পাকিস্তান, চীনকে বড় ধাক্কা দিল ফ্রান্স! ফ্রান্স বাজেয়াপ্ত করবে মাসুদ আজহারের সমস্ত সম্পত্তি।

0
47

চিনের সাহায্য নিয়ে বার বার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ তকমা থেকে বেঁচে গেলেও মাসুদ আজাহারের বিরোধিতা করতে মরিয়া বিশ্বের অন্যান্য শক্তিশালী  দেশগুলি। এই নিয়ে চারবার চিন পাশে থাকায় বেঁচে গিয়েছে পাকিস্তানের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গী মাসুদ আজাহার। আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারত সহ একাধিক দেশ রাষ্ট্রসংঘে মাসুদ আজাহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ তকমা দেওয়ায় সায় দিলেও চিনের জন্য রাষ্ট্রসংঘে স্থগিত থেকেছে সেই প্রস্তাব। কিন্তু তাতেও ছাড় পেলেন না মাসুদ আজাহার। তাকে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ফেলতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে ভারতের পাশে থাকা দেশগুলি তার প্রমান মিলল। এবার জইশ-ই-মহম্মদ প্রধানের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিল ফ্রান্স। শুক্রবারই ফ্রান্সের পক্ষ থেকে মাসুদ আজাহারের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।

ফ্রান্সের আভ্যন্তরীন মন্ত্রক, অর্থমন্ত্রক ও বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে সেই বিবৃতিতেই মাসুদ আজাহারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। যদিও মাসুদ আজাহারের বিরুদ্ধে এর থেকে আরও বড় পদক্ষেপ নিতে চায় ফ্রান্স। রাষ্ট্রসংঘে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ তকমা পাওয়া থেকে রেহাই পেলেও ফ্রান্স চাইছে মাসুদ আজাহারকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জঙ্গীদের তালিকায় নাম তুলতে। প্রসঙ্গত, 1999 সাল থেকে পাকিস্তানের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছেন মাসুদ আজাহার। তারপর থেকেই সমস্ত জঙ্গী কার্যকলাপে মদত দিয়ে চলেছেন তিনি। গড়ে তুলেছেন একটি জঙ্গী সংগঠনও। যার সদস্য সংখ্যা অনেক। আর তারপর থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিকবার জঙ্গী কার্যকলাপ করে চলেছে। ভারতের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও তাতে আমল দেয়ানি ইমরান সরকার। প্রাক্তন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও মাসুদ আজাহার প্রসঙ্গ বারবার এড়িয়ে গেছে। আর তা থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্রমশই খারাপ হয়েছে।

বেশ কয়েকবার ভারতের জঙ্গীহানা চালিয়েছে জইশ জঙ্গি সংগঠন। তার জ্বলন্ত উদাহরন কিছুদিন আগেই দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জঙ্গী হানা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে জইশ গোষ্ঠীর জঙ্গীহানায় যেভাবে ভারতের সেনা জওয়ানরা শহীদ হয়েছেন তাতে ক্রমশই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। প্রথমে স্বীকার না করলেও চাপের মুখে জইশ জঙ্গি গোষ্ঠী হামলার কথা স্বীকার করে নেয়। আর তারই ফলস্বরূপ বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক করে ভারতীয় বায়ুসেনারা। ভারতের ওপর জঙ্গীহানার ঘটনার জেরে পাকিস্তানের ওপর অন্যান্য দেশ থেকেও চাপ আসতে শুরু করে। মাসুদ আজাহারকে আবারও আন্তর্জাতিক জঙ্গী ঘোষনার দাবি উঠতে থাকে রাষ্ট্রসংঘে। এই নিয়ে যদিও নিশ্চুপ ছিল পাকিস্তান। কিন্তু গোপনে চিনের সঙ্গে হাত করে তা থেকে মাসুদকে বাঁচিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তানের মতই চিনও তারপর থেকে তীর্যক দৃষ্টির তালিকায় আন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

শুধু ফ্রান্সই নয় এই মুহূর্তে আরও অনেক দেশ মাসুদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। আর বিশেজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই ভাবে সকল দেশ যে মাসুদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক বুদ্ধির জন্য।