fbpx
দেশনতুন খবরপশ্চিমবঙ্গ

বাংলায় বেচাল রুখতে এবারের লোকসভা নির্বাচন হবে ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবথেকে সুরক্ষিত। থাকছে ভয়ংকর সিকিউরিটি।

রবিবারই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাত দফার নির্বাচনের সময় সূচি ঘোষনা করা হয়েছে। তবে এই সাত দফা নির্বাচনে যাতে কোনো অসুবিধা বা কোনো বুথে অপ্রীতিকর পরিস্থিত না তৈরি হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি ও পুলিশি ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশনে বাংলাকে বাদ দিয়ে লোকসভা নির্বাচন করার জন্য আবেদন করেছিলেন রাজ্যে একাধিক বিজেপি নেতৃত্বরা। তাই সেই কথা মাথায় রেখে বাংলায় যাতে নির্বিঘ্নে ভোট হতে পারে সেই বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশার সুনীল আরোরা। পাশাপাশি নাম না করেই বাংলায় ভোট সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন নির্বাচন কমিশনার। একঝলকে দেখে নেওয়া যাক আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে-

পুলিশ পর্যবেক্ষক- বেশ কয়েকদিন আগে রাজ্যের বিজেপি নেতাদের বাংলায় নির্বাচন নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হওয়াকে কেন্দ্র করে নড়েচড়ে বসেছিল কমিশন। এবার শোনা যাচ্ছে বিজেপি নেতাদের আবেদন অনুযায়ী প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রে স্পর্শকাতরতার ভিত্তিতে জেলা বা রাজ্যস্তরের পুলিশ বাহিনী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে কমিশনের পক্ষ থেকে। নির্বাচন অবাধে করার জন্য নির্বাচন কমিশন-প্রশাসন ও পুলিশ একসঙ্গে কাজ করবে।
অন্য রাজ্য থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ- যেসমস্ত রাজ্যের নির্বাচনী কেন্দ্রে সমস্যার কথা শোনা যায় সেগুলিতে অন্য রাজ্য থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। সেই সমস্ত পর্যবেক্ষকদের সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ থাকবে না। তবে এই পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনেক নিয়ম মানতে হবে। কারণ, প্রশাসনিক অভিজ্ঞ ও দক্ষ পর্যবেক্ষকদেরই নিয়োগ করা হবে। কোন রাজ্যে কোন রাজ্যের পর্যবেক্ষক আসবেন তা প্রকাশ্যে জানানো হবে না।

রুট মার্চ ও এরিয়া ডমিনেশন- ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা প্রবেশ করতে পারছেন না এ অভিযোগ নতুন নয়। তাই এবারের নির্বাচনে সেই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না করতে ভোট কেন্দ্রে নির্বিঘ্নে ভোটারদের প্রবেশ নিয়ে তৎপর হয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের দুদিন আগে এলাকায় আধাসামরিক বাহিনী দিয়ে রুট মার্চ চালানো হবে। এমনকি ভোটের সময় পাড়ায় পাড়ায় ঢুকে রুট মার্চ চালাবেন কেন্দ্রীয় সরকারের আধাসামরিক বাহিনীরা। যেসমস্ত এলাকায় ভোট ছাপ্পারের অভিযোগ থাকে এবারে সেরকম ঘটনা ঘটলে ব্যাপক ধারপাকড় হতে পারে বলে আশঙ্কা।
মাইক্রো অবসার্ভার- এবারের ভোটে সমস্যা হয় এমন কেন্দ্র গুলিতে মাইক্রো অবসার্ভারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। কোথাও কোনো সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাইক্রো অবসার্ভারের মারফত প্রতি সেকেন্ডের রিপোর্ট যাবে জেনারেল অবসার্ভারের কাছে।

প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভোটগ্রহনে বিশৃঙ্খখলার সৃষ্ট হয়েছিল, তাতে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুষ্ঠ ভোট হয়নি বলে অভিযোগ করেছিল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বরা। অনেক ভোটারকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্ন ভোট গ্রহন কেন্দ্রে শাসক দলের লোকেদের দাদাগিরির অভিযোগও ছিল। এমনকি নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তাই আসন্ন নির্বাচনে যাতে সেধরনের অভিযোগ না ওঠে তাই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।

Close