মোদীর চাপে এক হাজার বছরের পুরনো মন্দির খুলে দিলো পাকিস্তান

মাই ইন্ডিয়া ডেস্কঃ হাজার বছরের পুরোনো একটি শিব মন্দির খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। ওই মন্দিরটি ৭২ বছর ধরে পুরোপুরিভাবে বন্ধ ছিল। মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির কাজ করা। যদিও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সময়ের ব্যবধানে ক্ষয়ে গেছে কারুকাজ। পাকিস্তানের এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন ‘শাওয়ালা তেজা সিং’।দেশভাগের সময়ই বন্ধ হয়ে যায় এই মন্দিরটি। প্রায় ৭২ বছর ধরে বন্ধ ছিল পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহরের হাজার বছরের পুরনো এই মন্দির।

আদতে এই মন্দির একটি শিব মন্দির ছিল।৭২ বছর পর পুনরায় খুলতে চলেছে এই মন্দিরটি। প্রথমদিকে এই মন্দিরে পর্যটকদের যাতায়াত ছিল। তবে ১৯৯২ সালের পর থেকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এই মন্দিরটি। অর্থাৎ ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কোন মানুষই পা রাখেন নি ওই মন্দিরে। জানা গিয়েছে, এই মন্দিরটি খোলার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার উদ্যোগেই ৭২ বছর পর পুনরায় খোলা হচ্ছে এই হিন্দু মন্দির টি।

উদ্বাস্তু ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ডের মুখপাত্র আমির হাশমি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, “পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে উদ্বাস্তু ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড। স্থানীয় হিন্দুদের দাবি মেনেই দেশভাগের পর এই প্রথম তেজা সিং মন্দির খুলে দিয়েছে বোর্ড।” হাশমি আরও জানিয়েছেন, এর আগে শহরে হিন্দুদের বসবাস না থাকায় মন্দিরে পুজোরও প্রয়োজন হয় নি।

হাশমির কথায়, “১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদের ঘটনার পর এখানকার কিছু মন্দিরে হামলা হয়, সেসময় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই মন্দিরও।” সম্প্রতি উদ্বাস্তু ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ আমির আহমেদের নির্দেশে মন্দির মেরামত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রপার্টি বোর্ডের উপ-অধিকর্তা ফারাজ আব্বাস পিটিআই-কে জানান, মন্দির মেরামতির কাজ এখনও চলছে, যদিও শিগগিরি তা সম্পন্ন করবে বোর্ড।

আব্বাস বলেন, “পার্টিশনের পর এই প্রথম খুলল মন্দির। এলাকায় বর্তমানে আন্দাজ ২,০০০ জন হিন্দু বাস করেন, এবং তাঁদের এত পুরনো মন্দিরে আবার যেতে পেরে খুবই খুশি তাঁরা। এখন যথেষ্ট পরিমাণে হিন্দুরা মন্দিরে যাচ্ছেন। আশা এই যে দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও হিন্দুরা আসবেন মন্দিরে।” আব্বাস একথাও জানিয়েছেন যে ভারত থেকে কেউ এলেও তাঁদের মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হবে। স্থানীয় হিন্দু নেতা রতন লাল এবং রুমাইশ কুমার মন্দির মেরামত করে হিন্দুদের জন্য খুলে দেওয়ার সরকারি  সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে হিন্দুরা সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানে বাস করেন আনুমানিক ৭৫ লক্ষ হিন্দু। কিন্তু হিন্দুদের নিজেদের হিসেব অনুযায়ী, পাকিস্তানে হিন্দুদের সংখ্যা ৯০ লক্ষের বেশি। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই সিন্ধ জেলার বাসিন্দা, যেখানকার মুসলমানদের সঙ্গে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ভাষাগত মিল রয়েছে তাঁদের।

Related Articles