মাইন ইন্ডিয়া ডেস্কঃ কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে হতাশ করে ভারতের পাশেই দাঁড়াল প্রতিবেশি চিন৷ আগামী সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপংয়ের বৈঠকের প্রাক্কালে কাশ্মীর ইস্যুতে অবস্থান বদল করল বেজিং৷ মঙ্গলবার বেজিং বলেছে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পারিস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা উচিত৷ প্রসঙ্গত, বর্তমানে চিন সফরেই রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ ঠিক তাঁর সফরের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করায় রীতিমতো চাপে পড়ল ইমরান সরকার৷

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে কাশ্মীরের বিষয়ে চিনের মনোভাব দেখে পাকিস্তান ব্যাপকভাবে উৎসাহ পেয়েছিল৷ মনে জোর পেয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ কিন্তু, সেই কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে পাক সেনাপ্রধানকে সঙ্গে নিয়ে ইমরানের চিন সফরের মধ্যেই বেজিংয়ে মত বদল করায় হতাশ পাকিস্তান৷পাশাপাশি বেজিং এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা ইমরানের খানের এই সফরকে কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না৷

এর আগে চিন বলেছিল, এই বিষয়টিকে রাষ্ট্রসংঘের সনদ, রাষ্ট্রসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রস্তাবসমূহ এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় দেখে নেওয়া উচিত। চিনা মনোভাবের পরিবর্তনটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওপর কূটনৈতিকভাবে চড় খাওয়ার মতো৷ ইমরান বেইজিংয়ে কাশ্মীরসহ বেশ কয়েকটি এজেন্ডা নিয়ে জিন জিনপিংয়ের কাছে আবেদন জানাতে এসেছিলেন। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জেং শুয়াং যখন ইমরানের চিন ও কাশ্মীর সফর নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন যে “কাশ্মীর ইস্যুতে চিনের অবস্থান সুস্পষ্ট এবং অভিন্ন৷ আমরা ভারত ও পাকিস্তানকে কাশ্মীর-সহ সমস্ত ইস্যুতে আলোচনা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি৷ তবে চিনের মুখপাত্র বেজিংয়ের নয়া অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি।

চিনের রাষ্ট্রপতি কয়েক দিন পরে ভারত সফর করবেন৷ তার আগেই কাশ্মীরের বিষয়ে চিন তার অবস্থান পরিবর্তন করে৷ প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন৷ রাষ্ট্রপতি জিনপিংয়ের ভারত এবং সম্ভবত নেপাল সফর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিন ঘোষণা করবে। জিনপিং-মোদী বৈঠকের কারণে চিনের মনোভাবের পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ কারণ, ইউএন জেনারেল অ্যাসেমব্লিতে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

তারপরে তিনি বলেছিলেন, ‘কাশ্মীর ইস্যুটি রাষ্ট্রসংঘের সনদ, সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রস্তাবসমূহ এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ ও যথাযথভাবে সমাধান করা উচিত।’ তবে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, উভয়ই বিশ্বের দু’টি বড় উন্নয়নশীল দেশ এবং বিশাল উদীয়মান বাজার। আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা প্রসারিত করছি এবং আমাদের পার্থক্যগুলি সঠিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করছি।