fbpx
দেশভারতীয় সেনা

ভারতের মাটিতে পা রেখে অভিনন্দন দিলেন প্রথম প্রতিক্রিয়া, পাকিস্তানে থাকার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন দেশবাসীকে।

দীর্ঘ তিনদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে শুক্রবারই। শুক্রবার রাতে দেশবাসীর প্রার্থনা সফল হয়েছে। ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন বায়ুসেনা উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। দেশে ফিরে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কমান্ডার অভিনন্দন। যে সমস্ত আধিকারিকদের তত্বাবধানে অভিনন্দন ফিরে এসেছেন তাঁদের মধ্যেই একজন অভিনন্দনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমে। তিনি জানিয়েছেন অভিনন্দন বাবু নিজের দেশে ফিরে খুবই খুশি এবং তাঁর ভালো লাগছে। পাশাপাশি কমান্ডার অভিনন্দনকে নিরাপদে দেশে ফেরাতে পেরে যথেষ্টই খুশি বায়ুসেনা আধিকারিকরা। সামাজিক মাধ্যমে সেই খুশি গোটা বিশ্বকে জানিয়েছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে পাকিস্থানের বালাকোটে হামলা চালানোর পর উত্তপ্ত পাকিস্থানও পাল্টা হামলার চেষ্টা করে।  ফলত বেশ কয়েকবার ভারত ও পাকিস্থানের বায়ুসেনাদের মধ্যে লাগাতার বোমা বর্ষণ চলে। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজন জইশ জঙ্গী প্রাণও হারিয়েছেন।

এরই পরে বুধবার ভারতীয় আকাশে পাকিস্থানের এফ-১৬ যুদ্ধ বিমানকে তাড়া করতে গিয়ে ভুলবশত পাকিস্থানের আকাশে ঢুকে পড়েন বায়ুসেনা কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। বিপদ বুঝতে পেরে প্যারাস্যুটে নামতে গিয়েই তিনি বুঝতে পারেন তিনি আর নিজের দেশে নেই। বিমান ভেঙে পড়ার হাত থেকে বাঁচলেও আটকে যান এক পাকিস্থানি সেনার হাতে। আর এরপর তাঁকে বিভিন্ন  ভাবে অত্যাচার করতে শুরু করে পাকিস্থানিরা। যদিও সামাজিক মাধ্যমে জেনেভা কনভেনশন নীতি মেনে কোনো অত্যাচার করেনি বলে ভিডিও প্রকাশ করে কিন্তু তা সত্ত্বেও অভিনন্দনের মুখ ফাটিয়ে দেওয়ার ছবি প্রকাশ্যে আসে। আর এরপর কার্যত চাপের মুখে পড়ে শুক্রবার জেনেভা কনভেনশন নীতি মেনেই অভিনন্দনকে ছাড়তে বাধ্য হয় পাকিস্থান। তবে ছবিতে অভিনন্দকে অত্যাচার করা হয়েছে এমন তথ্য প্রকাশিত হলেও সন্ত্রাসবাদের আখরাখানা পাকিস্থানে তিনি ঠিক কেমন ছিলেন তা জানতে উদগ্রীব গোটা দেশ। যদিও এই বিষয়ে মুখ খোলেননি অভিনন্দন। তবে এয়ার ভাইস মার্শাল আরজিকে কাপুরের তরফে জানা গিয়েছে তিন দিন পাকিস্থানের হাতে বেশ চাপেই ছিলেন অভিনন্দন বর্তমান।

প্রসঙ্গত, ১৪ ই ফেব্রুয়ারী কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জওয়ান কনভয়ে জঙ্গী হামলায় শহীদ হন চল্লিশ জন জওয়ান। প্রথমে না মানলেও পরে চাপের বশে হামলার কথা স্বীকার করে নেয় পাকিস্থানের কুখ্যাত জঙ্গী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। আর তারই প্রতিশোধে গোপনে পাকিস্থানের হামলা চালানোর ছক কষে ভারতীয় বায়ুসেনা। এবং কাশ্মীর হামলার বারো দিনের মাথায় হঠাৎই পাকিস্থানে এয়ার স্ট্রাইক করে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। আর এরফলে বালাকোটের প্রায় চারশো জইশ জঙ্গী নিহত হন। বালাকোট হামলার দিন থেকেই ভারতীয় আকাশে পাকিস্থানের যুদ্ধবিমান হামলা চালাতে শুরু করে। সেই হামলার মুখোমুখি হতে গিয়েই পাকিস্থানের হাতে আটক পড়েন অভিনন্দন। তাঁকে যে ছাড়তেই হবে এমনটা আশা করেছিল ভারতবাসী তবুও উত্কন্ঠায় কেটেছে দিন।

তবে পাকিস্থান অভিনন্দনকে ছেড়ে দিলেও ভারত-পাক সম্পর্ক যে শান্তির বার্তা দেবে এমনটাও কিন্তু নয়। এখন দেখার বিষয় ভারত সরকার এর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।

Close