মাতাল ছেলের কুকীর্তির জন্য বাবুল সুপ্রিয়র কাছে ক্ষমা চাইল ক্যান্সারে আক্রান্ত মা! লজ্জায় মাথা হেট বামেদের

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ মানবিকতার উদাহরণ দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। গত বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) এবিভিপি ABVP এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। আর সেখানে বাম ছাত্র সংগঠন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপরে প্রাণঘাতী হামলা করে, ছিঁড়ে দেওয়া হয় ওনার জামার কলার। এমনকি ওনাকে চর ঘুষিও মারা হয়। তবুও নিজের সংযম খুইয়ে দেননি বাবুল সুপ্রিয়। ধৈর্য আর শান্তির সাথে সেদিন তিনি যাদবপুরের বাম ছাত্র দের মুখোমুখি হন।

যাদবপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপর হামলা হওয়ার পর এক ছাত্রের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব ভাইরাল হয়। ওই ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায় যে, বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্য দেবাঞ্জন বর্মন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র চুল ধরে ওনাকে মারার চেষ্টা করছে। মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয় সেই ছবি। এরপরই দেবাঞ্জন বর্মন এর কঠোর শাস্তি চেয়ে ফেসবুকে শুরু হয় একের পর এক পোস্ট। আরেকদিকে দেবাঞ্জন বর্মন ভয় পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজের প্রোফাইলই মুছে দেন।

বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলের করা কাণ্ডের খবর পৌঁছায় দেবাঞ্জন বর্মনে বাড়ি বর্ধমানেও। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল বয়েস স্কুলের ছাত্র ছিল দেবাঞ্জন। পড়াশুনায় মেধাবী না হলেও তাঁর বিরুদ্ধে সেরকম কোন গুরুতর অভিযোগ নেই বলেই জানিয়েছ দেবাঞ্জনের স্কুলের শিক্ষকেরা। আর এই ঘটনার কথা দেবাঞ্জনের বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। যতই হোক, একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গায়ে হাত দেওয়া চারটি খানি ব্যাপার না। আর সেই জন্যই তাঁদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়।

ইতিমধ্যে দেবাঞ্জনের মায়ের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। যেখানে ওনাকে হাত জোর করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র কাছে ছেলের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। আপনাদের জানিয়ে রাখি, দেবাঞ্জন বর্মণের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র কাছে দেবাঞ্জনের মায়ের সেই ভিডিওটি পৌঁছায়। এরপরই তিনি সেই ভিডিও ওনার ফেসবুক পেজে পোস্ট করে লেখেন, চিন্তা করবেন না মাসিমা – আমি কোনো ক্ষতি করবোনা আপনার ছেলের !! ওর ভুল থেকে ও শিক্ষ্য নিক এটাই চাই ! আমি নিজে কারো বিরুদ্ধে কোনো FIR তো করিইনি – কারোকে করতেও দিইনি – আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না – তাড়াতাড়ি সেরে উঠুন মাসিমা ! আমার প্রণাম নেবেন 🙏।” বাবুল সুপ্রিয়র এই ফেসবুক পোস্টের পর চারিদিকে ওনার খুব প্রশংসা হচ্ছে। আর হবেই বা না কেন? একজন জনপ্রতিনিধির এরকম আচরণই তো সবাই কাম্য করেন। বাবুল সুপ্রিয় এর ফেসবুক পোস্ট প্রমাণ করে দিলো যে, ওনার উপর হিংস্র ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে বলে, উনি অমানবিক হতে পারবেন না। 

Related Articles