দেশভক্ত ব্যাবসায়ীদের বড় সিদ্ধান্ত, টমেটো আর পানের পর এবার পাকিস্তানে পাঠানো হবে না এই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষটি।

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গী হানার পর ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশবাসী। একদিকে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় রাস্তায় রাস্তায় চলছে মোমবাতি মিছিল, মৌন মিছিল। তার সঙ্গে চলছে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার। পুলওয়ামা জঙ্গীহানায় অভিযুক্ত জইশ জঙ্গীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এক হয়েছে দেশের মানুষ। কাশ্মীর হামলার প্রথম প্রতিশোধ শুরু হয়েছে চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার বালাকোট আক্রমনের মধ্যদিয়ে। যদিও সেটা সিনেমার ট্রেলর বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু এরপরই দেখা গেছে ভারতীয় বায়ুসেনাদের সাফল্যের জন্য দেশের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ভাবে সেটি পালন করছেন। তাই এবার পান, টম্যাটোর পর পাকিস্থানে মুসুরির ডাল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের চাষীরা। এযেন এক অভিনব প্রতিবাদ।

উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর, যে জায়গাটি মূলত মুসুর ডাল চাষের জন্যই বিখ্যাত। সেখান থেকে মুসুর ডাল পাঞ্জাব হয়ে পাকিস্থানে পৌঁছায়। কিন্তু এবার থেকে সেটি আর পাকিস্থানে যাতে না যায় সেই দিকে কড়া ব্যবস্থা নিতে চায় উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা। যদিও এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাকিস্থানে জল সরবরাহ নিষেধ করে দিয়েছিলেন। সেই অনুসারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি ভারতের তিন জায়গার জল যমুনা নদীতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। কাশ্মীর হামলার পরে পাকিস্থানে দেশ থেকে টম্যাটো ও পান সরবরাহ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। শোনা যায় পাকিস্থানে তারপর চড়া দামে টম্যাটো কিনতে নাজেহাল হয় দেশবাসী এমনকি পান সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর ডাল। এবার পাকিস্থানের অবস্থা কেমন হয় তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ভারতের সাধারণ মানুষ।
প্রসঙ্গত, বহু টানাপোড়েনর পর তিনদিন বাদে পাকিস্থানের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে দেশে ফিরেছেন কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান।

এমনিতেই পুলওয়ামা জঙ্গীহানার পর থেকে ভারত পাকিস্থানের সম্পর্ক অনুন্নত হতে শুরু করেছিল তারওপরে অভিনন্দনকে আটকে রেখে অত্যাচার চালানোর ঘটনায় আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে ভারত-পাক সম্পর্ক। তবে শোনা যাচ্ছে পাকিস্থানের বালাকোট হামলাতেই ক্ষান্ত নেই দেশের প্রশাসন। বিশ্ব থেকে সন্ত্রাস দমন করতে উদ্যত ভারত এখনি থেমে যাচ্ছে না। দিল্লীতে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞানীদের সভায় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন ল্যাবরেটরিতে পাইলট প্রজেক্ট তৈরি হয় তারপর তৈরি হয় আসল জিনিস। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী সন্ত্রাস দমনের জন্য আর কি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন, তা জানা শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে আস্তে আস্তে সমস্ত দিক থেকে ভারত পাকিস্থানের কাছ থেকে হাত গুটিয়ে নেওয়ায় সেদেশের অবস্থা যে সঙ্গীহীন হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য।

আর ভারতীয় কৃষকদের এই ভাবে একের পর এক সবজি পাকিস্তানে না পাঠানোর সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তান নাজেহাল হয়ে উঠেছে। না খেতে পেয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে সমস্ত পাকিস্তান জুড়ে। এখন দেখার বিষয় এই ভাবে আর কোন কোন দিক দিয়ে পাকিস্তান কে জব্দ করে পাকিস্তান।

Related Articles