এবার গোটা অ্যাম্বুলেন্স চুরির অভিযোগ গুণধর তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে! যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি

কোরোনা আবহে অ্যাম্বুলেন্স পেতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে রোগীর পরিবারের সদস্যদের । অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া গেলেও তার জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে । এসেবের মধ্যেই এবার তৃণমূল সাংসদের দেওয়া আস্ত একটা অ্যাম্বুলেন্স ‘নিখোঁজ’ হয়ে গেল । তাও আবার চার বছর ধরে । ভাবছেন এই রকম আবার হয় না কি? অবাক লাগলেও এমনই ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার শাসনে । এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে দাদপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য নাজিমুল হক ওরফে হানিফের । শাসন থানার পুলিশের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগও দায়ের হয়েছে । নাজিমুল হক অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স গ্যারাজে পড়ে থাকার তত্ত্ব খাড়া করেছেন ।

রাজ্য প্রতিদিনই কোরোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে । এই অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স যে কতটা জরুরি তা বলার অপেক্ষা রাখে না । যদিও এই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে । কখনও সঠিক সময়ে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ । আবার কখনও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া গেলেও তার জন্য বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । এই পরিস্থিতিতেই আবার সামনে এসেছে অ্যাম্বুলেন্সের হদিস না পাওয়ার ঘটনা । 2010 সালে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ হাজি নুরুল ইসলাম তাঁর সাংসদ তহবিলের টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স দান করেছিলেন দাদপুর পঞ্চায়েতের তেঘরিয়া পল্লি প্রভাত সংঘকে ।

সেই সময় সংঘের সভাপতি ছিলেন ইমদাদুল হক । আর সম্পাদক ছিলেন নাজিমুল হক ওরফে হানিফ । নাজিমুল আবার দাদপুর পঞ্চায়েতের শাসক দলের সদস্য । 2016 সাল পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সের পরিষেবা ঠিকঠাকই ছিল । কিন্তু এরপরই অ্যাম্বুলেন্সের দায়িত্ব নেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নাজিমুল হক । অভিযোগ, এরপর আচমকাই একদিন উধাও হয়ে যায় সাংসদের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স । চার বছর ধরে কোনও হদিস পাওয়া যায়নি । আপদকালীন সময়ে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন গ্রামের মানুষ । এতদিন অ্যাম্বুলেন্সের কোনও খোঁজ না পাওয়া যাওয়ায় সন্দেহ হয় ক্লাবের সদস্যদের । তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স হদিস না পাওয়ার বিষয়ে বারবার নাজিমুল হককে জানালেও তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ । এরপরই এদিন ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে ক্লাবের সদস্যদের । তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স হদিস না পাওয়ার বিষয়ে পঞ্চায়েত সদস্যকে দায়ি করে শাসন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ।

এই বিষয়ে ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, “2016 সাল থেকে 2016 সাল পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স চললেও তা লোকসান হচ্ছিল । তাই ক্লাবের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সের যাবতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নাজিমুল হকের উপর । কিন্তু 2016 সালের পর থেকে অ্যাম্বুলেন্সের আর কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না । আমরা নাজিমুলকে এই বিষয়ে বারবার জিজ্ঞেস করেছি । অ্যাম্বুলেন্স ফিরিয়ে আনার আবেদনও করেছি তাঁর কাছে । কিন্তু চার বছর হয়ে গেল এখনও অ্যাম্বুলেন্সের দেখা মেলেনি ।” তাঁর কথায়, “অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ পেতে শাসন থানা থেকে অঞ্চল ও ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল । কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি । কোরোনার এই সংকটময় পরিস্থিতিতে গ্রামে দ্বিতীয় কোনও অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় সমস্যা হচ্ছে সাধারন মানুষের ।”

যদিও অ্যাম্বুলেন্স নিখোঁজের অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নাজিমুল হক বলেন,”বছর তিনেক আগে অ্যাম্বুলেন্সটি বহরমপুরে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে । মেরামতের জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি সেখানেই একটি গ্যারাজে পড়ে রয়েছে । চালককে জিজ্ঞাসা করলেই সব উত্তর পাওয়া যাবে । লুকিয়ে কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাহলে আমার কিছু করার নেই । অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই । বদনাম করতেই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে । অ্যাম্বুলেন্স সারিয়ে দ্রুত এলাকায় আনার চেষ্টা করব । ”

এদিকে,বিষয়টি নিয়ে জেলা তৃণমূলের মুখপত্র ও বিধায়ক রথীন ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি একেবারেই সমর্থন যোগ্য নয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে । প্রয়োজনে দলের জেলা সভাপতির কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হবে ।” কিছুদিন আগেই দত্তপুকুরের ছোটো জাগুলিয়া পঞ্চায়েতের অবহেলায় সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে পড়ে থাকার ঘটনা সামনে এসেছিল । এবার আর এক তৃণমূল সাংসদের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স হদিস না পাওয়ার ঘটনা সামনে এল শাসনে । যা নিয়ে অস্বস্তি বেড়েছে শাসকদলের অন্দরে ।