গত ৫ জানুয়ারি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় যে ছবিটা সবার আগে প্রকাশিত হয়েছিল, সেটা হল জেএনইউএসইউ-এর নেত্রী ঐশী ঘোষের মাথা ফেটে রক্ত পড়ার। হামলার পর শাসক দলের সমর্থকদের তরফে তীব্র বিষোদগার করা হয় ঐশীর প্রতি। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বারংবার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা হয়েছে, তিনি নাকি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেছেন জীবনের বেশিরভাগ শিক্ষাগত পরীক্ষা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মা শর্মিষ্ঠা জানালেন, ৯০ মাধ্যমিকে শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন ঐশী। এই সমস্ত মার্কশিট রয়েছে তাঁর কাছে। যাঁরা ঐশীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, প্রয়োজনে তাঁদের সেই মার্কশিট দেখাতেও রাজি ঐশীর মা।

ছোটবেলা থেকেই ফাইন আর্টসের দিকে ঝোঁক ছিল ঐশীর। আঁকার জন্য প্রচুর পুরস্কারও জিতেছেন। উচ্চশিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহ না থাকলে চিত্রশিল্পীই হতেন তিনি। পাশাপাশি ভাল ছিলেন পড়াশোনাতেও। মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে দিল্লির দৌলতরাম কলেজে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা করেন। এরপর জেএনইউ-তে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়েন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন নিয়ে। দুই স্তরেই ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিলেন ঐশী। বর্তমানে এই বিষয়েই এমফিল-পিএইচডি করছেন তিনি। বাবা দেবাশিস দুর্গাপুরে আরএসপি-র সদস্য ছিলেন।

দৌলতরাম কলেজে পড়াকালীনই ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন ঐশী। জেএনইউ-তে যোগ দেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই-তে। ‘হয়তো ও বাবার দ্বারাই অনুপ্রাণিত হয়েছিল। ডিটিপিএস-এ বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের হয়ে লড়তে দেখে, হয়তো ছাত্র রাজনীতিতে সেরকম ভাবে জায়গা পায়নি ঐশী। জেএনইউ সঠিক বিষয়ে লড়ার জন্য ওকে একটা মঞ্চ দিয়েছে,’ বলছেন ঐশীর মা। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে লড়ছে ঐশী এবং জেএনইউএসইউ।

‘আমাদের যা অবস্থা, তাতে আমরা হয়তো এই বেতন বৃদ্ধি সামলে নিতে পারব,’ বললেন নেত্রীর বাবা-মা, ‘কিন্তু জেএনইউ-তে এরকম অগণিত ছাত্র রয়েছে, যারা আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি থেকে আসে।’ দুর্গাপুরের থার্মাল পাওয়ার স্টেশন কলোনিতে জন্মানো শর্মিষ্ঠা এবং দেবাশিস ঘোষের ‘লাজুক’ কন্যা এখন পড়ুয়াদের হয়ে লড়ছেন কেন্দ্রীয় সরকারি নীতির সঙ্গে। পিতা দেবাশিস ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘যাই হয়ে যাক না কেন, ঐশীর লড়াই চলতে থাকবে।’