বাজার থেকে এসে ৬ ঘণ্টা ব্যাগটা রোদে রেখে দিন, ভাইরাস মরে যাবেঃ মমতা ব্যানার্জী

বিশেষজ্ঞদের থেকে নয়, তবে কাগজপত্র পড়ে জেনেছেন তিনি। বাজার করে আসার পরে আনাজপত্র বা মাছমাংস সঙ্গে সঙ্গে বের না করে, সবসুদ্ধ ব্যাগটা বাইরে অন্তত ৬ ঘণ্টা খোলা জায়গায় রেখে দিলে তার মাধ্যমে করোনাভাইরাস আসার ঝুঁকি অনেকটাই কমতে পারে। সোমবার বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন তিনি বলেন, “আমাকে সাধারণ মানুষ ভুল বুঝবেন না। এটা এক্সপার্টদের থেকে শোনা নয়। আমি কাগজপত্র পড়ে জেনেছি। অনেকেই বাজার থেকে ফিরে এসে ব্যাগ খুলে আনাজ বের করে রান্না শুরু করছেন। তা না করে, অর্থাৎ আনাজ সঙ্গে সঙ্গে বের না করে ব্যাগটা খোলা জায়গায় রেখে দিন অন্তত ৬ ঘণ্টা। তার পরে মাছ বা আনাজ বার করে ভাল করে ধুয়ে নিন। কারণ তাতে যদি জীবাণু থাকেও, তা ৬ ঘণ্টায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তার পরে আপনি সেখান থেকে জিনিস বার করে উষ্ণ গরম জলে ধুয়ে নিন। এগুলো নিজেকে করতে হবে। নইলে শুধু লকডাউন দিয়ে কিছুই হবে না।”

মুখ্যমন্ত্রীর এ কথার পর অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে অনেক কিছুই আসে। সেগুলির মাধ্যমেও কি করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। যেমন, খবরের কাগজ, দুধের প্যাকেট ইত্যাদি। সেগুলিও কি বাইরে ৬ ঘন্টা ফেলে রাখলে ভাল হয়?

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেছেন, “দোকান খুললেও সেখানে গিয়ে ভিড় করবেন না। কারও শ্বাস-প্রশ্বাস বা স্পর্শ থেকে দূরে থাকলে আপনি নিজে ও আপনার পরিবারই বাঁচবে। মা-বোনদের বলব, আপনারা সব কাজ করছেন, সাবধানে করুন। হাত ধুন বারবার।”

বে এই প্রথম নয়। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর শোনা ও পড়া কথা জানিয়েছিলেন। এপ্রিল মাসের গোড়ায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “২৪ মার্চ থেকে ৪৯ দিন হচ্ছে ১৯ মে পর্যন্ত। এই সময়টা ভাল করে সাবধানে কাটিয়ে দিতে পারলে অনেকটা বিপদ কেটে যাবে।” এমন মন্তব্যের কারণ জানতে চাইলে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমি বিশেষজ্ঞদের মতামত পড়ে এটা বলেছি। এর কোনও প্রমাণ বা সত্যতা আমার জানা নেই। আমি এক্সপার্ট নই।”

শুধু তাই নয়। ভাইরাস দূর করতে জানলা-দরজা খোলা রেখে হাওয়া চলাচলের গুরুত্বের কথাও বলেছিলেন এর আগে তিনি। পাশাপাশি কোভিড রোগীর চিকিৎসাকারী ডাক্তার ও নার্সদের পরামর্শ দিয়েছিলেন, ইষদুষ্ণ জলে লেবু মিশিয়ে খেতে, যাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো যেতে পারে।