পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্ব কমানোর জন্য মমতা ব্যানার্জীকে নোবেল দেওয়ার দাবি জানালেন এই সাংসদ

নিজের দলের মতামত যাই থাক, বরাবরই স্ট্রেট ব্যাটিংয়ে বিশ্বাসী রাজ্যের একমাত্র কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। হাজার সমালোচনার মধ্যেও সেটাই তাঁর ইউএসপি। এবার পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব কমানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে (Mamata Banerjee) নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত বলে কটাক্ষ করলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বেকারত্ব নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকে নস্যাৎ করে এই কথা বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক কালে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকটি বিজেপিশাসিত রাজ্যের কথা উল্লেখ করে বারেবারেই বলেছেন, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় তার রাজ্যের বেকারত্ব অনেক কমে গিয়েছে। এই করোনার সময়েও রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। ‘সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি’ -র এই তথ্য তুলে ধরে তা নতুন প্রচার ক্যাম্পেন ‘সোজা বাংলায় বলছি’-তে প্রচার করা হচ্ছে তৃণমূলের তরফে।

বলা হচ্ছে, ভারতের যেখানে ২৬% বেকারত্বের হার বেড়েছে সেখানে পশ্চিমবঙ্গে ৪০% বেকারত্ব কমেছে। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন, তার সিকিভাগ কাজও হচ্ছে না। পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরে কর্ম সংস্থান ফের ভিন রাজ্যে চলে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছেন। ১০০ দিনের কাজও বরাদ্দ করতে পারেনি রাজ্য সরকার। ফলে তারা পুনরায় জীবনকে বাজি রেখেই কেরল, তামিলনাড়ু, গুজরাট প্রভৃতি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছেন কাজের জন্য। তাই মুখ্যমন্ত্রীর বেকারত্ব কমানোর দাবিকে এই ভাষাতেই কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস সংসদীয় নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নোবেল পুরস্কার প্রাপ্য। যে পদ্ধতিতে বেকারত্ব কমাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গে, তা আগামী দিনে বিশ্বের কাছে নজির হতে পারে। তাই থিসিস লিখে এই নজির বিশ্বের কাছে জানান মুখ্যমন্ত্রী।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ভারত নয়, বেকারত্ব সারা পৃথিবীতে বেড়েছে। শুধু বেকারত্ব কমছে পশ্চিমবঙ্গে। কি তার জাদু? আমাদের জানা নেই। তবে দিদির জাদুতেই পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব কমছে। আমি চাই গোটা বিশ্বের সামনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি এক অনন্য নজির তৈরি করুক।

তাই আবেদন করছি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে, যে পদ্ধতিতে আপনি পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্ব কমিয়েছেন, তা থিসিস আকারে সারা বিশ্বের সামনে রাখুন। আমি নিশ্চিত এর জন্য আপনার নোবেল রাখা আছে। আপনার এই পদ্ধতি সারা বিশ্বের মানুষের জানার দরকার আছে। যাতে আগামী দিনে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিতেও আপনার মডেল ফলো করে বেকারত্ব কমাতে পারে।’