চীনের ভ্যাকসিন নিয়ে বিপাকে পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী, হারাতে চলেছে কাজ

নয়া দিল্লীঃ চীনা ভ্যাকসিন নিয়ে পাকিস্তানের (Pakistan) দিনদিন বিপদ বেড়েই চলেছে। এবার সৌদি আরবও (Saudi Arabia) চীনা ভ্যাকসিনকে দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে। চীনা ভ্যাকসিন Sinopharm আর Sinovac কে WHO স্বীকৃতি দিলেও সৌদি আরব সহ অনেক দেশই চীনা সামগ্রীর উপর বিশ্বাস রাখতে পারছে না। আর এই কারণেই সৌদি এবার নিজেদের দেশে চীনা ভ্যাকসিন নেওয়া ব্যক্তিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সৌদি আরবে কাজ করার জন্য যায়, আর এরমধ্যে সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ সম্প্রতি বলেছিলেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বক্তিগত ভাব এই বিষয়টি দেখছেন, কারণ সৌদি আরবের পাশাপাশি কয়েকটি মধ্য-এশিয়ার দেশও চীনা ভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি দেয় নি। আরেকদিকে, পাকিস্তানের পত্রিকা ‘ডন” এর রিপোর্ট অনুযায়ী সৌদি আরবে যেই ভ্যাকসিনগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে চীনা ভ্যাকসিনের নাম নেই।

সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছে। একেতেই দেশ দারিদ্রতা আর বেকারত্বের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সম্মুখীন, আর এরমধ্যে পাকিস্তানিরা যদি সৌদি আরবে না যেতে পারে, তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে। পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি প্রেস কনফারেন্সে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ক্যাবিনেট জানিয়েছে যে, চীনের ভ্যাকসিন ইস্যুতে মধ্য-পূর্ব দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সিনোফাম খুব ভালো ভ্যাকসিন। আর আমরা এই বিষয়ে চীনের সহযোগিতার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।

এর আগে সৌদি আরবের শর্তের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তানের তরফ থেকে বলা হয়েছিল যে, ‘যারা কাজের ভিসায় দেশের বাইরে যায় অথবা পড়াশোনা করার জন্য যেতে চায়, তাঁদের ফাইজারের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।” বলে দিই, অনেক দেশই চীনের ভ্যাকসিন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, কারণ চীনের ভ্যাকসিনের প্রভাব নিয়ে তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছে না। যেসব দেশগুলি এর আগে চীনের ভ্যাকসিনের উপর নির্ভর ছিল, তাঁরা এখন অন্য ভ্যাকসিনের খোঁজ করছে।

Related Articles