কেউ NPR এর তথ্য নিতে গেলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিনঃ মমতা ব্যানার্জী

গত সপ্তাহে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কর্মিসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের কেউ কেউ এনপিআর নিয়ে অন্তর্ঘাত করতে পারেন। বুধবার বাঁকুড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বলে দিলেন, বাড়িতে যদি কেউ তথ্য জানতে যায়, তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আমলা, আধিকারিক, প্রশাসনিক কর্তা থেকে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, “বাড়িতে কেউ যদি কোনও তথ্য জানতে যায়, তাকে বের করে দিন। কেউ কোনও তথ্য দেবেন না। বাংলায় আমরা ওসব করছি না।” সুনির্দিষ্ট করে মমতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নাম করেও যদি কেউ তথ্য জানতে চায় দেবেন না।”

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সিপিএম, কংগ্রেসের লোক আছে বলে প্রায়ই বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই কর্মীরাই সরকারের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। সেই প্রসঙ্গ ধরেই মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণনগরে বলেছিলেন, “রাজ্য সরকারের সব কর্মচারী আমাদের নয়। কেউ কেউ সিপিএম, কংগ্রেসের আছে। তারা একটা ফলস কাগজ তৈরি করেছে।” জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে মমতা বলেছিলেন, “বাংলার সরকারের নাম করে কেউ যদি আপনাদের কাছে গিয়ে তথ্য জানতে চায়, কেউ কোনও তথ্য দেবেন না। আমি বলে গেলাম আপনাদের।” সেদিন দলীয় সভায় সেকথা বললেও আজ সরাসরি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে দিলেন। এবং বলে দিলেন, এই ব্যাপারটা ভাল করে দেখুন।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, জনমানসে এনআরসি, এনআপিআর নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকেই কাগজপত্রের জন্য বিভিন্ন অফিস আদালতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। পশ্চিমবঙ্গ ল’ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম নেতা ফাল্গুনী চক্রবর্তী বলেন, গত কয়েকমাসে নাম, পদবি, জন্মের তারিখ, ঠিকানা ইত্যাদি নিয়ে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল হলফনামা তৈরি করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে গেছে। অনেকের মতে, সেই বিভ্রান্তিকে কৌশলে আরও বাড়িয়ে দিতে চাইছেন মমতা। যাতে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার সম্পর্কে একটা ভীতি তৈরি হয় এবং একুশের ভোটে তার রাজনৈতিক সুবিধা পায় তৃণমূল।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে বিজেপির মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব করে নৈরাজ্যকে ডেকে আনছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকে আটকে দেওয়ার কথা বলছেন সরকারি বৈঠকে। এই বিষবৃক্ষের ফল তাঁকেও ভুগতে হবে। একদিন ওঁকেও এই নৈরাজ্যের মুখোমুখি হতে হবে।”

Related Articles