এটাই পাঁচ বীর জওয়ানদের শেষ ছবি, যারা নিজের জীবন দিয়ে দেশকে আরও একটি বড় জঙ্গি হানা থেকে বাঁচিয়েছিলেন

কাশ্মীরের (Kashmir) বরফে ঢাকা হিমশীতল প্রান্তর। হেলিকপ্টার থেকে কমান্ডোদের (Commandos) স্পেশাল বাহিনীকে লাফিয়ে নামতে দেখা যাচ্ছে ওই নির্জন প্রান্তরে। ৪ এপ্রিল বেলা ১২.৪৫-এ তোলা হয়েছে ওই দৃশ্য। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন সেনা দাঁড়িয়ে রয়েছেন বরফে কোমর ডুবিয়ে। বাকিরাও একে একে নেমে পড়ছেন কপ্টার থেকে। সম্ভবত এই ছবিই ওই সেনাদের জীবনের শেষ ছবি। ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সময় এঁরাই গিয়েছিলেন অভিযানে। ছবিটি তোলা হয়েছিল ৪ এপ্রিল। আর একদিন পরে মিলল শহিদ পাঁচ সেনার মৃতদেহ। কিন্তু তার আগে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চারজন অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রে সুসজ্জিত জঙ্গিকে খতম করেছেন তাঁরা।

অন্তত দু’টি স্কোয়াডে বিভক্ত হয়ে ওই স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডোরা জঙ্গিদের খতম করতে অভিযানে গিয়েছিল‌েন। প্রথমে একসঙ্গে থাকলেও পরে তাঁরা দু’দলে ভাগ হয়ে যান জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে।

জঙ্গিদের খতম করার পর শহিদ হয়েছেন পাঁচ জন কমান্ডো। তাঁদের দেহ ছড়িয়ে ছিল খতম হওয়া জঙ্গিদের আশপাশেই। যা দেখে মনে করা হচ্ছে কমান্ডোদের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াই হয়েছিল।

জঙ্গিদের দলের পঞ্চম সদস্য, মনে করা হচ্ছে সে-ই ছিল এই দলটির গাইড, সে পালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রণরেখা টপকানোর আগেই তাকে ধরে ফেলে সেখানে মোতায়েন সেনারা।

১ এপ্রিল ‘রান্দোরি বেহাক’ নামের এই অপারেশন শুরু করে সেনা। নিয়ন্ত্রণরেখার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ওই জঙ্গিদের তল্লাশি চালাতে থাকে তারা। ৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে চারটেয় তারা তল্লাশি চালায়। আবার পরের দি‌ন ৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টাতেও চলে তল্লাশি।

জঙ্গিরা অচিরেই বুঝতে পারে সেনারা তল্লাশি শুরু করেছে। তারা নিজেদের সঙ্গে ভারী বিস্ফোরক সহ ব্যাগ সরিয়ে রেখে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

হেলিকপ্টার থেকে স্পেশাল ফোর্স নেমে এসে দুর্গম বরফে ঢাকা ওই অঞ্চলে জঙ্গিদের খুঁজতে শুরু করে। ৫ এপ্রিল দু’জন সেনা গিয়ে উপস্থিত হন সেখান‌ে, যেখানে জঙ্গিরা লুকিয়ে ছিল। শুরু হয় গুলির লড়াই।

নাম প্রকাশিত হয়নি এমন এক কমান্ডো বলেন, ‘‘আমাদের সেনাদের উদ্ধার করতে স্কোয়াডের বাকিরাও নীচে চলে যায়। ওর নীচে নামতেই জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। বিন্দুমাত্র ভাবনাচিন্তা না করে গুলি চালাতে থাকে সেনারাও। গুলিতে দু’জন জঙ্গি খতম হয়।”

যে সেনারা শহিদ হয়েছেন তাঁদের নাম সুবেদার সঞ্জীব কুমার, হাবিলদার দেবেন্দ্র সিংহ, সেপাই বাল কিষান, সেপাই অমিত কুমার ও সেপাই ছত্রপাল সিংহ।