পুরভোটের আগে চাপে মমতা! বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা

0
119

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা হতে না হতেই রাজ্যে শুরু হল বিক্ষোভ। কেন্দ্রের এই ডিএ বৃদ্ধির ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ২১ শতাংশে পৌঁছাল বলে দাবি বামপন্থী কর্মচারী সংগঠন রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির। আগামী সোমবার টিফিনের সময়ে গোটা রাজ্যে তাঁদের সদস্যরা অফিসে অফিসে বিক্ষোভ দেখাবেন।

২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এর পরে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক বিজয়শঙ্কর সিংহ রাজ্যেও মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “মহার্ঘ ভাতা রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের কোনও দয়ার দান নয়, এটা ন্যায্য ও আইনী অধিকার। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার ফি বছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করে। সেই অনুযায়ী দেশের সব রাজ্য সরকারও মহার্ঘ ভাতা দিয়ে থাকে। সেটা না মেলা মানে ফের প্রমাণিত যে বাংলায় সরকারি কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার।”

তাঁর আরও দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের বকেয়া বেতনের হার ছিল ১৭ শতাংশ। এবার নতুন করে কেন্দ্র ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করায় সেই বকেয়া বেড়ে হল ২১ শতাংশ।

এদিন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধির খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই আলোচনা শুরু হয়ে যায় রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে। কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, আমাদের রাজ্যে সরকার মহার্ঘভাতাহীন বেতন কমিশন চালু করেছে যা ভূভারতে কোথাও হয়নি। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা পাহাড় প্রমাণ আর্থিক বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।

কো-অর্ডিনেশন কমিটির বক্তব্য, রাজ্য সরকারের এই তীব্র বঞ্চনার প্রতিবাদে আগামী সোমবার, ১৬ মার্চ কলকাতা-সহ রাজ্যের প্রতিটি ব্লক, মহকুমা, জেলা সদরের প্রতিটি সরকার দফতরে রাজ্য কো অর্ডিনেশন কমিটির নেতৃত্বে টিফিন বিরতিতে বিক্ষোভে সামিল হবেন রাজ্য সরকারী কর্মচারীরা।

তবে কর্মচারীরা যতই আন্দোলনের কথা বলুন রাজ্য সরকার যে এখনই কোনও ভাবেই ডিএ ঘোষণা করবে না তা আগেই স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় রাজ্যপালের বাজেট বক্তৃতার উপের আলোচনা শেষে জবাবী ভাষণে মহার্ঘ ভাতা সম্পর্কে রাজ্য সরকারের মতামত জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “টাকা পয়সার টান চলছে। তার মধ্যে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য মেটাচ্ছে না কেন্দ্র। অর্থের সংস্থান হলেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো হবে।”