পড়নের লুঙ্গি ফুলিয়ে সমুদ্রে ছয়দিন ভেসে রইল ইমরান খান! কান্ড দেখে তাজ্জব সবাই

0
118

পরনের লুঙ্গি ফুলিয়ে সমুদ্রে টানা ছদিন ধরে ভেসেছিল। এভাবে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে জীবন বাঁচিয়েছে বাংলাদেশের এক কিশোর ইমরান খান। আইনি বেড়াজাল ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মিটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরেছে সে। শুক্রবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)’র কাছে তাকে হস্তান্তর করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)। সব প্রক্রিয়ার পর শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় ইমরানের বাবা ও আত্মীয়রা তাকে বেনাপোল থানার মাধ্যমে গ্রহণ করেন।

পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা করে মডেরখাল এলাকার মহম্মদ ইসমাইল খানের ছেলে ইমরান। বর্তমানে তার বয়স ১৪ বছর। গত বছরের ২৫ আগস্ট ইসমাইলের মালিকানাধীন এফবি ইমরান নামে ট্রলারটিতে ইমরান-সহ ১২ জন মাঝিমাল্লা সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়েছিল। পরদিন ২৬ আগস্ট ভোররাতে সমুদ্র থেকে মাছ ধরে ঘাটে ফিরে আসার পথে বলেশ্বর নদের মোহনায় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। এর জেরে শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ট্রলার থেকে সমুদ্রে পড়ে যায় ইমরান। এরপর ছদিন লুঙ্গি ফুলিয়ে ভাসতে থাকে সমুদ্রে। এভাবেই ৩১ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের জলসীমা অতিক্রম করে ইমরান। এই অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন পশ্চিমবঙ্গের একটি ট্রলারের চালক মনোরঞ্জন দাস। পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রায়দিঘি থানায় পৌঁছে দেন।

এপ্রসঙ্গে ইমরান বলে, জলে পড়ার পরে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে ছোটবেলায় পুকুরে লুঙ্গি ফুলিয়ে ডাম্বুরা বানিয়ে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাই। এভাবে ছদিন কেটে যায়। পরে কয়েকজন মৎস্যজীবী আমাকে উদ্ধার করেন।

তার বাবা ইসমাইল খান বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ছেলের কোনও খোঁজ পাচ্ছিলাম না। তাই গত বছরের ৩১ আগস্ট রাতে পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। এখন ছেলেকে ফিরে পেয়ে সব দুঃখ ভুলে গিয়েছি। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরি বলেন, বরগুনার জেলাশাসক, ট্রলার মালিক সমিতি, পাথরঘাটা প্রেসক্লাব ও স্থানীয় সাংবাদিক-সহ ইমরানের আত্মীয়রা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন। আর জেলাশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ ইমরানের বেঁচে থাকাকে অলৌকিক এবং প্রতিবেশী দেশের জনগণের ভালবাসার দান বলে উল্লেখ করেন।