পাক সীমান্তে একগুচ্ছ এয়ারক্রাফট নিয়ে এগিয়ে গেল ‘INS বিক্রমাদিত্য।’ যুদ্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে পাকিস্তান।

ফেরও ভারত-পাক সীমান্তে চরম উত্তেজনা। গত মাসে আকাশপথে ভারত-পাকিস্তানের যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা শুধু আকাশ পথেই নয় জলপথেও ছড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান যাতে এক পাও এগোতে না পারে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল ভারতীয় এয়ারক্রাফট কেরিয়ার আইএনএস বিক্রমাদিত্য। কোস্ট গার্ডের ভেসেল সহ মোট ষাটটি যুদ্ধজাহাজ আরব সাগরের জলসীমায় মোতায়েন করেছিল ভারত। এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে ভারত- পাকিস্তানের উত্তেজনার মধ্যেই রনতরী নিয়ে হাজির ছিল ভারত। যদিও সময়টা এখন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে। 7ই জানুয়ারী থেকে 10ই মার্চ অবধি নৌমহড়ার আয়োজন করে ভারত। কিন্তু, 14ই ফেব্রুয়ারী কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গীহানার ফলে সেই মহড়ায় ইতি টানতে বাধ্য হয়।

ভারত- পাকিস্তানের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মহড়া ছেড়ে জঙ্গি হামলার বদলা নিতে সাহায্য করতে ছুটে গিয়েছিলেন ভারতীয় নৌসেনারা। রবিবারই ভারতীয় নৌবাহিনীর তরফ থেকে একটি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে সমস্ত কিছু প্রকাশ্যে আনেন ভারতীয় নৌসেনা প্রধান সুনীল লাংবা। শোনা যাচ্ছে আইএনএস বিক্রমাদিত্যের একগুচ্ছ এয়ারক্রাফটের মধ্যে ছিল যুদ্ধজাহাজ, নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। পাকিস্তান যদি জলপথে আক্রমন করত তাহলে এক নিমেষে শেষ করা সম্ভব হত। আইএনএস বিক্রমাদিত্যের তরফ থেকে মোট ভারতীয় সেনাবাহিনীর একশো বাইশটি জাহাজ, কোস্টগার্ডের জাহাজ ও এয়ারক্রাফট মোতায়েন করা হয়। শুধু তাই নয় দেশের জলভাগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছিল। কড়া পাহাড়ায় ছিলেন নৌসেনারা। পাকিস্তানকে মাকরাব উপকূলের বাইরে পা না রাখতে পারার জন্য টহলদারি চালানো হচ্ছিল ভারতীয় নৌসেনাদের পক্ষ থেকে।

তাই জলপথে ঘোরাফেরার সাহস করতে পারেনি পাকিস্তান। এমনিতেই পুলওয়ামা জঙ্গী হানার ঘটনার পর জলপথে পাকিস্তান আক্রমনের ভয় পেয়েছিল সেদেশের সরকার। তাই সমস্ত ছোটো বড় বন্দর কিছুদিনের জন্য হলেও বন্ধ রেখেছিল। পাকিস্তানের করাচি সহ বেশ কয়েকটি বন্দর শহরে নিরাপত্তা কড়া ছিল। পাশাপাশি জারি করা হয়েছিল রেড অ্যালার্ট। সন্ধ্যে হলেই বন্দর শহরগুলিতে আলো নিভিয়ে রাখা হত। এমনকি বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় সর্বদা সেদেশের পক্ষ থেকে নজরদারি চালানো হত। অন্যদিকে ভারত সাবমেরিন দ্বারা আঘাত হানতে পারে খবর শুনে যথেষ্ট চিন্তিত হয়ে পড়েছিল পাক নৌসেনারা। কারণ, ভারতের বায়ুসেনাদের মতো নৌসেনারাও শক্তিশালী। যদিও যুদ্ধের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান আবারও আক্রমন করলে এবার ভারত অত্যাধুনিক সাবমেরিনের মাধ্যমে শত্রুদেশ পাকিস্তানের নৌসেনাদের ওপর আঘাত হানতে পারে।

আর এই খবর এই মুহূর্তে পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে গিয়েছে তাই শুধু পাকিস্তানই নয় চীন পর্যন্ত এই মুহূর্তে ভারতের নৌ-সেনাদের অত্যন্ত সমীহ করছে। কারণ চীন ভালোভাবেই জানে যে এই এয়ারক্রাফট গুলি ভারতীয় নৌসেনার সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে ভারতীয় নৌ-বাহিনী এই মুহূর্তে খুবই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই খুব সহজে ভারতের সাথে পেরে উঠবে না চীন ও পাকিস্তান সেটা তারা ভালভাবেই বুঝে গিয়েছে।

Related Articles