যদি আপনি শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকে লেখা ইতিহাস পড়েন তবে সারাগাড়ির যুদ্ধ (Saragarhi Battle)সম্পর্কে জানবেন না। এক দিকে ১২ হাজার আফগান তো অন্য দিকে মাত্র ২১ জন শিখ সৈন্যের বিশাল যুদ্ধ। তবে এই সব ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে পোড়ানো হয় না কারণ এই ইতিহাস জানলে বামপন্থী ও ভারত বিরোধীদের ষড়যন্ত্র সফল হবে না। ভারতীয় সমাজের পরিস্থিতি এখন এমন যে, রামায়ণ মহাভারতকেও কাল্পনিক কাহিনী মনে করে। বামপন্থীরা সবক্ষেত্রে এমন ভেজাল ঢুকিয়েছে যে ভারতীয়রা ভুলেই গেছে তাদের আসল ইতিহাস রাম, কৃষ্ণের সাথে জড়িত। তবে সেই ইতিহাস তো দূর, সম্প্রতি দশকগুলিতে হওয়া ইতিহাস সম্পর্কেও ভারতীয়দের ভুল তথ্য পড়ানো হয় অথবা আসল ইতিহাস লুকিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনা আজকের দিনের ১২ ই সেপ্টেম্বর ১৮৯৭ সালের যখন নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার স্টেটে ১২ হাজার আফগান সেনা হামলা করে দিয়েছিল। আফগান সেনা গুলিস্তান ও লকহার্ড কেল্লার উপর কব্জা করতে চেয়েছিল। এই কেল্লাগুলিকে মহারাজা রণজিৎ সিং তৈরি করেছিলেন। এই কেল্লাগুলির কাছে সারাগাড়িতে একটা সুরক্ষা চেকপয়েন্ট ছিল। এখানে ৩৬ তম শিখ রেজিমেন্টের ২১ জন জওয়ান নিযুক্ত ছিল। এই রেজিমেন্টের সকলে শিখ ছিলেন এবং সকলে রাজ রণজিৎ সিংয়ের এলাকা থেকে ছিলেন। ১২ হাজার আফগান সেনাকে এগিয়ে আসতে দেখে ২১ জন শিখ জওয়ান বুঝে যান যে যুদ্ধ করে পারা যাবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন। এই যুদ্ধ সারাগাড়ির যুদ্ধ নামে পরিচিত।

যুদ্ধ এত ভীষণ হয় যে এই লড়াই ৫ টি মহানতম যুদ্ধের মধ্যে সামিল হয়ে যায়। লড়াইতে শিখ সেনারা এত বীরত্ব দেখায় যে ২৪০০ আফগান সেনা মারা পড়ে। পুরো আফগান সেনাকে রক্ত স্নান করিয়ে দেয় ভারতের বীররা। শিখ সেনার বীরত্বের সামনে আফগান সেনা হাঁটু গেড়ে বসে এবং শেষমেষ শিখ সেনারা বলিদান দিয়ে কেল্লার রক্ষা করে। শিখ সেনার এই সাহসিক যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধ হয়ে পড়ে। সেই সময় বহু দেশে শিখ সেনার এই বীরত্বকে সন্মান জানানো হয়েছিল। ইউরোপ সহ বহু দেশে ছাত্রদের এই লড়াই পোড়ানো হয় তাদের সাহস ও বীরত্বকে বৃদ্ধি করার জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় ভারতের ইতিহাস থেকে ষড়যন্ত্র করে এই ইতিহাসকে মুছে ফেলা হয়েছে। আজ ভারতে সেই সব ইতিহাস পোড়ানো হয় যাতে ভারতীয়দের ভীতু ও কাপুরুষ বানানো যায়।