ছিল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের পক্ষে মিছিল। তাতে ব্যাপক সাড়া মেলায় ফালাকাটা উপনির্বাচনে অক্সিজেন পেল বিজেপি (BJP)। বুধবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) নেতৃত্বে এক মিছিল হয়। যেখানে উপচে পড়া ভিড়ে সুর চড়ালেন মেদিনীপুরের সাংসদ। এদিনের ভিড় দেখে সুর চড়িয়ে তৃণমূলের উদ্দেশে দিলীপ বলেন, “এবার ওরা ভোট চাইতে এলে কলার চেপে ধরবেন। বলবেন, এতদিন আমাদের ভোট নিয়েছো, এমএলএ,এমপি, চেয়ারম্যান হয়েছ, কিন্তু আমাদের নাগরিকত্ব দাওনি।” উল্লেখ্য, তৃণমূল বিধায়ক অনিল অধিকারীর মৃত্যুতে শূন্য হয়েছে ফালাকাটা (Falakata) আসনটি। লোকসভা নির্বাচনে এই আসন থেকে বিজেপি সাংসদ জন বারলা ২৭,০৭০ ভোটের ব্যবধান পেয়েছিলেন। এখনও উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। তবে বিজেপি-তৃণমূল দুপক্ষই ঘুঁটি সাজাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, খড়গপুর সদর, কালিয়াগঞ্জ ও করিমপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয়ে পর জোর ধাক্কা খেয়েছিল বিজেপি। অপরদিকে, প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ নিয়ে নতুন ভাবে বিজেপির মোকাবিলা করতে নেমেছে তৃণমূল (TMC)। কিন্তু, এদিন ফালাকাটার মিছিল তৃণমূল নেতৃত্বের কাছেও চিন্তার কারণ হয়ে উঠবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। সম্প্রতি বিজেপি নেতা মুকুল রায়ও (Mukul Roy) ফালাকাটা উপনির্বাচনে বিজেপির জয়ের পক্ষেই বাজী ধরেছেন। কারণ স্বরূপ তিনি বলেছিলেন, “উত্তরবঙ্গের যে কোনও আসনে জয় পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় রাজবংশী ভোট। যা তারা কালিয়াগঞ্জের উপভোটে পাননি। কিন্তু, এই শেষ দেড়মাসে সেই ভোট ফেরাতে বেশকিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পেরেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের সেই পদক্ষেপ যে যথেষ্ট উপযোগী হয়েছে, তার প্রমাণ মিলেছে এদিন ফালাকাটার মিছিলে।

জনজোয়ার নিয়ে মিছিলের শেষ করে একটি সভাও করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “মা ভাইবোনেরা সকলে নিজেদের সম্মান বাঁচাতে, ধর্ম বাঁচাতে এ দেশে পালিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা দীর্ঘদিন এই দেশে রয়েছেন। তাঁরা কেবল মানুষ হিসেবে এখানে রয়েছেন, নাগরিকত্ব পাননি। আমরা তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাশ করেছি। কিন্তু সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস এর প্রতিবাদ করছে।”