এখনই ভোট হলে পশ্চিমবঙ্গে ৩০ টি আসন পেয়ে দেখিয়ে দেব, চ্যালেঞ্জ মুকুল রায়ের।

তিনি তৃণমূলের দল ভাঙার চেষ্টা করছেন- তাঁর বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ এনেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর দলের অন্দরে তাঁর বিরুদ্ধে কম অভিযোগ নেই। প্রায়ই প্রকাশ্যে কটাক্ষের শিকার হতে হয়, দেড় বছর আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অপরাধে লোকসভা ভোটের আগে মুকুল রায়কে নিয়ে কম তরজা হচ্ছে না। আবার অধীর রঞ্জন চৌধুরির বাড়িতে নৈশভোজের পর সেই বিতর্ক আরও বেড়েছে। বিতর্ক বাড়বে না কেন একদা মমতা ঘনিষ্ট মুকুল রায় তৃণমূল ছাড়ার পর একে একে তৃণমূলের হেভিওয়েরটরা যেভাবে বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তাতে তো চিন্তা বাড়ারই কথা, বিশেষ করে প্রাক্তন মন্ত্রী ও মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের লোকসভা ভোটের আগেই ইস্তফা।

সোমবার দিল্লীতে বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ নিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বদের সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতের পর বিজেপির হাত শক্ত করে ধরলেন মুকুল রায়। সোমবার বিজেপির সদর দফতরে বৈঠকের পর রাজ্যে এখনই নির্বাচন হলে ত্রিশটি আসন পেয়ে দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি, সদ্য কংগ্রেস ও তৃণমূল দল ত্যাগ করে বিজেপিতে নাম লেখানো কয়েকজনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। রাজ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সম্মুখেই কলকাতার দুই কংগ্রেস নেতৃত্ব এদিন যোগ দেন বিজেপিতে। একই সঙ্গে বিজেপিতে মুকুলের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন দেবযানী দাশগুপ্ত। আসলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি শিবিরের পাল্লা ভারী করার দায়িত্ব এখন মুকুলের। তাই একের পর এক সভা থেকেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলছেন তিনি।

দল থেকে বিতাড়িত কিংবা দল থেকে ভাঙিয়েই হোক বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন এমন সদস্য সংখ্যা কম নেই। বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে তৃণমূলের দিকে একহাত নিয়েছেন মুকুল রায়। কয়েকদিন আগেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিলে তাঁর বিরুদ্ধে অনেক মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন রাজ্যের নাম করে বলেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য দিল্লীতে এসে লোকে লাইন দেবে। লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন যেভাবে বাংলায় নির্বিঘ্নে ভোটের জন্য কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে এদিন মুকুল রায় সাংবাদিকদের আরও জানিয়েছেন, আদর্শ আচরন বিধি চালু হয়েছে, এরপর পুলিশি রাজ কম হবে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে অনেকেই নাকি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে তৃণমূলের 42-এ 42 দখলের প্রসঙ্গে মুকুল রায়ের লোকসভা নির্বাচনে 30 টি আসন পাওয়ার কথা ঘোষনা করার পর চিন্তা বাড়াচ্ছে বিরোধীদের। একে তো দল ভাঙানোর অভিযোগ তার ওপরে বিরোধীদের সরাসরি তোপ দাগা লোকসভা নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে তা জানা ফলাফলের অপেক্ষা।