বারবার বিমানে করে মুম্বাই যেতে বিরক্ত লাগে! এবার মুম্বাইতেই বাড়ি কিনে নেবঃ রানু মণ্ডল

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ কখনো রেলওয়ে স্টেশনে গান গিয়ে ভিক্ষা করার রানু মণ্ডল (Ranu Mondal) আজ কারোর দয়ায় চলার পাত্রি নন। প্রতি দিনই রানু মণ্ডলকে নিয়ে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। কিছুদিন আগেই রানু মণ্ডলের একটি ইন্টারভিউ-এর ভিডিও দেখা গেছিল। সেখানে নিজের জীবন নিয়ে অনেক কথাই সবাইকে শোনান রানু। তিনি ওই সাক্ষাৎকারে হিমেশ রেশমিয়ার সাথে গাওয়া গানের কথাও বলেন। আর তিনি মুম্বাইতে বাড়ি করার আশা প্রকাশ করেন।সাক্ষাৎকারে রানু মণ্ডল নিজের জীবনের ওই দিন গুলো নিয়ে বলেন, যেটা আমরা কেউই আগে জানতাম না। রানু মণ্ডল বলেন, ‘আমার জীবনের কাহিনী অনেক বড়। এটা নিয়ে সিনেমাও করা যায়। আর সেটি একটি বিশেষ সিনেমা হবে।” আমি পাঁচ থেকে ছয়টি গান গেয়ে ফেলেছি। বারবার বিমানে করে মুম্বাই যাওয়া আমার কাছে বিরক্তিকর এবং কঠিনও, তাই আমি মুম্বাইতেই নিজের বাড়ি বানাতে চাই। আমি হিমেশের সাথে দুটি গান গেয়েছি। আমি এবার থেকে মুম্বাইতেই থাকতে চাই।

পুরনো দিন গুলোকে মনে করে রানু মণ্ডল বলেন, ‘আমি ফুটপাথে জন্ম নিয়নি। আমি ভালো ফ্যামিলি থেকেই বিলং করি, কিন্তু আমার কপাল এতটাই খারাপ ছিল যে, আমার ৬মাস বয়সেই আমার মামা বাবা আলাদা হয়ে যান। আমাকে আমার দিদা লালন পালন করেছেন। আমাদের কাছে ঘর ছিল, কিন্তু সেটিকে চালানোর মতো আমাদের সামর্থ ছিলনা। আমি অনেক সময় একা একা কাটিয়েছি। আমি অনেক সংঘর্ষ করেছি, কিন্তু আমি আগাগোড়াই ভগবানের উপর ভরসা রেখেছিলাম, আর গান গেয়ে যেতাম।”

রানু বলেন, আমাকে কেউ গান গাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল না, আমি গান গাইতে ভালোবাসতাম। আর এই জন্যই আমি গান করে গেছি। আমি লতা মঙ্গেশকরের গান শিখতাম। আমি রেডিও আর ক্যাসেটে ওনার গান শুনে শুনে শিখতাম। বিয়ের পর আমি পশিমবঙ্গ থেকে মুম্বাইতে চলে আসি। আমার স্বামী অভিনেতা ফিরোজ খানের বাড়িতে রাঁধুনি ছিলেন। সেই সময় ওনার ছেলে ফরদিন খান কলেজে পড়ত। তাঁরা আমদের সাথে খুবই ভালো ব্যাবহার করত। তাঁরা আমাদেরকে নিজের পরিবারের মতই ভালবাসত। রানু মণ্ডল জানান, রানাঘাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রথম সিনেমায় গান গাওয়ার সফর আমার কাছে সহজের ছিলনা। একটি ছোট ভিডিও রানু মণ্ডলের জীবন পালটে দেয়, আর মানুষ ওনার মধুর আওয়াজের ভক্ত হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন একটা থেকেই যায় যে, এমন কি হল, যে ওনাকে স্টেশনে গান গেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছিল?

Related Articles