কলকাতার সমুদ্র ছেড়ে দিঘার সমুদ্র দেখতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী, শেষে একা একাই ঘুরলেন তিনি

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে রয়েছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা। তার ওপর প্রশাসনিক কাজের চাপ রয়েছেই।  এরই মাঝে সোমবার থেকে তিনদিনের দিঘা সফরে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আর দিঘায় এসে মনটাকে হাল্কা করতে একটু নির্জনতার ছোঁয়া পেতে কার না ইচ্ছে করে। এই নির্জনতার সন্ধানে এক্কেবারে ভোর রাতে সমূদ্র সৈকতে নেমে পড়লেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।

File Pic

ভোর প্রায় ৩টে নাগাদ একমাত্র দেহরক্ষীকে সঙ্গে নিয়েই ওল্ড দিঘার সৈকত আবাস হোটেল থেকে বেরিয়ে সমূদ্র সৈকতে হেঁটে বেড়ালেন তিনি। যা ঘুনাক্ষরেও টের পেলেন না দিঘায় আসা পর্যটকেরা বা মুখ্যমন্ত্রীর অনুরাগীরাও। উল্টে মুখ্যমন্ত্রী দিঘায় এসেছেন খবর পেয়ে বহু মানুষ সকাল থেকে তাঁকে একঝলক দেখার জন্য ওল্ড দিঘার সমূদ্র পাড়ে ভীড় জমাচ্ছেন। সংবাদ মাধ্যমও একই আশায় ভীড় জমিয়ে রেখেছেন। এই মুহুর্তে এমনিতেই দিঘায় উপচে পড়েছে পর্যটকদের ভীড়। তবে সবার আশায় জল ঢেলে মুখ্যমন্ত্রী যে ভোর রাতে সমূদ্রের নিরিবিলি সৈকতে ঘুরে বেড়ালেন তা টের পেলেন না কেউই।

File Pic

প্রথমবার সরকারে এসেই নিজের তিনটি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন দিদি। জানিয়েছিলেন, কলকাতা হবে লন্ডন, দার্জিলিং হবে সুইৎজারল্যান্ড আর দিঘা হবে গোয়ার মতো। নিন্দুকেরাও স্বীকার করে নেন, গত আট বছরে দিঘার ছবিটাই আমূল বদলে দিয়েছেন দিদি। সৈকতনগরীর সৌন্দর্যায়নে কয়েক কোটি টাকা ঢেলেছে রাজ্য। মঙ্গলবার সেই দিঘাতেই অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টার উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “আগে লোকে সপ্তাহ শেষে দিঘায় আসত। এখন এভরি ডে ইজ বিজি ডে। লোকে কাশ্মীর যেতে পারছে না। অন্য কোথাও যেতে পারছে না। সবাই দিঘায় আসছে। শর্ট ডিস্টেন্সে বিউটিফুল ডেস্টিনেশন।”

File Pic

ওই কনভেনশন সেন্টারে শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে আসার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। জানান এখানে রয়েছে ৬৩টি রুম। সেমনার বা সম্মেলনের জন্য এলেই ‘কমপ্লিট’ প্যাকেজ মিলবে। তাঁর কথায়, “এটা বুক করলে সমুদ্র ফ্রি। সমুদ্র ফ্রি মানে নিঃশ্বাস ফ্রি। নিঃশ্বাস ফ্রি মানে পরিবেশ ফ্রি। আর পরিবেশ ফ্রি মানেই স্বাস্থ্যশ্রী।” মুখ্যমন্ত্রী এই কনভেনশন সেন্টারের নাম দিয়েছেন ‘দিঘাশ্রী।’

File Pic

দিঘার সৌন্দর্যায়ন আরও কী ভাবে বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারেও নিজের পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা এ দিন বলেন, “আগামী দিনে আমার ইচ্ছে আছে যাতে দিঘার সমুদ্রে সি প্লেন নামানো যায়। এখানে অনেক গাড়ি আসে। সেগুলিকে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক মানের দুটি পার্কিং প্লাজাও তৈরি হবে।” পুরীতে যেমন সমুদ্রের সঙ্গে পর্যটকদের বাড়তি টান জগন্নাথমন্দির। তেমনই দিঘাতেও জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের কথা বলেন মমতা। তাঁর কথায়, “প্রতিটা ট্যুরিস্ট স্পটের সঙ্গেই একটা ধর্মীয় স্থান থাকে। এখানে একটা জগন্নাথ ঘাট আছে। আমরা ওখানে একটা জগন্নাথ মন্দির তৈরি করব।”

File Pic

তবে বিরোধী এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রলারেরা মমতা ব্যানার্জীর দিঘা সফর নিয়ে কটাক্ষ এবং ট্রল শুরু করে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন একটাই কথা, মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কলকাতাতেই এখন সমুদ্র দেখা যাচ্ছে। তাহলে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সমুদ্র দেখার জন্য এত দূরের কেন সফর করছেন?

Related Articles