আগেও বিপদ ,পেছনেও বিপদ ! ঠিক এই ভাবেই মোদীর কূটনীতিতে ফেঁসে গেল পাকিস্তান।

ভারতের হামলায় শিরে সংক্রান্তি পাকিস্থানের।
২৬ শে ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে পাকিস্থানকে এক দারুন চমক দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। বুধবার সকালে দুই জইশ জঙ্গীর নিধন যেন আরও বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্থানের কাছে। আর তাতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পাকিস্থানের। এবার ভারতের এয়ারস্ট্রাইকের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দেওয়ার হুমকি দিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। যদিও সেই জবাব দেওয়া পাকিস্থানের কাছে এক চ্যালেঞ্জের বিষয় বলে মনে করছেন দেশের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, পাকিস্থানের সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি বাধা হয়ে দাঁড়াবে। বেশ কয়েককটি ক্ষেত্রে পাকিস্থানের কোনো যুক্তি বা বুদ্ধি কাজে লাগবে না:

প্রথমত, বালাকোটের জঙ্গীনিধন অভিযানকে ভারত অসামরিক স্বতঃপ্রনোদিত হামলা বলে অভিহিত করেছে।শুধুমাত্র  জইশ জঙ্গী ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই যে ভারতীয় বায়ু সেনারা হামলা চালিয়েছে তা বলা হয়েছে বারবার।
দ্বিতীয়ত, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে জাপান, আমেরিকা সহ বিভিন্ন শক্তিশালী দেশ। এরফলে, ভারতের জঙ্গী নিধন অভিযানের বদলে যদি ভারতীয় সেনাদের ওপর আবারও হামলা চালানো হয় তাহলে ছেড়ে কথা বলবে না কোনো শুভবুদ্ধি সম্পন্ন শক্তিশালী দেশই। এরফলে বিশ্বের দরবারে পাকিস্থানের কূটনৈতিক ভীত অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে যাবে।

তৃতীয়ত, পাকিস্থানি জঙ্গী সংগঠনের ওপর হামলার পর সেদেশের সাধারণ জনগনের চাপে রয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কারণ, ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এই হামলায় দেশের জনগনকে বিরাট ধাক্কা দিয়েছে তা বোঝাই যাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্থানি সেনাদের কথা শুনে ভারতকে জবাব দিতে গিয়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত চিন্তায় ফেলতে পারে ইমরান খানকে।
চতুর্থত, ভারতের সামরিক শক্তি যে কতটা উন্নত তা বোঝা গেছে মঙ্গলবারই। তাই ভারতের সামরিক শক্তির কাছে এক্ষুনি যে পাকিস্থান পেরে উঠবে তা নিশ্চিত নয় একেবারেই। আবার সন্ত্রাস নিধনের জন্য ভারতের পাশে যদি শক্তিশালী দেশগুলি দাঁড়ায় তাহলে একজোটের কাছে পাকিস্থানের পরাজয় নিশ্চিত বলাই যায়। কারণ, ভারতের পাশাপাশি আফগানিস্থান ও ইরানের কাছে পাকিস্থানের ভাবমূর্তি ভালো নয়। আফগানিস্থানের আকাশসীমা লঙ্ঘন ও ইরানের সীমান্ত প্রাচীর দিয়ে ঘিরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্থান নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ দুই দেশ। তাই ভারত-আফগানিস্থান-ইরান জোট বাঁধলে পাকিস্থানের টেঁকা দায়।

পঞ্চমত, পাকিস্থানের আর্থিক অবস্থা অনেকটাই শোচনীয়। পাকিস্থান ইন্টারন্যাশানাল মনিটরি ফান্ডের কাছ থেকে চাওয়া ঋণ এখনও আইনি জটিলতায় আটকে। তাই ভারতের ওপর হামলা করতে গিয়ে আর্থিক দিক পাকিস্থানকে সাথ দেবে না। আর যুদ্ধের খরচ বহন করাটাও পাকিস্থানের কাছে খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।

Related Articles