মহাজোটবন্ধন কে ধাক্কা দিয়ে ফের একসাথে লড়াই করার ঘোষণা শিবসেনা এবং বিজেপির। চাপে পড়ল মমতা, রাহুল গান্ধী।

বিগত তিন বছর ধরে শিবসেনা ক্রমাগত আক্রমণ করে চলেছে বিজেপি দল সহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কে। কিছুদিন আগে শিবসেনার তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সাথে কোনোরকম জোট করবে না শিবসেনা, তারা একাই লড়াই করবে। আর শিবসেনার এই সিদ্ধান্তের পরে চুপ করে বসে থাকে নি বিজেপি। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন মহারাষ্ট্রে বিজেপিও একাই লড়াই করবে। একা লড়াই করতে ভয় পায় না বিজেপি।

কিন্তু ভোটটাই যে বড় ব্যাপার সেটা আবার প্রমাণিত হয়ে গেল। লোকসভা নির্বাচনের মুখে এসো দুই দলই বুঝে গিয়েছে যে নিজেদের মধ্যে রেষারেষি করলে আদতে ক্ষতি তাদেরই হবে। তাই বিজেপি এবং শিবসেনা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা একে অপরের সাথে আসন সমঝোতা করেই চলবে মহারাষ্ট্রে।
বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ৪৮ টি আসন রয়েছে তার মধ্যে শিবসেনা লড়াই করবে ২৩ টি আসনে অপরদিকে বাকি ২৫ টি আসনে লড়াই করবে বিজেপি। অপরদিকে বিধানসভায় ২৮৮ টি আসন দুই দল সমান ভাগে ভাগ করে নেবে।

লোকসভা নির্বাচনে আসন এর দিক থেকে বিচার করলে উত্তরপ্রদেশের পরে সবথেকে বেশি সংখ্যক আসন বিজেপি শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্রে। তাই এই রাজ্য থেকে যত বেশি সম্ভব আসনে জয়লাভ করতে চাইছে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। আর সেজন্যই মহারাষ্ট্র রাজ্যের মানুষের আবেগের কথা ভেবে এইদিন শিবসেনা এবং বিজেপি একসাথে সাংবাদিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এইদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, শিব সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ মহাশয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেছেন যে মহারাষ্ট্রের মানুষের কথা ভেবে আমরা দুই দল একে অপরের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই সাথে তিনি মহারাষ্ট্রের ৪৮ টি আসনের মধ্যে ৪৫ টি তে জয় লাভ করার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন যে বিজেপি এবং শিবসেনার কোটি কোটি সমর্থকদের ইচ্ছেতেই আজ আমরা একে অপরের সাথে মিলেমিশে পথ চলছি এবং আগামী দিনে মহারাষ্ট্রের উন্নয়নের একে অপরকে সাহায্য করবো।

অপরদিকে শিবসেনা প্রধান বলেন যে আমরা দুই দলই চাই যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাম মন্দির স্থাপন হোক। সেই জন্যই দুই দল রাজনীতি করি এবং একে অপরের সাথে পথ চলি এবং রাম মন্দির নির্মাণ করাই এখন আমাদের প্রধান টার্গেট। অপরদিকে ফড়িংবিশ বলেন যে শিবসেনা এবং বিজেপি জাতীয় রাজনীতি করে শুধুমাত্র মানুষের মঙ্গল কামনায়, তাই দুই দল একে অপরের সাথে হাতে হাত রেখে পথ চলা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবং ভবিষ্যতেও আমরা একসাথে পথ চলব এবং মহারাষ্ট্রের মানুষের উন্নয়নই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।
#অগ্নিপুত্র

Related Articles