ভারতীয় সেনার দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে ভারতের হাতে ফেরৎ দিয়েছিল পাকিস্তান।

পাকিস্তানের হাতে বন্দি হয়েও দেশে ফিরেছেন অভিনন্দন বর্তমান। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে দিয়েছে ভারতের চিরশত্রু দেশ পাকিস্তান। বলা ভালো ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। ক্রমাগত কূটনীতির চাপে পড়ে এবং যুদ্ধে পেরে না ওঠার ভয়ে অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কার্গিল যুদ্ধের সময়েও এরকমই এক বীর সন্তান দেশের হয়ে লড়াই করতে গিয়েছিলেন। তিনিও ভারত মাতার কোলে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু জীবিত অবস্থায় নয়। পাকিস্তানের অত্যাচারে ছিন্নভিন্ন হয়ে কফিনবন্দি হয়ে ফিরেছিলেন তিনি। জেনেভা চুক্তিকে লঙ্ঘন করে পাক সেনাদের হাতে প্রৃত হয়েছিলেন সেই বীর শহিদ জওয়ান। নাম তাঁর সৌরভ কালিয়া। পিছনে ফিরে ঠিক কুড়ি বছর আগে তাকালে মনে পড়ে যায় সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের কার্গিল যুদ্ধের সময় দেশের হয়ে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন সৌরভ কালিয়া সহ একাধিক জওয়ান।

বাইশ বছরের সৌরভ কালিয়া তখন কার্গিলের কাঁকসরে কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলেন। জায়গাটির নাম বজরঙ্গ পোস্ট। ঠিক যেখানে অভিনন্দন পাকিস্তানি জেট ফাইটার এফ-১৬ কে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেখানেই ১৯৯৯ সালের ১৫ ই মে সৌরভ দেখতে পান পাক সেনারা সামীন্ত পেরিয়ে প্রবেশ করছে। তখনই সোখানে সেনা জওয়ানদের দল নিয়ে পৌঁছান সৌরভ কালিয়ে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সৌরভদের দলের বেশ লড়াই হয়। আর লড়াইয়ে না পেরে উঠে সৌরভ সহ চার জওয়ান পাকিস্তানের হাতে বন্দি হন। আর সেখানেই পাকিস্তানের অমানবিক অত্যাচারের শিকার হন তাঁরা। জেনেভা চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশের বন্দিদের শারীরিক বা মানসিক অত্যাচার করা যায় না। কিন্তু সেই জেনেভা চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সৌরভ ও তাঁর সহচরদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালায় পাকিস্তানি সেনারা। সেদিন ভারতের মাটি হয়ে উঠেছিল রক্তে রাঙা। দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হয়েছিলেন সৌরভরা।

পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম জুড়ে তখন শুধুই ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেনকে বন্দি করার খবর প্রচারিত হচ্ছে। আর ভারত উত্কন্ঠায় দিন গুণছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সাহায্যে গেরিলা বাহিনীর ভারতের সীমান্তে পৌঁছানোর খবর পেয়ে অন্য ভারতীয় সেনার দল সেখানে পৌঁছালেও সৌরভরা তখন বন্দি হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানিদের হাতে। তাঁদের আর কোনো খবরই পায়নি ভারত। এরপর প্রায় একুশ দিন পর পাকিস্তান সৌরভদের দেহ ফিরিয়ে দেয় ভারতের হাতে। দেশে ফিরে ময়নাতদন্ত করে জানা যায় তাঁদের দেহে একাধিক সিগারেটের দাগ সহ লোহার রড দিয়ে আঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঠোঁট, যৌনাঙ্গ ও অন্যান্য জায়গায় আঘাত করা হয়েছে। বেশ কিছু জায়গা কেটে টুকরোও করা হয়েছিল। তারপর গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। জীবন্ত অবস্থায় সৌরভদের ওপরে পাকিস্তানিদের অত্যাচার আজও ভোলেনি ভারত।

সৌরভের শহিদ হওয়ার প্রয় কুড়ি বছর পর পাকিস্তানিদের হাতে অভিনন্দন বন্দি হওয়ার পরে ভারতবাসী আশা করেছিল এরকমই হয়তো কিছু একটা হতে চলেছে। অভিনন্দন হয়তো আর দেশের মাটিতে ফিরে আসবে না। কিন্তু সেসব ভাবনা যদিও মিথ্যে বলেই প্রমানিত হয়েছে। বীরত্বের সঙ্গে অভিনন্দন আজ ভারতে ফিরেছেন।