দেশ

কাশ্মীরের মুসলিমদের জন্য বুক ফাটে মালালার, কিন্তু পাক হিন্দুদের নিয়ে চুপঃ তসলিমা নাসরিন

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ লেখিকা তসলিমা নাসরিনের তোপের মুখে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। কাশ্মীরের উপর থেকে বিশেষ মর্যাদা সরিয়ে ফেলা নিয়ে মালালার মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা। গত সপ্তাহের সোমবারে কাশ্মীরের উপর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা। এরপর থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পাকিস্তান। সমঝোতা এবং থর এক্সপ্রেস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার সঙ্গে অনেক বাণিজ্যিক লেনদেনও বন্ধ করে দিয়েছে পাক প্রশাসন।

এরই মাঝে শুক্রবার ট্যুইট করে কাশ্মীরের উপর থেকে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং ৩৫এ ধারা রদ করার বিষয়ে নিজের অভিমত ব্যক্তি করেন নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। তিনি লেখেন, “আমি যখন ছোট ছিলাম, এমনকি আমার মা-বাবা যখন ছোট ছিলেন, আমার দাদা-দাদির তরুণ বয়স থেকেই কাশ্মীরের মানুষ টালমাটাল পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করছে।”

কাশ্মীরের নারী এবং শিশুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন জানান মালালা। তিনি লেখান, “আজ আমি কাশ্মীরের মুসলিম শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই সহিংস পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তাদের জীবন। এবং এই সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদেরই।”

রবিবার মালালা ইউসুফজাইয়ের সেই ট্যুইটের জবাব দিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত হলেও লেখিকা তসলিমা নাসরিন এবং সুইডেনের নাগরিক। যদিও তিনি থাকেন ভারতের রাজধানী শহর দিল্লিতে। তসলিমা নাসরিন এদিন মামালার ট্যুইটের বিষয়ে লেখেন, “মালালা কাশ্মীরের মুসলিমদের নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু পাকিস্তানের হিন্দু এবং বালোচিস্তানের মানুষদের নিয়ে তাঁর কোনও উদ্বেগ নেই।”

২২ বছর বয়সী মালালা ২০১২ সালের অক্টোবরে স্কুল বাসে ওঠার সময় এক বন্দুকধারীর গুলিতে আহত হন। এর পরই নারীশিক্ষা ও মানবাধিকারের পক্ষে একজন বিশ্ব প্রতীক হয়ে ওঠেন মালালা। ব্রিটেনে চিকিৎসার পড়ে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ২০১৪ সালে ভারতীয় কৈলাস সত্যার্থীর সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরষ্কার লাভ করেন তিনি।

নোবেল পুরষ্কার লাভ করলেও মালালার শিক্ষায় প্রথাগত ত্রুটি থেকে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন তসলিমা নাসরিন। যার কারণে মালালার বিবেক ধংস হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেছেন লজ্জার লেখিকা। তিনি লিখেছেন, “এটা খুবই স্পষ্ট যে মালালাকে যারা শিক্ষা দিয়েছে তারা বুঝিয়েছে যে ধর্মীয় বিশ্বাস সবকিছুর ঊর্ধ্বে। যদি কখনও কারো বিবেক সম্পূর্ণ ধংস হয়ে যায় তাহলে সে কখনই ভালো মানুষ হতে পারে না।”

Close