ক্লাবে পাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তুমুল মারামারি, জখম কোষাধ্যক্ষ সমেত চার!

স্টাফ সাংবাদিকঃ  প্রতিদিনের মতই গতকাল দুপুরে ক্লাবে টিভি চালিয়ে চলছিল বিনোদন। হঠাৎই টিভি দেখতে দেখতে কেউ পাদ দিয়ে বসে। আর ব্যাস সেই নিয়েই শুরু হয় বচসা। নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার অন্ত্রগত কবিরহাট পৌরসভার যুব ঐক্য ক্লাবে তখন দুপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে কয়েকজন মেম্বার টিভির সামনে বসে খবর দেখছিলেন। তখন ক্লাবের এক মেম্বার নুরুল হাসান হঠাৎই প্রকৃতির ডাকে সারা দিয়ে পাদ দিয়ে ফেলেন। সেটাই পোষায়নি ক্লাবে উপস্থিত থাকা কয়েকজন সদস্যের।

প্রথমে নুরুলের সাথে তাঁরা তর্কাতর্কি শুরু করে। নুরুল পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে প্রথমেই নিজের ভুল স্বীকার করে নেয়, কিন্তু ওই ক্লাবের একজন সদস্য মোঃ কামরুল যিনি আবার নুরুলের চির শত্রু বলেই পরিচিত, তিনি এই ব্যাপারটিকে সহজেই ছেড়ে দিতে চাননি, তাই তিনি বারবার নুরুলের সাথে বিতর্ক সৃষ্টি করতে চাইছিলেন। নুরুলকে একা পেয়ে কামরুল বেশ রোয়াব ঝাড়ছিলেন। তখনই ক্লাব ঘর থেকে নুরুল তাঁর বন্ধু তথা ক্লাবেরই সদস্য এনামুল, হাফিজুল আর আসিফকে ফোন দিয়ে ডেকে নেন।

ওরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতেই সাহস বাড়ে নুরুলের। তখন নুরুলও নাছোড়বান্দা হয়ে পড়ে। আরেকদিকে কামরুলও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র না। ওই মুহুরতে ক্লাব ঘরে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ বাপ্পি হুসেইন। তিনি দুজনকে থামানোর চেষ্টা করলেও তাঁরা কেউ থামার প্রয়োজন মনে করেনি। তখনই নুরুল রেগে আরও একবার ক্লাব ঘরের মধ্যে পাদ দিয়ে দেয়। ব্যাস আর দেখে কে? সাথে সাথে কামরুল নুরুলের গায়ে হাত তোলে, আর নুরুল এবং নুরুল পন্থীরাও চুপচাপ বসে না থেকে শুরু করে দেয় হাতাহাতি।

তাঁদের ঝগড়া থামাতে গিয়ে কোষাধ্যক্ষ বাপ্পি হুসেইন আক্রন্ত হন। এই দুই পক্ষের এই সংঘর্ষে কোষাধ্যক্ষ বাপ্পি হুসেইন সমেত মোট চারজন আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ এসে নুরুল আর কামরুলকে ধরে নিয়ে যায়। পাদ দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র করে এই ঝামেলার জেরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।

Related Articles