fbpx
আন্তর্জাতিকনতুন খবর

মোদীর কূটনৈতিক বুদ্ধিতে এবার পাকিস্তানের পাশ থেকে সরে দাড়ালো মুসলিম বিশ্ব। কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকেই সমস্ত দোষ দিল ওআইসি।

পাকিস্থান সন্ত্রাসবাদের আখরাখানা, পাকিস্থানেই জঙ্গীদের প্রধান ঘাঁটি একথা বিশ্বজুড়ে বহুদিন থেকেই প্রচলিত। কিন্তু এতদিন সেই ধারণা থাকার সত্ত্বেও তা নিয়ে প্রতিবাদ করতে আসেনি কোনো দেশ। অথচ সুপ্ত রাগ কিন্তু সকলেরই ছিলই। তবে কাশ্মীরের জঙ্গীহানার পর থেকে পাকিস্থানের ওপর ক্ষিপ্ত গোটা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিও। পাকিস্থান মুসলিম প্রধান দেশ হলেও কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলিও ভারতের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। জঙ্গীদের মদত দেওয়ার চাপ বাড়িয়ে দিল মুসলিম দেশগুলির আন্তর্জাতিক সংগঠন অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কনফারেন্স বা ওআইসি। কাশ্মীরে জঙ্গীহানার পর পাকিস্থানকে সমর্থন করেনি ওআইসি। এমনকি দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলা কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছিল তাতেও পাকিস্থানের সাথ দেয়নি ওআইসি। পাশাপাশি কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য ভাগ বলেও জানিয়ে দিয়েছিল ওআইসি।

শুক্রবার আবুধাবিতে ওআইসির ছেচল্লিশতম সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এমনিতেই চিনে গিয়ে কাশ্মীরে জঙ্গীহানাকে নিয়ে বক্তব্য রেখে চিনকে পাকিস্থানের সঙ্গ ত্যাগ করার কাজে সাহায্য করেছেন। তবে ওআইসির অনুষ্ঠানে সুষমা স্বরাজকে ডাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পাকিস্থান। এমনকি সম্মেলন বয়কটও করে পাকিস্থান। তাই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না পাকিস্থানের বিদেশমন্ত্রী। তবে সুষমা স্বরাজের উপস্থিতি যথেষ্টই খুশি করেছে ওআইসি সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য দেশের বিদেশমন্ত্রী। এমনকি ভারতের বিদেশমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোয় আরব আমিরশাহীর বিদেশমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।
আর কয়েক বছর পরেই ওআইসি-র ৫০ তম বর্ষপূর্তির সেই জন্য এবারের অর্থাৎ ৪৬ তম সম্মেলনকে সূচনা অনুষ্ঠান হিসাবে ধরা হয়েছে। আর এই রকম একটা এত বড় অনুষ্ঠানে ভারতের বিদেশমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য খুবই খুশি আমাদের বিদেশমন্ত্রক। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিদেশমন্ত্রিকে কারণ তারা এত বড় একটি অনুষ্ঠানে ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

শুক্রবার ওআইসির সম্মেলনে কোনো পাক প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় তাঁর আসন খালি পড়ে থাকে। কিন্তু স্থান ছাড়েননি সুষমা স্বরাজ। সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই বক্তব্য রাখতে শুরু করেন তিনি। এদিনের সম্মেলনে মানব জীবনকে রক্ষা করতে সন্ত্রাসবাদী মদত দেওয়া দেশের থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি, যেকোনো দেশের মাটিতেই জঙ্গীদের আশ্রয় না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এমনকি দেশের মাটিতে যে সমস্ত জঙ্গী শিবির রয়েছে সেগুলি নষ্ট করে দেওয়ার কথাও বলেছেন। ওআইসির সম্মেলন থেকেই স্পষ্ট পাকিস্থানকে আর পছন্দ করছেন না কোনো মুসলিম প্রধান দেশ। কিন্তু নিজেদের ধর্মের দেশ না হলেও ভারতকে সঙ্গ দিতে যে প্রতিটি মুসলিম দেশ মরিয়া তা বোঝাই গেল এদিনের সম্মেলন থেকে। তাই একদিকে সামরিক শক্তি অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলির কাছ থেকে সহযোগিতা হারাল পাকিস্থান।

ওআইসির কাশ্মীর নিয়ে বক্তব্যকে যদি এতদিন আগে পাকিস্থান সমর্থন করত তাহলে বোধ হয় পাকিস্থানকে এই দুর্দশার দিন দেখতে হত না। তবে এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন যে, আজ পাকিস্তানকে এইভাবে কোণঠাসা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী অবদান রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। মোদির কূটনৈতিক চাপের কাছেই আজ পাকিস্তানে মাথা এইভাবে সবার কাছে নত হয়ে যাচ্ছে।

Open

Close