এবার পড়ুয়াদের হাতে হ্যারিকেন ধরাবেন মমতা, দেওয়া হবে বইও

0
81

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ আকাশপথে বসিরহাটের বুলবুল ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আকাশপথে পরিদর্শনের পর বসিরহাটে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ প্রশাসনিক বৈঠক থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মমতার৷ প্রশাসনিক বৈঠক থেকে দুর্বল নদীবাঁধ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সামগ্রী, পানীয় জল পেতে যাতে কোনরকম সমস্যা না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে নজর বাড়াতেও নির্দেশ দিয়েছেন৷

রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা গাছপালা দ্রুত সরিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা৷ ত্রাণ নিয়ে যাতে কোনও ক্ষোভ তৈরি না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে গুরুত্ব নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ দুর্গত এলাকায় আরও বেশি করে ত্রাণশিবির খোলার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষকে বসিরহাট থেকে উদ্ধার করা গিয়েছিল৷ ঘূর্ণিঝড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন আটকে দিয়েছে৷ এই ম্যানগ্রোভ রক্ষা করা জরুরি বলেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ম্যানগ্রোভ রক্ষা করার বিষয়ে প্রশাসনকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন৷ দূষণ নিয়ন্ত্রণের টাকায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য সংরক্ষণ করার বার্তাও প্রাশাসনকে দিয়েছেন মমতা৷

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কে কী করে, ওসব দেখতে হবে না৷ ত্রাণ যাতে সবাইকে দেওয়া হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে৷ পানীয় জলের যেতে কোন অভাব না থাকে সেদিকেও নজর দিতে হবে৷ বেশি মাত্রায় জলের ব্যবস্থা করতে হবে৷ দ্রুত সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাঁচাতে হবে৷ ১৫ লক্ষ হেকট জমিতে ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ সেই কারণে বিকল্প চাষে ব্যবস্থা করতে হবে কৃষকদের৷ দুর্গত এলাকায় চিড়ে, মুড়ি, গুড় ও শিশুদের বিস্কুট, মিল্ক পাউডার দেওয়ার কথা ও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা৷ বিপর্যয় পরবর্তী রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রাখার নির্দেশ দেন তিনি৷

ঘূর্ণীঝড় পরিবর্তী সময় থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বিদ্যুৎ না থাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সমস্যার কথা ভেবে পড়ুয়াদের হ্যারিকেন ও কেরোসিন বিলির নির্দেশ দেন৷ বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ নেই৷ ওঁদের সমস্যা হচ্ছে৷ কী আছে, একটা করে হ্যারিকেন-কেরোসিন দিলে সমস্যা কোথায়? যাঁদের পরীক্ষা আছে, তাদের একটা করে হ্যারিকেন ও পাঁচ লিটার কেরোসিন দিয়ে দাও৷

উনি আরও বলেন, বই-পত্র যদি নষ্ট হয়, তাহলে জেলা শাসক শিক্ষা দপ্তর থেকে বই কিনে দেবে৷ পরিবার পিছু ১২ কেজি চাল, আলু ডাল দেওয়া হবে৷ ১০ দিন পর থালা-বাটি-স্টোভ-সহ সংসারে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বস্তাবন্দি করে দেওয়া হবে৷’’ একই সঙ্গে এদিন ঝড়ের তাণ্ডবে মৃত পরিবারের সদস্যদের হাতে অর্থ সাহায্য তুলে দেন৷