fbpx
দেশনতুন খবরপশ্চিমবঙ্গ

দুষ্কৃতীদের তান্ডবের জেরে পাড়া ছাড়ছেন হিন্দু পরিবার গুলি, এমনই অভিযোগ করলেন মুসলিম শিক্ষক।

এলাকা হয়ে উঠছে দুষ্কৃতিদের তীর্থভূমি৷ দুষ্কৃতিদের তাণ্ডবে তাই নিজের বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র পালাতে বাধ্য হচ্ছেন হিন্দুরা৷ এমনই অভিযোগ করলেন পেশায় শিক্ষক সংস্কারি কাজি মাসুম আখতার৷ কিছুদিন আগে তিলজলা থানার অন্তর্গত তোপসিয়ার কাছে সিএন রোডে বেশ কয়েকদিন ধরে দুষ্কৃতি তান্ডবের কথা লিখে রাজ্য সরকারের কাজে অভিযোগ করেছেন৷ যেখানে তিনি সমাজের জন্য  ক্ষতিকারক ও তরুন সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকারক বেশ কিছু বিষয়কে তুলে ধরেছেন৷ অভিযোগ পত্রে তিনি জানিয়েছেন, আইসিএসই, আইএসই, সিবিএসই পরীক্ষা চলছে৷ তাঁর ছেলেও একজন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী৷ কিন্তু তাঁদের বাড়ি থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে সারারাত ধরে তাণ্ডব চালাচ্ছে দুষ্কৃতিরা৷ এরফলে পরীক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ভীষনতর ক্ষতি হচ্ছে৷

এই বিষয়ে লালবাজার থানায় অভিযোগ জানালেও কোনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন মাসুম৷ শুধু তাই নয় দুষ্কৃতিদের তাণ্ডবের জেরে সেখানকার দীর্ঘদিনের বসবাসকারী হিন্দুরা সেই স্থান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন৷
একইসঙ্গে ওই অভিযোগ পত্রে তিনি লিখেছেন তাঁদের তোপসিয়ার বাড়ির সংলগ্ন রেনবো স্কুলের পিছনে প্রতিদিনই বেআইনি দ্রব্যের আসর বসছে৷ অল্প বয়সী কিছু ছেলেরা মাদক দ্রব্যের প্রতি আসক্ত হয়ে হেরোইন, গাঁজা ও মদ সহ সেখানে রাতের বেলায় অশ্লীল ভাষায় গালাগালিও করে৷ এসমস্ত ঘটনা নিজে চোখে দেখে মাসুম সাহেব নিজে থানায় অভিযোগ জানালেও কোনো ফল পাননি৷ উপরন্তু বেড়ে গিয়েছে তাণ্ডব৷ যা তাঁদের সেখানে থাকার পক্ষে কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে৷ তবে এই বিষয়ে তিনি সরাসরি দোষারোপ না করলেও জাভেদ খান ও তাঁর ছেলের প্রোমোটিং- এর ব্যবসার কথা প্রসঙ্গে এনেছেন৷

আসলে দুষ্কৃতিদের তাণ্ডব চালিয়ে বাড়ি ছাড়তে যাদের বাধ্য করা হচ্ছে সেই বাড়িতে প্রমোটিং-এর ব্যবসা করার সুবিধা বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ যদিও নাম করেন নি কিন্তু তিনি কাদের সুবিধা এই কথাটি অভিযোগ পত্রে লিখেছেন৷ পাশাপাশি এলাকাবাসীরা ভয়ে কোনো প্রতিবাদ নয় বরং আস্তে আস্তে ঝামেলা থেকে সরে যেতে চাইছেন৷ কিন্তু তাঁদের মধ্যে থেকেও প্রতিবাদী মাসুম তাঁর প্রতিবাদ কলমের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন৷ প্রতিবার বার বার অভিযোগ করারও কথা জানিয়েছেন৷ আসলে মাসুম সাহেবকে এই প্রথমবার নয় এর আগেও অনেকবার হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল৷ গোঁড়া মুসলিম সমাজ তাঁর সংস্কার মেনে নেয়নি৷ তাই মৌলবাদীদের রোষে পড়ে মাদ্রাসার চাকরিও খুইয়েছেন৷ কিন্তু তাতে কি, প্রতিবাদ করতে ভোলেননি৷ বিপদে পড়ে মার খেয়েও প্রতিবাদী সত্তা হারাননি তিনি৷

এখন এটাই দেখার বিষয় যে এই ব্যাপারে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার কি পদক্ষেপ নেন। তারা কি আদৌ কোনো পদক্ষেপ নেবেন, না কি এই ভাবেই দুষ্কৃতীদের কাছে অত্যাচারিত হবেন এলাকার হিন্দু- মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ সহ যুবক যুবতীরা।

Open

Close