বড় ঘোষণা বঙ্গ বিজেপির! রাজ্যের নিট এবং জয়েন্ট পরীক্ষার্থীদের পৌঁছে দেওয়া হবে পরীক্ষাকেন্দ্রে

ইউজিসি নিয়ে রায় ঘোষণার দিনই নিট এবং জয়েন্ট পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল বাংলা-সহ ছ’টি রাজ্য। এ প্রসঙ্গে আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে শীর্ষ আদালত। বলেছিল, পরীক্ষার্থীদের একটি বছর কোনও ভাবেই নষ্ট করা যাবে না। সেই প্রেক্ষিতেই করোনা আবহের মধ্যেই আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্ট (NEET) এবং ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজ্যামিনেশন (JEE) হওয়ার কথা। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের শুধু শারীরিক অবস্থাই নয়, তাঁরা কীভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছবে, তা নিয়েও আশঙ্কায় অনেকে। এই পরিস্থিতিতে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং দাবি করলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে বিজেপি।

এদিন হুগলির চণ্ডীতলায় তিনি বলেন, ‘এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবেতেই বিরোধিতা করে থাকেন। সেটাই তাঁর অভ্যাস। সুপ্রিম কোর্ট কিছু বললে তাও তিনি মানবেন না, আবার হাইকোর্ট কিছু বললেও মানবে না।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের গাড়ির ব্যবস্থা করা উচিৎ। সেটা যদি সরকার না করে বিজেপি এই দায়িত্ব নিচ্ছে। সব পরীক্ষার্থীদের বিজেপিই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেবে।’

শুধু তাই নয়, উম্পুনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘টাকা নেওয়ার সময় হেলিকপ্টারে ঘুরব আর টাকা যখন পাব না, তখন কেন্দ্রীয় সরকারকে গালাগালি করব! এটা এই বাংলার মানুষ আর মেনে নেবে না।’ উল্লেখ্য, এদিন বিরাটিতে প্রচুর কর্মীকে নিয়ে অর্জুন সিং মিছিল করতে শুরু করেন। কিন্তু তাতে বাধা দেয় পুলিশ। মিছিলে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয় মানা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।

উল্লেখ্য, যুব তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশের জমায়েতে গত ২৮ তারিখ সর্বভারতীয় ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা ‘নিট’ এবং ‘জেইই’ (মেন)-সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পিছোনোর দাবি তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘করোনা করোনা করেই ছাত্ররা চিন্তায়। তাঁরা পরীক্ষা দেবেন কী করে?’

যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, ‘পড়ুয়াদের মানসিক অবস্থার কথা কেউ ভাবছেন না। করোনা-কালে ওঁদের মাইন্ডসেট ঠিক নেই৷ রয়েছে ২৬ লক্ষ পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টিও৷ সব দিক বিবেচনা করে আমরা মানুষের অধিকারের জন্য লড়ছি।’ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক দাবি করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অগণিত পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করেছেন৷ এই দাবিকে খোঁচা মেরে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেছেন, ‘করোনার সময়ে যাবতীয় উৎকণ্ঠার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করা মানে পরীক্ষা দেওয়া নয়৷ তা হলে তো জীবনবিমা করার অর্থ গ্রাহক মারা যাবেন।’