ভয়ংকর তথ্য ফাঁস হল, বিজেপিতে যোগদানের জন্য ফোন গিয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমের কাছেও।

লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রমরমিয়ে চলছে দল বদলের পালা।  রাজ্যের শাসক দল ছেড়ে বিজেপি শিবিরে যোগ দিচ্ছেন একে একে তৃণমূল নেতারা। ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষনার আগেই বিজেপির পাল্লা বেশ ভারী হয়ে যাচ্ছে।  শুধু এরাজ্যই নয় কর্ণাটক সহ একাধিক রাজ্য থেকে সাংসদরাও দল বদল করে বিজেপিতে নাম লেখাচ্ছেন।  আর তা নিয়ে বেশ ক্ষোভে রয়েছে বিপক্ষ শিবির। পাশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। এ নিয়ে প্রায়ই প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের। বেশ কয়েকদিন আগে নাম না করে এক সময়ের প্রিয় সাথী মুকুল রায়ের বিরুদ্ধেই দল ভাঙানোর অভিযোগ এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার সেই রহস্য ফাঁস করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

তিনি নিজে মুখেই স্বীকার করলেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ ফিরহাদ হাকিম ও অন্যান্য তৃণমূল মন্ত্রীদেরও বিজেপিতে যোগদানের জন্য ফোন করেছিলেন তিনি। মুকুলের এই স্বীকারোক্তির পরই কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূলের অন্দরমহল। সোমবার মুরলীধর স্ট্রীটে একটি সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্য বিজেপি নেতা মুকুল রায় জানিয়েছেন তিনি নিজেই অনেক তৃণমূল নেতাদের ফোন করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এতে কোনো সমস্যা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  পাশাপাশি, যেকোনো মানুষই নিজের রাজনৈতিক দলে যে কাউকে ডাকতে পারেন এটা কোনো অপরাধ নয় বলেও জানান তিনি। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক তৃণমূল হেভিয়েট নেতামন্ত্রীদের ফোন করে ডাকার প্রসঙ্গও এনেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি তে যোগ দিয়েছেন এমন নেতাদের সংখ্যা কম নয়।

মাত্র দুমাস আগে তৃণমূল সাংসদ পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা সৌমিত্র খাঁ।  তালিকা থেকে বাদ যাননি শঙ্কুদেব পন্ডা সহ একাধিক ব্যক্তিত্ব। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতা মুকুল রায় দাবি করেছেন যে ভুয়ো মামলার ভয়ে বিজেপিতে অনেক নেতা নাম লেখাচ্ছেন না। এমনকি নিজের প্রসঙ্গও টেনে এনে তিনি জানান বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলেই তাঁর নামে এতগুলো মামলা রয়েছে। ধর্ষণ, খুন সহ একাধিক মামলায় তাঁকে জর্জড়িত করা হয়েছে বিজেপিতে নাম লেখানোর পরই। তবে তাতে তাঁর কিছুই আসে যায় না বলেও জানিয়েছেন। অন্যদিকে লোকসভা নির্বাচনের ফল নিয়েও তিনি আশাবাদী বলে জানা গিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ভাঙন দেখার অপেক্ষাতেই রয়েছেন মুকুল রায়।

তবে এই সবকিছু নিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতি যে বেশ উত্তেজিত হয়ে রয়েছে সেটা বলাই বাহুল্য। এখন দেখা যাক আর কোন কোন শাসক দলের বড় বড় নেতা মন্ত্রী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন এবং বাংলায় বিজেপির পাল্লা ভারী হয়।

Related Articles