অজানা তথ্য

বারবার বেতের ঘা দিচ্ছিল ব্রিটিশরা, আর প্রতিবারই মুখ থেকে বেরিয়ে আসছিল ‘ভারত মাতা”র নাম

ভারতঃ ভারতীয় স্বাধীনতা ইতিহাসের অন্যতম যোদ্ধা ছিলেন চন্দ্রশেখর আজাদ। ২৩ জুলাই ১৯০৬ সালে মধ্যপ্রদেশে জন্ম হয় চন্দ্রশেখর তিওয়ারির। ছোট থেকেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ক্ষমতা তার মধ্যে জেগেছিল। তার বাবা চেয়ে ছিলেন সে একজন ভাল সংস্কৃতের পণ্ডিত হোক। কিন্তু তার ছেলে বেপরোয়া, দেশবাসিকে ইংরেজদের হাত থেকে মুক্ত করার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

গ্রামে একদম মন বসতো না, সে চাইতো কোন এক বড় দলের সাথে যুক্ত হয়ে ইংরেজদের এই দেশ থেকে তাড়াতে। কিন্তু গ্রামে থেকে তা কখনোই সম্ভব নয় আর এদিকে তার বাবা মা কখনো রাজি ছিল না তার ছেলে কোন স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে যুক্ত হোক। একদিন সে তার পথ বেছে নিলো। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বোম্বে পালিয়ে জাহাজ রং করার কাজ শুরু করল শ্রমিক হিসাবে। কিন্তু এখানেও তার মন টিকলো না, সে ভাবলো তাকে পেট চালাবার জন্য যদি এই কাজ করতেই হয় তাহলে গ্রামে চাষবাস করে জীবন যাপন অনায়াসে চলে যেত।

এরপর সেই কাজ ছেড়ে কাশির একটি সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হয়। তখন বিভিন্ন পত্রিকায় ইংরেজদের অত্যাচারের কথা তিনি জানতে পারতেন। ১৯১৯ সালে জালিয়ান ওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের পরে শুরু হয় গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলন। তিনিও এই আন্দোলনে সামিল হয়ে ইংরেজদের হাতে ধরা পড়েন। তিনি বয়সে সবার থেকে ছোট ছিলেন বলে তার সাজা হয় ১৫টি বেতের বারি।

তখন তার বয়স (১৪) খুবই অল্প! এই বয়সে যেকোনো বালকের ১৫ ঘা বেতের বারি সহ্য করার মত ক্ষমতা থাকে না। এরপর ব্রিটিশ অফিসার তাকে জিজ্ঞেস করেছিল তার নাম, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন “আজাদ”, তার বাবার নাম “স্বতন্ত্র”, তার ঠিকানা “জেল”। যা শুনে সকল ব্রিটিশ কর্মচারীরা প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ১৫ বার বেতের বারি মারে। তার মুখ থেকে উঃ আঃ এরকম কোন আওয়াজ বের হয়নি! তাকে যত বার ঘা দেওয়া হয়েছিল তার মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছিল “ভারত মাতা কি জয়”, “বন্দে মাতরম”।

প্রতিটি ভারতবাসীকে তার এই দেশপ্রেম প্রভাবিত করেছিল। আর সেই থেকে তার নাম হয়ে যায় চন্দ্রশেখর তিওয়ারি থেকে চন্দ্রশেখর আজাদ। এরপর তিনি উত্তরপ্রদেশের হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। এখান থেকে সমস্ত বিপ্লবীরা মিলে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার মশাল জ্বেলেছিলেন যার ফলস্বরূপ আজকে আমরা স্বাধীন ভারতে বাস করছি।

Close