কলকাতাবাসীর জন্য আজ খুশির দিন। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর উদ্বোধন করলেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের মডেল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আধিকারিকদের কাছ থেকে বুঝতে দেখা যায় রেলমন্ত্রীকে। স্টেশন ঘুরে দেখেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

তবে রাজ্যের তরফে কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। ছিলেন না শাসকদলের কোনও নেতাও।  প্রসঙ্গত, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ না জানানো-জানানো ইস্যুতে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অনুষ্ঠান বয়কট করে রাজ্য। সেই প্রসঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাবুল সু্প্রিয় বলেন, “রাজ্যের কেউ থাকলে ভালো লাগত।” প্রাথমিক পর্যায়ে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে করুণাময়ী পর্যন্ত চলবে ট্রেন। কাল থেকে শুরু হবে যাত্রী পরিষেবা।

এদিন পীযূষ গয়াল বলেন, “কলকাতা আসলে খুশি লাগে। বাবুল সারাক্ষণ কলকাতায় আসতে বলে। এখানকার রেল প্রকল্পগুলির জন্য। পশ্চিমবঙ্গে আসতে ভালো লাগে কারণ এটা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দেশ।”

পাশাপাশি, “২০০৯-এ কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু রুট পরিবর্তনের দাবির জেরে ৩ বছর কাজ বন্ধ ছিল। এটা দুর্ভাগ্যজনক। ৩ বছর দেরির জন্য কাজের খরচ বেড়ে গিয়েছে,” বলে তোপ দাগেন রেলমন্ত্রী। আরও বলেন, ” সবথেকে বেশি যেসব প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে, তার মধ্যে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো অন্যতম। স্থানীয় সমর্থন পেলে দ্রুত কাজ করতে পারব।”

রাজ্য সরকারের কাছে সহযোগিতার দাবি করেন রেলমন্ত্রী। বলেন, “কিছু জায়গায় জমি সমস্যা আছে। কিছু জায়গায় রাজ্য সরকারের সাহায্য দরকার। আশা করব, সরকার সাহায্য করবে। ভালো সাহায্য পেলে বাকি মেট্রো প্রকল্পগুলি তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারব।” মেট্রো প্রকল্প দেখভালের দায়িত্ব বাবুল সুপ্রিয়কে অর্পণ করেন রেলমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর জন্য বলেন বাবুলকে। ভারতীয় রেলের পাশে থাকার জন্য বাবুল সুপ্রিয়কে ধন্যবাদও জানান পীযূষ গয়াল।

রেলমন্ত্রী বলেন, “আরও বেশকিছু প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে আনতে চাই। কিন্তু আনতে পারিনি।” বর্তমান সরকার অনুমতি দেবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “আমি আশা করব অবস্থার পরিবর্তন হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগেও রেলমন্ত্রী ছিলেন।”

বক্তব্য শেষে ফ্ল্যাগ নেড়ে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর যাত্রার শুভ সূচনা করেন পীযূষ গয়াল ও বাবুল সুপ্রিয়।