সুন্দরী প্রতিযোগিতা জিতে গায়ে ভারতীয় সেনার উর্দি পড়লেন ভারতমাতার বীর কন্যা গরিমা। গর্বিত পুরো দেশ…

0
178

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কিছু না কিছু লক্ষ্য থাকে। কেউ চান বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা ওকালতি করবেন আবার কেউ চান দেশ মাতার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেবেন। আসলে প্রত্যেক মানুষের চাওয়া পাওয়াটা একেবারেই আলাদা। দেশের জন্য লড়াই করে দেশমাতাকে বাঁচানো, দেশবাসীকে বাঁচানো এগুলোর জন্য অবশ্য সাহসিকতা ও মানসিকতা, অধ্যাবসায় দরকার। পাশাপাশি দরকার পরিশ্রমেরও। ছেলেরা দেশরক্ষার কাজে যোগদান করলেও মেয়েদের কিন্তু খুব একটা এই কাজে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না। বর্তমানে যদিও কেউ কেউ এগিয়ে আসেন কিন্তু পরিশ্রম ও পরিবারের চাপে মাঝপথে স্বপ্ন ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে পড়েন না গরিমা যাদব। মেধাবী ও সৌন্দর্যের দিক থেকে তিনি অতুলনীয় তবুও তিনি গায়ে তুলেছেন ভারতের সেনা জওয়ানের পোশাক। দেশের মিস চার্মিং ফেস প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করার পর আর বিশ্বের দরবারে তাঁর সৌন্দর্যকে প্রকাশ করতে চাননি।

কারণ, সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় লড়াইয়ের থেকে তাঁর কাছে বড় হয়েছিল দেশের জন্য লড়াই করা। তাই নিজেকে সেই ভাবে প্রস্তুত করলেন। উত্তর ভারতের মেয়ে গরিমা যাদব। শিমলায় বড় হয়ে ওঠা। ছোটো থেকেই আর্মি স্কুলের ছাত্রী ছিলেন তিনি। বরাবরই মেধাবী বলে পরিচিত ছিলেন। স্কুল জীবন শেষ করে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে স্নাতক পাশ করার পর দেশের হয়ে কাজ করার অধ্যাবসায় চেপে বসে তাঁর মনে। এরপর শুরু হয় জোর কদমে প্রস্তুতি। কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিস পরীক্ষায় ভালো ফল করে গায়ে দিলেন আর্মি সেনার উর্দি। অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাদেমিতে পড়াশুনা চলাকালীনই তিনি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ সামলাতেন। সেই সুবাদে চার্মিং ফেস ইন্ডিয়ায় লড়াই করার সুযোগ পান তিনি। আর তাতেই বাজিমাত। প্রথম স্থান অধিকার করে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার জন্য ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ পান 2017 সালের নভেম্বর মাসে।

বরং মন দিয়ে পরবর্তী কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তারপর সেই পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অস্ত্র তুলে নেন তিনি। আর্মি অফিসার হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গরিমা জানিয়েছেন তাঁর মায়ের গর্বই তাঁর কাছে শেষ কথা। সব কাজে যেভাবে মাকে পাশে পেয়েছেন তাতে তিনি মায়ের জন্য গর্বিতও। আর সুন্দরী প্রতিযোগিতা ও কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন, সুন্দরী প্রতিযোগিতায় হঠাৎ করে যোগ দিলেও আর্মিতে যোগ দেওয়াটা তাঁর স্বপ্নের ছিল। আর্মি অফিসার হয়ে দেশের হয়ে কাজ করতে পারবেন এই ভেবে নিজেও খুব উছ্বসিত হয়েছেন বলে জানান তিনি। মায়ের পাশাপাশি দেশমাতাকে গর্বিত করা গরিমার নাম সত্যিই সার্থক হয়েছে। আর সেই জন্যই সুন্দরী মেয়ে থেকে হয়ে উঠলেন দেশ মাতার একজন দায়িত্বশীল সেবক। নিজের সুন্দর্যতার থেকে দেশ মাতাকে রক্ষা করাই তার কাছে বেশি সম্মানের।

আর উনার এইভাবে দেশের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে রয়েছেন তার মা এই কথা তিনি জানিয়েছেন। এবং তাঁর মা-ও জানিয়েছেন যে এই রকম মেয়েকে জন্ম দিয়ে তিনি নিজেও খুবই গর্বিত কারণ যে মেয়ে নিজের কথা না ভেবে দেশের কথা ভাবেন তার থেকে ভালো মেয়ে হয়তো আর হতে পারে না। এমনটাই ওনার মা জানিয়েছেন এবং এই জন্য তিনি যে বেশ গর্ব বোধ করেন সেটা তার কথার মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।