স্কুল থেকে মিডডে মিলের চাল চুরি! অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্যা

মিডডে মিলের চাল চুরির অভিযোগ উঠল ভাঙড়ের কোচপুকুরের তৃণমূল (All India Trinamool Congress) কংগ্রেস পঞ্চায়েত সদস্যা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। বুধবার এই অভিযোগ ওঠার পরে বৃহস্পতিবার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে ব্লক প্রশাসন। দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও।

কোচপুকুর প্রাইমারি স্কুল থেকে চাল কম দেওয়ার অভিযোগে বুধবার দুপুরে এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যার বাড়িতে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগসাজস করে এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যা পারভিন নাহার ও তাঁর স্বামী আমিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে দুর্নীতি করে আসছেন। যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুই তৃণমূল নেতাই।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দিনের পর দিন স্কুলের মিডডে মিলের চাল ও আলু চুরি করছেন প্রধান শিক্ষক ও এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা। তাঁদের সহযোগিতা করছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা পারভিন নাহার ও তাঁর স্বামী আমিরুল ইসলাম। বুধবার স্কুল থেকে চাল, আলু ও ছোলা দেওয়ার সময় তা মাপে রয়েছে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলে বিক্ষোভ দেখান। পাশাপাশি ওই পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতেও চড়াও হন গ্রামবাসীরা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে কাশীপুর থানার পুলিশ হাজির হয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে। প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে গেলে বাধা দেন গ্রামবাসীরা। শুরু হয় পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লাঠি চার্জ করে পুলিশ।

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, “প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন ছাত্রছাত্রীদের হাতে চাল, আলু ও ডাল তুলে দেওয়ার জন্য। আমি দু-এক জনকে দিয়ে চলে আসি। পরে পরিমাণে কম দেওয়ার অভিযোগ এলে আমি প্রধান শিক্ষককে তা দিতে নিষেধ করি। অন্যায় ভাবে আমার উপরে আজ আক্রমণ করা হল। আমি অভিযুক্তদের শাস্তি চাই।” ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের বিডিও কৌশিককুমার মাইতি বলেন, “কোচপুকুর প্রাইমারি স্কুল থেকে খাবারের পরিমাণ কম দেওয়া হচ্ছে এমন একটা অভিযোগ এসেছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে আইনি শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। বসেছে পুলিশ পিকেট। প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।