পুলিশ তৃণমূলের চামচা, আমরা ক্ষমতায় এলে বৌ-বাচ্চাদের মুখ দেখতে দেব না! ফের বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

চায়ের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির যেন গভীর যোগাযোগ। দেশের প্রধানমন্ত্রী এককালে চা বেচতেন বলে দাবি। ‘চায়ে পে চর্চা’ নামক অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছেন তিনি। তাঁর দলের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও বিভিন্ন জায়গায় চা-চক্রে যোগ দেন। রবিবার পানিহাটি পৌরসভার অন্তর্গত বোর্ডঘর এলাকায় তেমনই এক চা-চক্রে যোগ দিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করে গেলেন তিনি।

এদিন তিনি বললেন, তাঁদের ইচ্ছা নেই রাজ্যে ক্ষমতায় আসার। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা, নীতি এবং গণতন্ত্রের যে দুর্দশা হয়েছে তা সঠিক করতেই ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। তিনি বললেন, এখন চাকরি বাঁচাতে এবং প্রোমোশন পেতে আইএস, আইপিএসদের দিদির সঙ্গে ধর্না দিতে হয়। কলেজের ভাইস চ্যান্সেলরদের চাকরি বাঁচাতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাস্তায় ধর্না দিতে হয়। ‘যদি তাদেরই ধর্না দিতে তো হয় তো আপনি কী আশা করতে পারেন, এখানে শিক্ষা বলে কিছু আছে, আইন, নীতি, গণতন্ত্র বলে কিছু আছে?’, প্রশ্ন দিলীপ ঘোষের। এই সব কিছু ফিরিয়ে আনতেই লড়াই করছে বিজেপি, না হলে ক্ষমতায় আসার ইচ্ছা ছিল না, দাবররাজ্য সভাপতির।

দিলীপ এও জানালেন, ইচ্ছা থাকলেও মমতার মতো ‘ছলচাতুরী’ করে আগেই ক্ষমতায় আসতে পারত তাঁর দল। দেশে, রাজ্যে, কেন্দ্রে এমন সরকার বহু হয়েছে বলে তাঁর মত। এ প্রসঙ্গে পিভি সিং, দেবেগৌড়া, চন্দ্রশেখর, ইন্দ্রকুমার গুজরালের নাম নিয়ে বললেন, এরাও একসময় প্রধানমন্ত্রী হয়েছে, কিন্তু কেউ মনে রাখেনি। মনে রেখেছে অটলবিহারী বাজপেয়ীকে। ‘আমরা উন্নয়ন করতে চাই, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই’, বললেন দিলীপ। এ প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর ঙ্কথা তুলে বললেন, প্রধানমন্ত্রী ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’-এর কথা বলেছেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকে গরিব মানুষের সেবা করেছেন, দাবি দিলীপের।

হুমকি দিতেও পিছপা হলেন না দিলীপ। বললেন, যারা এখন ইঞ্চি সাইজের ফুট সাইজের নেতা আছেন (তৃণমূলের)  খুব চমকাচ্ছেন, তাঁদের হিসেব রাখা হচ্ছে। সব কড়ায় গণ্ডায় মিটিয়ে দেওয়া হবে।আর যে সমস্ত পুলিশ এই নেতাদের চামচাগিরি করে পকেট ভরছে, আনন্দে আছে, তাঁদের আনন্দ বেশিদিন নেই। একবছর পরে কোথায় যেতে হবে তা এখনই ভেবে রাখতে বললেন দিলীপ। এমনকী হুমকি দিয়ে বললেন, ‘বউ বাচ্চার মুখ দেখতে দেব না। দুর্নীতি করে ছেলেমেয়েকে বাইরে পড়তে পাঠিয়ে লাভ নেই। ডাক্তারও হবে না ইঞ্জিনিয়ারিংও হবে না, পরিযায়ী শ্রমিক করে ছাড়ব। বিজেপি করা যদি পাপ হয় তো আবার করব, কতজনকে অ্যারেস্ট করে দেখে নিচ্ছি।’