলের ভোজের নিমন্ত্রণ বিজেপি-কংগ্রেস জোটের জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার অন্যদিকে মুকুলের দল ভাঙার প্রসঙ্গ নিয়ে অধীরকে বিজেপির প্রার্থী করা নিয়েও বেশ গুঞ্জন উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে। কিন্তু বাম-কংগ্রেস জোট ছেড়ে বিজেপিতে অধীরের যোগদান করাটা কতটা সত্যতা তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও অধীরের বাড়িতে নৈশভোজকে নিমন্ত্রণ বলেও জানিয়েছেন দুই নেতাই। কিন্তু তা মানতে নারাজ অন্যান্যরা। সকলেই ভাবছেন বহরমপুরে অধীরকে টিকিট দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বিজেপির পক্ষ থেকে তাই এবার হয়তো কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যাবেন অধীর। যদিও একথা একেবারেই মিথ্যে বলেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, সভাপতিত্ব পদ চলে যাওয়ার পরে অধীরকে আর সেভাবে দলের হয়ে দেখা যায়নি।

তাই অনেকেই ভাবছেন রবিবারের নৈশভোজের মাধ্যমে হয়তো দুই বিরোধী দলের নেতা এই নিয়ে কোনো আলচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদিও তা জানা সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু তার সত্ত্বেও এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়ে রয়েছে মুকুল রায় কে নিয়ে। কারণ উনি যেভাবে একের পর এক বিরোধীদের বিজেপিতে যোগদান করাচ্ছেন তাতে উনি যে যাকিছু করতে পারেন সেটাই স্পষ্ট।

Open

Close