এবারকি তাহলে পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দিয়েই হতে চলেছে লোকসভা নির্বাচন? রাজ্য বিজেপির মুখে শোনা গেল এমনই ইঙ্গিত।

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে সমস্ত দলগুলির মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলছে জোরকদমে৷ বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের নিয়মশৃঙ্খলা একেবারেই নিয়ে বারে বারে প্রশ্ন উঠছে৷ এর আগে পঞ্চায়েত ভোটেতেও রাজ্যে বিরোধী দল গুলিকে বিভিন্ন এলাকার ভোট বুথ চত্বরে দেখলেই তৃণমূল প্রতিনিধিদের হাতে প্রহৃত হওয়ার ঘটনাও সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছে৷ তাই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পরিস্থিতি ঠিক নেই এমন দাবি করে পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দিয়েই লোকসভা নির্বাচন করার দাবি করলেন বিজেপি প্রতিনিধিরা৷ সোমবার নির্বাচন কমিশনের কাছে এমনই বেশ কয়েকটি চাওয়া নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বেশ কয়েক জন রাজ্য বিজেপি প্রতিনিধিরা৷ লোকসভা নির্বাচনে নাকি দুর্নীতিযুক্ত পুলিশ কর্তাদের যুক্ত করা হচ্ছে৷ তাই স্বচ্ছ ভাবে নির্বাচন করতে গেলে পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দিতেই হবে এমন দাবি করেন তাঁরা৷

পাশাপাশি ভোট পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রস্তাব রাখেন বিজেপি প্রতিনিধিরা৷ সোমবার রাজ্যের তরফ থেকে বিজেপি প্রতিনিধি হয়ে কমিশনের কাছে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি নেতা মুকুল রায়, প্রাক্তন বিধায়ক সমীক ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা৷ সেখানে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে নির্বাচন সংক্রান্ত এই সমস্ত দাবি দাওয়া পেশ করেন তাঁরা৷ কমিশন থেকে বেরিয়ে রবিবার বিজেপির রাজ্যজুড়ে বাইক মিছিল সম্পর্কে অভিযোগও করা হয় এদিন৷ অভিযোগ করে বিজেপি নেতা মুকুল রায় তাঁদের বাইক মিছিল শান্তি মতো করতে দেওয়া হয়নি বলেছেন৷ তাঁদের বাইক মিছিলে পুলিশের হামলাকে গণতন্ত্র বিরোধী বলে অভিযোগ করেছেন তিনি৷ পাশাপাশি, সে সমস্ত ওসি এই হামলার ঘটনায় নিযুক্ত ছিলেন তাঁদের অবিলম্বে সরিয়ে দওয়া উচিত বলেও জানিয়েছেন মুকুল রায়৷ বেশ কয়েকদিন আগে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন কলাকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার৷

সোমবার কমিশন থেকে বেরিয়ে রাজীব কুমারের প্রসঙ্গও তুলেছেন মুকুল রায়৷ এমনকি রাজীবন কুমারকে অপসারন করা মানে কালো তালিকা ভুক্ত পুলিশ অফিসারদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছেন বলেও অভিযোগ করেন৷ একইসঙ্গে এইভাবে নির্বাচন ঘিরে কুকর্ম চলতে থাকলে এবং তাঁদের দাবি না মানলে ভবিষ্যতে কমিশনের সামনে ধরনায় বসারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি৷ সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্থানে এয়ার স্ট্রাইকের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য বিরোধীদের একহাত নেন মুকুল রায়৷ এয়ারস্ট্রাইক নিয়ে প্রশ্ন করার জন্য বিষয়টিকে গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ বলেও অভিহিত করেন মুকুল রায়৷ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এদিন তিনি জানান লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করার দায় এখন  দিল্লীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের৷ তাই রাজ্যের কাউকে নাম সুপারিশ করতে বারন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি৷

এবার এটাই দেখার বিষয় এটাই যে নির্বাচন কমিশন কি সব দিক খতিয়ে দেখে বিজেপির সাথে সহমত হয়। নাকি রাজ্য সরকারকে এইসব কুকর্মের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং তারপরেই পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে। শোনা যাচ্ছে রাজ্য সরকারে যদি এই সকল অসামাজিক কাজকর্মের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নেই তাহলে একমাত্র বিরোধীরা নির্বাচন করার পক্ষে সওয়াল করবে না হলে তারা অনবরত এর বিরোধিতা করে যাবে।

Related Articles