দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে অনুব্রত, অস্বস্তিতে তৃণমূল

আবার দলীয় কর্মীদের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হল বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে। রবিবার বুথ ভিত্তিক কর্মিসভায় তাঁর সামনে অভিযোগের ডালি সাজিয়ে দিলেন দলের কর্মীরা।

কর্মীদের অভিযোগের তালিকায় ছিল অধিবাসীদের জব কার্ড বাতিল, সরকারি আবাস প্রকল্পে গৃহ নির্মাণের অনুদান আটকে যাওয়া এবং স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগে ভাঙাচোরা রাস্তা নিয়ে এক বুথ সভাপতির ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন অনুব্রত। সেই সময় তিনি কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করলেও রবিবারের বৈঠকে শান্ত হয়েই সব অভিযোগ খুঁটিয়ে শুনেছেন তিনি।

বেরেণ্ডার এক দলীয় কর্মী তাঁকে জানান, পরিষেবা না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ শাসকদলের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির কাছে ব্যাখ্যা চান বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি। সেই সঙ্গে বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডারকে বিষয়টি সম্পর্কে বিডিও-র সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এ দিন আউশগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের বুথ ভিত্তিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন বেরেণ্ডা, উক্তা ও আউশগ্রামের দলীয় কর্মী-নেতারা। অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অসিত মাল, বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডার এবং ব্লক সভাপতি শেখ সালেক রহমান।

দলের কর্মীদের অনুব্রত নির্দেশ দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে এবং তার ভিত্তিতেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপুল ভোটে জয় নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হতে হবে। বিজেপি বা সিপিএম-এর প্রতি স্থানীয়দের আনুগত্য এ ভাবেই মুছে ফেলে মানুষের সমর্থন আদায় করতে হবে।

কর্মীদের একাংশ বৈঠকে নিজেদের নিরাপত্তার অভাব নিয়েও মুখ খোলেন। তাঁদের দাবি, বিজেপি-র সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটলে পুলিশি নিগ্রহের আতঙ্কে তাঁদের বাড়িছাড়া হতে হয়েছে। তাঁদের আশ্বস্ত করে অনুব্রত বলেন, এই রকম ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে খবর দিতে।