বড় খবর! শীঘ্রই দেশে ফিরতে চলেছেন নীরব মোদী, তাকে দেশে ফেরানোর সমস্ত পরিকল্পনার তৈরি ভারতের।

আর্থিক তছরুপের অভিযোগে বিজয় মালিয়া থেকে নীরব মোদী বাদ যাননি কেউই। কান টেনে মাথা এসেছে। বিজয় মালিয়া এখন ফেরার। দেশের ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় সাড়ে ন হাজার কোটি টাকা প্রতারনার অভিযোগ রয়েছে বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে। তাঁকে দেশে ফেরাতে গিয়েই নাজেহাল অবস্থা ভারত সরকারের। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন নীরব মোদী। দেশে কোটি কোটি টাকার গাড়ি, বাড়ি, সম্পত্তি  রেখে ধাওয়া হয়েছিলেন। কিন্তু তা ধোপে টেঁকেনি। ব্রিটেনে তিনি গ্রেফতার হয়েছে। ওয়েস্ট মিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পক্ষ থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেক বেআইনি কাজকর্মের সঙ্গে অভিযুক্তও রয়েছে। মহারাষ্ট্রে তাঁর রাজকীয় বাংলোটি আপাতত ডিনামাইট বিস্ফোরণ করে ভেঙে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু তাঁকে এবার দেশে ফেরাতে তৎপর হয়েছে সরকার।

আগামী 29 শে মার্চ অবধি তাঁকে জেল হেফাজত রাখার নির্দেশে দিয়েছে ব্রিটেন আদালত। আর তারপরই নীরবকে দেশে ফেরাতে তদন্তকারী সংস্থাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে দেশের সরকার। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, নীরব মোদীকে যেকোনো উপায়ে দেশে ফেরাতে ব্রিটেন সরকারের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছে ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রকের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, নীরব মোদীর জন্য বিশ্বে ভারতের গুরুত্ব বেড়েছে। তাই দেশ সবরকম ভাবে তাঁকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে। প্রসঙ্গত, গত বছর পাঞ্জাব ন্যাশানাল ব্যাঙ্ক থেকে সাতে তের হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে প্রতারনার অভিযোগ ওঠে নীরব মোদীর বিরুদ্ধে। আর তারপরই দেশ থেকে ফেরার হয়ে যান নীরব মোদী। গোটা একবছর ধরে তল্লাশি করেও তাঁর খোঁজ মেলেনি দেশে। নীরব মোদীর জন্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে পাঞ্জাব ন্যাশানাল ব্যাঙ্ক। অনেক কর্মীদেরও ছাঁটাই করে দেওয়া হয়। বহু গ্রাহকের সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দেয়।

কিন্তু চলতি বছরেই তাঁকে লন্ডনের রাস্তায় দেখতে পান এক সাংবাদিক। শুধু তাই নয় প্রকাশ্যেই তাঁকে ঘুরতে দেখা যায়। ওই সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর দেননি। আর তারপরই নীরব মোদী নিয়ে আবারও এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এরপর ভারত সেই খবর জানতে পেরে লন্ডনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এবং লন্ডন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আর নীরব মোদীর গ্রেফতারির পর তাঁকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই বিষয়ে ব্রিটেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে ব্রিটেন সরকারও এই বিষয়ে সায় দিয়েছে। তবে সিবিআই ও ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে ব্রিটেন থেকে নীরব মোদীকে দেশে ফেরানো সম্ভব কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে নীরব মোদীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে খুবই চেষ্টা করছে ভারত সরকার। কারণ নীরব মোদী বহু মানুষের কষ্টের টাকা আত্মসাৎ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে।

আর এই ঘটনার পরে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন যে নীরব মোদী কে যে দেশে ফিরিয়ে আনার এই বৃহত্তর চেষ্টা চলছে এটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্যই সম্ভব। কারণ তাদের মতে মোদি সরকার দেশের মানুষকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য অসম্ভব চেষ্টা করছে নিরব মোদীকে ফিরিয়ে আনার জন্য। এটি একমাত্র বিজেপিই কেন্দ্রে আছে বলেই সম্ভব অন্য কোন রাজনৈতিক দল কেন্দ্রে থাকলে এটি কোন ভাবেই সম্ভব হতো না বলেই অভিমত প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।

Related Articles