একুশের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না ‘বুড়ো বামেরা” ট্র্যাডিশন ভেঙে চলছে নতুনের খোঁজ

ঐশী, শতরূপ, সায়নদীপ থেকে সৃজন। সিপিএমের সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকায় ‘স্মার্ট’ ও ‘ঝকঝকে’ মুখের সারি। চমক বলতে এটাই। সিপিএমের এক নেতার কথায়,’তৃণমূল-বিজেপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দল বাজি রাখছে ‘তারুণ্যের স্পর্ধায়’।

জেএনইউ-তে শাসক বিরোধী লড়াইয়ে ভূ-ভারতের মুখ হয়ে উঠেছেন ঐশী ঘোষ (Aishe Ghosh)। সেই ঐশীকে ভাবা হচ্ছে দুর্গাপুরের পূর্ব কেন্দ্রে। বরানগরের সম্ভাব্য প্রার্থী ডিওয়াইএফআই-র রাজ্য সম্পাদক সায়নদীপ মিত্র। বেহালা পূর্বের সম্ভাব্য প্রার্থী এসএফআই-র রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। কসবায় ফের প্রার্থী করা হতে পারে শতরূপ ঘোষকে। বালির সম্ভাব্য প্রার্থী দীপ্সিতা ধর। এসএফআই-র রাজ্য সভাপতি প্রতিকুর রহমানের নামও রয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়। টালিগঞ্জে প্রার্থী হতে পারেন দেবদূত ঘোষ বা বাদশা মৈত্র। ব্রিগেডে ঘোষকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল বাদশাকে।

শুধু যে তারুণ্যে জোর দেওয়া হচ্ছে, তা নয়! বরং অভিজ্ঞতার মিশেলও থাকছে প্রার্থী তালিকায়। মহম্মদ সেলিম প্রার্থী হতে পারেন হুগলির চণ্ডীতলার। যাদবপুরে ফের দাঁড়াচ্ছেন সুজন চক্রবর্তী। সুশান্ত ঘোষের মতো ‘মাস’ নেতাকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি শালবনীর সম্ভাব্য প্রার্থী। কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় এবং অশোক ভট্টাচার্যরাও নিজেদের কেন্দ্রে প্রার্থী হচ্ছেন। এবার সম্ভবত ভোট দাঁড়াচ্ছেন না সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। তেমনই বালুরঘাটে প্রার্থী হচ্ছেন না বিশ্বনাথ চৌধুরী।

তৃণমূল-বিজেপিতে ভোটের আগে একঝাঁক তারকা যোগ দিয়েছেন। সেদিকে ইঙ্গিত করে সুজন চক্রবর্তী বলেন,’যাঁরা মানুষের কথা বলে,তাঁরাই তারকা। আমাদের দলের হয়ে নাচলে-গাইলে টিকিট মিলবে, এমনটা আমাদের দলের ক্ষেত্রে হয় না।’

সিপিএমকে আকছার ‘পক্ককেশীদের দল’ বলে কটাক্ষ করে বিরোধীরা। ইদানীং, তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নবীনদের দেখা মিলছে। ব্রিগেডের মতো সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছেন ঐশীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বামমনস্কদের প্রাধান্য বৃদ্ধি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। লকডাউনেও সস্তার ক্যান্টিনের ব্যবস্থাপনায় দেখা গিয়েছে যুবা কমরেডদের। আবার ব্রিগেডের প্রচারে যেভাবে ‘টুম্পা’র প্যারোডি শেয়ার করেছেন সূর্যকান্ত মিশ্রের মতো নেতারা, তাতে বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। তাই নবীনের জয়গান সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকায়। সঙ্গে রয়েছেন সেলিম, সুজনের মতো অভিজ্ঞরাও। রাজনৈতিক প্রচারের ঢক্কানিনাদের মাঝে ‘কাঁচা’ ও ‘পাকা’র এই ককটেলই এবার ইউএসপি আলিমুদ্দিনের, বলছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।