‘গুলি করে মারা উচিত’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই বিতর্ক থামতে না থামতেই ফের বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। তাঁর দাবি, ‘দেশে দেশদ্রোহীদের সব থেকে বড় ঘাঁটি বাংলা’। মেদিনীপুরের খড়গপুরে একটি সভায় গিয়ে একথা বলেন দিলীপ বাবু। এদিন দিলীপবাবু বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন বন্দেমাতরম, জয় হিন্দ বলা হয় না। সেখানে এখন বলা হয় ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। দেশে দেশদ্রোহীদের সব থেকে বড় গড় হয়ে উঠেছে পশ্চিমবাংলা।

গত রবিবার নদিয়ায় এক জনসভায় তিনি ক্যা-র বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ‘কুত্তার মতো গুলি করে মারার’ নিদান দেন। তিনি বলেন, ‘অসম, উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটকে বিক্ষোভকারীদের কুকুরের মতো গুলি করে মেরেছে পুলিশ। আমাদের এখানে ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ভাঙচুর করলেও পুলিশ একটা গুলি চালায়নি।’ এর পরই দিলীপবাবু বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এলে এদের একই ভাবে মারব।’

এই নিয়ে টুইটারে দিলীপবাবুর বক্তব্যের সমালোচনায় সরব হন বিজেপির মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তিনি বলেন, ‘কোনও রাজ্যে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়নি বিজেপি পরিচালিত কোনও রাজ্য সরকার। দিলীপবাবুর মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে দলের সম্পর্ক নেই।’

এদিনের ‘দেশদ্রোহীদের আখড়া’ মন্তব্যের পর দিলীপ ঘোষের সমালোচনায় সরব হয়েছে তৃণমূল ও সিপিএম। তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, দিলীপবাবু রাজনীতির লোক নন। উনি কী বলছেন নিজেই জানেন না। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর দাবি, দিলীপ ঘোষকে যে দল রাজ্য সভাপতির চেয়ারে বসিয়েছে সেই দলটার কী অবস্থা একবার ভাবুন।