ভারতের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য, ভারতের কাছেই এক হাজার কোটি টাকার সাহায্য চাইল পাকিস্তান

মাই ইন্ডিয়া ডেস্ক: আমরা সবাই জানি নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই ভারত পাকিস্তান একটু আধটু থাকা বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে শত্রুতায় পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের কাছে ভারত এখন আর কোনো সমস্যা না। এখন ওদের সমস্যা হল ভারতের ক্ষমতায় থাকা শাসক দল বিজেপি এবং ঐ শাসক দলের নেতৃত্বে থাকা নরেন্দ্র মোদী। পাকিস্তানের অভিযোগ অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানে নানারকম সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কখনো টমেটোর দাম ৩০০ টাকা পার করছে তো, কখনো সোনার দাম বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা প্রতি দশ গ্রাম হয়ে যাচ্ছে। এমনকি পাকিস্তানে দারিদ্রতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার জন্যও নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপিকেই দায়ী করেছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান।

এরপর উরির হামলা বদলা নেওয়ার জন্য ভারতীয় সেনা সীমান্ত পার করে পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গিদের খতম করে আসার ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করেছিল পাকিস্তান। তারপর ২০১৯ এর ১৪ই ফেব্রুয়ারি জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ঢুকে ভারতীয় সেনার উপর আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে ভারতের ৪০ জওয়ানকে শহীদ বানিয়ে দেয়। এই ঘটনার ১৩ দিন পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে ভারতীয় সেনার ১২ টি যুদ্ধ বিমান (মিরাজ ২০০০) ঢুকে ধ্বংস লীলা চালায়। ভেঙে দেওয়া হয় পাক জঙ্গিদের ঘাঁটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় সেনার ওই এয়ার স্ট্রাইকে পাকিস্তানের ৩০০ জঙ্গি খতম হয়।

ভারতের এই হামলার পর প্রায় তিনমাস বালাকোট এরিয়াকে জনগণ এবং মিডিয়ার জন্য নিষিদ্ধ পল্লী ঘোষণা করে রেখেছিল পাকিস্তান। ওই তিনমাস বালাকোটে কাউকেই ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, ভারতের ভয়ে নিজেদের বায়ু সীমাও বন্ধ রেখেছিল পাকিস্তান। তাঁদের ভয় একটাই ছিল, বায়ু সীমা খুললেই ভারত আবার পাকিস্তানে হামলা চালাবে। অবশেষে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে বায়ু সীমা খুলে দেয় পাকিস্তান।

এত কিছু ঘটে যাওয়ার পর জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করে ভারত সরকার। ভারতের এই সিদ্ধান্তের পর উন্মাদ পাকিস্তান এবং সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশ বিদেশে ভারতের বিরুদ্ধে সমর্থন খুঁজতে থাকে। কিন্তু কেউ পাকিস্তানের ডাকে সারা দেয়না। এরপর পাকিস্তানের রেল মন্ত্রী শেখ রাশিদ ভারতকে পরমাণু হামলার হুমকি দেন। শুধু পাক রেলমন্ত্রীই না, পাক প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ভারতকে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়ে বসেন।

আরেকদিকে ভারত স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ওসব কোনো হুমকি ভারতের বিরুদ্ধে আর কাজে লাগছেনা। আরেকদিকে পাক রেলমন্ত্রী শেখ রাশিদ ভারত পাক যুদ্ধের আগামী ভবিষ্যৎ বাণী করে বসেছেন। তিনি জানান, সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যেই ভারতের সাথে ভয়ানক যুদ্ধ করতে চলেছে পাকিস্তান। পাক মিডিয়া এবং প্রতিরক্ষা সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাছে এখন মাত্র ২-৩ দিনের গোলা বারুদ মজুত আছে। পাকিস্তান যেসমস্ত ট্যাঙ্ক সীমান্তে মোতায়েন করেছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই গুলি শূন্য! শুধুমাত্র ভারতকে ভয় দেখাতেই তারা বিনা গুলির ট্যাঙ্ক সীমান্তে মোতায়েন করছে।

আরেকদিকে পাক সংবাদমাধ্যম ‘ বাহার-এ-পাকিস্তান ” এ লেখা হয়েছে যে, যেহেতু ভারতের কারণে পাকিস্তানের অর্থ ব্যবস্থা রাস্তায় বসেছে। জিনিসের দাম প্রতিদিন হু-হু করে বেড়েই চলেছে। এমনকি সীমান্তে ভারতের বিরুদ্ধে অনেক গোলা-গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই পাকিস্তান এই মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত না! ওই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভারতের থেকে ১ হাজার কোটি টাকার সাহায্য নেওয়া উচিৎ। এই আর্থিক সাহায্যের ফলে পাকিস্তানের অর্থ ব্যবস্থা যেমন মজবুত হবে, তেমনই প্রতিরক্ষা খাতে ইনভেস্ট করে অস্ত্র-শস্ত্র এবং গোলা-বারুদ কেনা সম্ভব হবে। আর সেই গোলা বারুদ ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান।

Related Articles