শুক্রবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যখন ৩৪ বছরের অপশাসন নিয়ে আক্রমণ শোনাচ্ছিলেন সিপিএম তথা বামফ্রন্টকে। ঠিক সেইসময় বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আপনার নেতৃত্বে অনেক কাজ হয়েছে। বিধানসভাও ভাঙচুর হয়েছে।”

এরপরেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “সিঙ্গুরে আমায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তখন পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা। তাই আমি বিধানসভায় এসেছিলাম পার্থদার সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু বিধানসভাতেও আমায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি আমার জুতোটা পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল। আমি কিচ্ছু করিনি। বিধানসভার কোনও জিনিসে হাত দিইনি। এটা রেকর্ডে আছে। সুজন চক্রবর্তী আপনি প্রমাণ করুন নইলে কথা উইথড্র করুন।”

স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত চুপ করে যান সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)। কিন্তু শনিবার সকালে ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা আগমন ও ভাংচুরের আগের মুহূর্ত ও তাঁর আচরণের ভিডিও নিজের টুইটার একাউন্টে পোস্ট করেন যাদবপুরের বিধায়ক। সঙ্গে তিনি লিখেন “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা লবিতে ভাঙচুর করা হয়েছিল। ধ্বংস করা হয়েছিল অনেক পুরনো আসবাবপত্র । উপস্থিত হয়ে প্ররোচিত করে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউ নন। তাঁকে অস্বীকার করতে দিন যে ভিডিও বা অডিওতে থাকা ব্যক্তিটি ডামি বা ভূত! তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। মিথ্যা প্রকাশ হওয়া দরকার!”

প্রসঙ্গত, সিঙ্গুর আন্দোলন চলাকালীন ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর সেখানে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharya) নেতৃত্বাধীন পুলিশ তাকে সিঙ্গুরে ঢুকতে বাধা দেয়। মমতা কলকাতায় ফিরে সরাসরি চলে যান বিধানসভায়। এখানে বিরোধী দলনেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গোটা বিষয়টি জানিয়েছিলেন। ক্ষুব্ধ তৃণমূল পরিষদীয় দলের বিরুদ্ধে বিধানসভায় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে। তৎকালীন স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিম সাধারণের জন্য বিধানসভার দরজা খুলে দিয়েছিলেন সেই ভাঙচুরের চিত্র দেখার জন্য। যা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর আবারও বিধানসভাতে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণা হল সুজন-মমতার বাকযুদ্ধের মাধ্যমে। যা অন্য মাত্রা পেল যাদবপুরের বিধায়কের টুইটে।