পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ঢুকতে না পেরে, অবশেষে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির বানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

মাই ইন্ডিয়া ডেস্ক:  রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি তৃণমূল দল এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জীকে বরাবরই মুসলিম তোষণকারী দল এবং নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী বলে অভিযোগ করে থাকে। ইমাম ভাতা থেকে শুরু করে মাদ্রাসার জন্য অত্যাধিক আর্থিক বরাদ্দ এবং যেই স্কুলে সংখ্যালঘু ছাত্র বেশি সেই স্কুলে আলাদা করে ডাইনিং হল বানানোর মমতা ব্যানার্জীর সিদ্ধান্ত নিয়ে বরাবরই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসে বঙ্গ বিজেপি নেতারা। এছাড়াও রাজ্যের সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়াতেও মমতা ব্যানার্জীর জুরি মেলা ভার।

২০১৭ সালে এপ্রিল মাসে মমতা ব্যানার্জীকে মুসলিম আখ্যা দিয়ে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল মন্দিরের পাণ্ডারা। যদিও তাঁর পরের দিন মমতা ব্যানার্জী পুরীর মন্দিরে ঢুকে জগন্নাথ দেবের পুজো করেছিলেন। শ্রীক্ষেত্র পুরী, হিন্দু ধর্ম মতাবলম্বী মানুষের অধিকাংশের বিশ্বাস, পুরীর মন্দিরে পুজো দেওয়া মানে সব তীর্থক্ষেত্র ভ্রমণের সমান পুণ্য। এই মন্দিরে কিছু কিছু নিয়ম পালন করতে হয়। আর তা ভাঙা হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে অত্যন্ত কড়া মনোভাব দেখায় মন্দির কর্তৃপক্ষ। হিন্দু ধর্মালম্বী ছাড়া কেউ মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন না। এই কথা মন্দিরের সিংহদ্বারেই লেখা রয়েছে।

মন্দিরে পাণ্ডারা মমতা ব্যানার্জীকে পুজ দিতে আটকানোর পর গোটা দেশে হইচই রব পড়ে গেছিল। তবে এটা প্রথম না, এর আগে ১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীকে মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, কারণ বিবাহ-সূত্রে তিনি ছিলেন অহিন্দু। ইন্দিরার স্বামী ফিরোজ গাঁধী ছিলেন পার্শি। ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডের রানি মহচক্রি সিরিধরণকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি তিনি বৌদ্ধ ধর্মালম্বী বলে। ২০০৬ সালে সুইৎজারল্যান্ডের বাসিন্দা এলিজাবেথ জিগলার পুরীর মন্দিরের উন্নতির জন্য ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দান করার পরেও তাঁকে খ্রিস্টান হওয়ার জন্য তাঁকে প্রবেশ দ্বার টপকাতে দেওয়া হয়নি।

আরেকদিকে প্রথমবার সরকারে এসেই নিজের তিনটি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন দিদি। জানিয়েছিলেন, কলকাতা হবে লন্ডন, দার্জিলিং হবে সুইৎজারল্যান্ড আর দিঘা হবে গোয়ার মতো। নিন্দুকেরাও স্বীকার করে নেন, গত আট বছরে দিঘার ছবিটাই আমূল বদলে দিয়েছেন দিদি। সৈকতনগরীর সৌন্দর্যায়নে কয়েক কোটি টাকা ঢেলেছে রাজ্য। মঙ্গলবার সেই দিঘাতেই অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টার উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “আগে লোকে সপ্তাহ শেষে দিঘায় আসত। এখন এভরি ডে ইজ বিজি ডে। লোকে কাশ্মীর যেতে পারছে না। অন্য কোথাও যেতে পারছে না। সবাই দিঘায় আসছে। শর্ট ডিস্টেন্সে বিউটিফুল ডেস্টিনেশন।”

দিঘার সৌন্দর্যায়ন আরও কী ভাবে বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারেও নিজের পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা এ দিন বলেন, “আগামী দিনে আমার ইচ্ছে আছে যাতে দিঘার সমুদ্রে সি প্লেন নামানো যায়। এখানে অনেক গাড়ি আসে। সেগুলিকে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক মানের দুটি পার্কিং প্লাজাও তৈরি হবে।” পুরীতে যেমন সমুদ্রের সঙ্গে পর্যটকদের বাড়তি টান জগন্নাথমন্দির। তেমনই দিঘাতেও জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের কথা বলেন মমতা। তাঁর কথায়, “প্রতিটা ট্যুরিস্ট স্পটের সঙ্গেই একটা ধর্মীয় স্থান থাকে। এখানে একটা জগন্নাথ ঘাট আছে। আমরা ওখানে একটা জগন্নাথ মন্দির তৈরি করব।”

মমতা ব্যানার্জীর বয়ানের পর এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটাই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ঢুকতে না দেওয়ার জন্যই কি মমতা ব্যানার্জী দিঘায় জগন্নাথ দেবের মন্দির বানাচ্ছেন? যদিও এতে কর্ণপাত করতে নারাজ শাসক দল তৃণমূল। কিন্তু মমতা ব্যানার্জীর এই ঘোষণা পর হিন্দুদের মধ্যে বেশ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। স্বয়ং জগন্নাথ দেবকে হাতের সামনে পেলে কেই বা না খুশি হবে?

Related Articles